kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গাইতে পারেন তাঁরাও

রুবেল হোসেন, ওয়ালী ফয়সাল, মেহরাব হোসেন জুনিয়র, আবুল হাসান রাজু—সবাই খেলোয়াড়। তবে গাইতেও পারেন। খেলার ফাঁকে, অবসরে, আড্ডায় গান করে নিজেরা আনন্দ পান, বন্ধুদের আনন্দ দেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



গাইতে পারেন তাঁরাও

রুবেল হোসেন

ইচ্ছা হলেই গাই

বন্ধুদের শোনাই

রুবেল হোসেন, ক্রিকেটার

গতির ঝড়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের নাকানি-চুবানি খাওয়ানোই রুবেল হোসেনের কাজ। তবে তাঁর গান গাওয়ার মেধাও কম নয়।

ছোটবেলা থেকেই গান গাওয়ার শখ। সেটা ছড়িয়ে গেছে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম, হোটেল-টিম বাস পর্যন্ত। একবার খুলনা ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। সেখানে হঠাৎ করেই মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বলে ওঠেন, ‘আমাদের মধ্যেও একজন সিঙ্গার আছে। আমরা তার গান শুনতে চাই। ’ সে অনুষ্ঠানে রুবেলের গান বেশ এনজয় করেন উপস্থিত সবাই। টিভি অনুষ্ঠানেও শোনা গেছে তাঁর কণ্ঠ। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা-গল্পে প্রায়ই গেয়ে ওঠেন খুলনার এই তরুণ। গানে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, তবে আইয়ুব বাচ্চুর গানের ভক্ত। বাচ্চুর ‘এখন অনেক রাত’, ‘সেই তুমি’ গাইতে পছন্দ করেন। বাচ্চুর অনেক গানই তাঁর মুখস্থ। তবে পছন্দ হলে নবীন শিল্পীদের গানও কণ্ঠে তোলেন।  

রুবেল বলেন, ‘আমি গানপাগল। এটা আমার শখ। ইচ্ছে হলেই গাই, বন্ধুদের শোনাই। রিয়াদ ভাই, মুশফিক ভাই, নাসির, শফিউলসহ জাতীয় দলের অনেকেই আমার গান পছন্দ করেন। ’

বাসায় গান শোনার ভালো ব্যবস্থা রেখেছেন। ‘কিছুদিন আগে কারাওকে নিয়েছি। এখন ইচ্ছা হলেই কারাওকের সঙ্গে গাওয়া শুরু করি। গাওয়ার মধ্যে যে আনন্দ সেটা আর কিছুতে আছে বলে আমার জানা নেই!’

 

কষ্টের গান আমাকে বেশি টানে

ওয়ালী ফয়সাল, ফুটবলার

মাত্র ছয় বছর বয়সে মাকে হারান জাতীয় ফুটবল দলের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা ওয়ালী ফয়সাল। মা গান করতেন। মাকে হারানোর শোক ভুলতে গানে ঝুঁকে পড়েন ছেলেও। পছন্দের যেকোনো গান আপন মনে গেয়ে ওঠেন। একসময় ওয়ালীর এই গুণটির কথা জেনে যান ক্লাব ও জাতীয় দলের ফুটবলাররা। গান শোনার ইচ্ছা হলে কিংবা খুশির কোনো উপলক্ষ এলে সবাই ওয়ালীর কাছে ছুটে যান। ওয়ালী সবার অনুরোধ রক্ষার চেষ্টা করেন। ‘গান শুনিয়ে সবাইকে আনন্দ দিই, হাসিখুশি রাখি। এটা আমার কাছে ভালো লাগে’, বললেন ওয়ালী।

‘বড় সাধ জাগে একবার তোমায় দেখি’ গানটি ওয়ালীর মা খুব পছন্দ করতেন। তাই এ গানটিই বেশি গাইতে ভালোবাসেন। ‘কথা বলো না বলো ওগো বন্ধু’, ‘আমি কেমন করে পত্র লিখিরে বন্ধু’ গাইতেও পছন্দ করেন। হিন্দি, অ্যারাবিয়ান এবং অনেক ইংরেজি গান তাঁর মুখস্থ।

ওয়ালী বলেন, ‘পুরনো দিনের গান গাইতে বেশি ভালো লাগে। কষ্টের গান আমাকে বেশি টানে। ’

 

গায়ক হওয়ার স্বপ্নই দেখতাম

মেহরাব হোসেন জুনিয়র, ক্রিকেটার

স্কুলবন্ধু মুসান্না এবং ক্লোজআপ ওয়ান খ্যাত মেহরাবকে দেখে গানের প্রতি আগ্রহ জন্মে মেহরাব হোসেন জুনিয়রের। গিটার কিনেছেন। শিখেছেন তারেক তুগরিলের কাছে। অল্প সময়ে বাজানোও শিখে যান। ক্রিকেটের পাশাপাশি গান নিয়েও স্বপ্ন দেখতে থাকেন। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান জাতীয় দলে যত দিন খেলেছেন হোটেল, ড্রেসিংরুম মাতিয়ে রেখেছেন গান দিয়ে। ম্যাচ জেতার পরই গান ধরতেন। অন্যরাও তাল মেলাতেন। মেহরাবের গানের অনেক বড় ভক্ত খালেদ মাহমুদ সুজন। এখনো মেহরাবের সঙ্গে দেখা হলেই গান শোনানোর অনুরোধ করেন। মাশরাফি, মুশফিকসহ বাংলাদেশ দলের আরো অনেক ক্রিকেটারই মেহরাবের গান পছন্দ করেন। রানান কিটিংয়ের ‘হোয়েন ইউ সে নাথিং অ্যাট অল’ গানটি জীবনে সবচেয়ে বেশিবার গেয়েছেন বলে দাবি তাঁর। এরপর আছে অর্ণবের ‘সে যে বসে আছে’ এবং ‘তোমার জন্য নীলচে তারা’। এড শিরানের গানও তাঁর খুব পছন্দ।

মেহরাব বলেন, ‘একসময় গায়ক হওয়ার স্বপ্নই দেখতাম। গানের প্রতি ভালোবাসাটা সব সময়ই থাকবে। ’ গান লেখা এবং সুর-সংগীত করতে জানেন ধারাভাষ্যকার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই ক্রিকেটার। ২০০৬ সালে নিজের কথা, সুর-সংগীতে ‘কখনো কি তুমি’ শিরোনামের একটি গান রেকর্ড করেন। ভবিষ্যতেও গান রেকর্ড করার ইচ্ছে তাঁর। সেগুলো প্রকাশ করার জন্য নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলও খুলতে চান।  

 

নিজের গান প্রকাশের ইচ্ছা

আবুল হাসান রাজু, ক্রিকেটার

২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক পেসার আবুল হাসান রাজুর। প্রথম ম্যাচেই ১০ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বিশ্বরেকর্ড করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন গোটা বিশ্বকে। সিলেটে জন্ম নেওয়া এই অলরাউন্ডার গায়ক হিসেবেও পরিচিত টিমমেটদের কাছে। দলের কোনো বিজয়ে, হোটেল কিংবা মাঠের আড্ডায়, টিম বাসে রাজুর গানে মুগ্ধ হন অন্যরা। অনেকেই তাঁর কাছে গান শোনানোর অনুরোধ করেন। বিষয়টি বেশ এনজয় করেন রাজু। গাওয়ার পাশাপাশি পাতা দিয়ে বানানো বাঁশিও বাজাতে পারেন। রাজু বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই গান গাওয়ার শখ। ক্রিকেট নিয়ে পড়ে থাকলেও হৃদয়ে লালন করি গান। নিজের পছন্দের জনপ্রিয় গানগুলো গাইতে খুব ভালো লাগে। প্রশংসা পেলে আনন্দ পাই। মাশরাফি ভাই এবং সাকিব ভাইও আমার গান পছন্দ করেন। তাঁদের অনুরোধে গাড়িতে, হোটেলে কয়েকবার গেয়েছি। তাঁরাও আমার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন, মজা করেছেন। এটা অন্য রকম এক অনুভূতি। ’

বাংলা আধুনিক গানের পাশাপাশি রবীন্দ্রসংগীত শুনতে ভালোবাসেন রাজু। হিন্দি গানও শোনেন। তাঁর প্রিয় শিল্পী হাবিব ওয়াহিদ ও অরিজিৎ সিং। তবে নতুন কোনো শিল্পীর গানও যদি মনে ধরে যায় গুনগুন করেন। রাজু জানান, সিলেটের এক চা বাগানকর্মীর কাছ থেকে পাতার বাঁশি বাজানোটা শিখেছেন। অবসরে রাজুর সবচেয়ে বড় বিনোদন গান এবং পাতার বাঁশি। সময়-সুযোগ বুঝে নিজের কণ্ঠে একটি গান প্রকাশ করার ইচ্ছা তাঁর।


মন্তব্য