kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঈদুল আজহা নিয়ে গান কই

কোরবানির ঈদ নিয়ে কোনো জনপ্রিয় গান সৃষ্টি হয়নি এখনো। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, মুন্শী ওয়াদুদ ও লিটন অধিকারী রিন্টু। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ঈদুল আজহা নিয়ে গান কই

রোজার ঈদকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিই

গাজী মাজহারুল আনোয়ার

রোজার ঈদ নিয়ে যেমন ‘রজমানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ আছে, কোরবানির ঈদ নিয়ে এ ধরনের কোনো গান নেই। থাকলেও সেটা জনপ্রিয়তা পায়নি।

এর পেছনের রহস্য আমার জানা নেই। তবে এটা ঠিক, কোরবানির তুলনায় রোজার ঈদকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিই, সেটা একটা কারণ হতে পারে। এই ঈদ ধনী-গরিবকে এক ধরনের প্রতিযোগিতার মুখোমুখি করে দেয়। সেটাও একটা কারণ হতে পারে। ধর্মীয় বিধানে যদি সমস্যা না থাকে তাহলে কোরবানির ঈদ নিয়ে বিশেষ গান হতে পারে বলে আমি মনে করি। যে গান মানুষের মনকে আন্দোলিত করবে, চাঁদরাত থেকে সবার ঘরে ঘরে বাজবে।

 

আমরা চেষ্টা করতে পারি

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল

কোরবানির ঈদ নিয়ে গান হয় না, এটা ভুল। মাহবুব এ খালেদের কথায় তিনটি গান করেছি আমি। এর মধ্যে দুটি খালেদ ভাইয়ের অনলাইন সার্ভারে প্রকাশ করা হয়েছে। ‘রজমানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ গানটি নজরুলের অনবদ্য সৃষ্টি। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার মনকে এক সুতায় গেঁথে ফেলে। এক মাস রোজা রাখার পর গানটি শুনলে যে প্রশান্তি আসে তা বলে বোঝানো যাবে না। ওই গানের মতো গান করার মেধা বা যোগ্যতা আমাদের আছে বলে মনে করি না। তবে গানটিকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে আমরা চেষ্টা করতে পারি। কোরবানি নিয়েও যদি রোজার ঈদের মতো এমন জনপ্রিয় গান সৃষ্টি হয়, সেটা দেশীয় সংগীতের জন্য ভালোই হবে।

 

নির্দিষ্ট দিন ছাড়া অন্য সময় প্রচার করা হয় না

মুন্শী ওয়াদুদ

ঈদ উপলক্ষে একসময় রেডিওতে ‘ঈদের বিশেষ গীতিনকশা’ অনুষ্ঠান হতো। আধঘণ্টার এই অনুষ্ঠান সাজানো হতো ঈদের গান নিয়ে। আমি নিজেও ১৫টির মতো গান লিখেছি। এ ধরনের গানের সমস্যা হলো, নির্দিষ্ট দিন ছাড়া অন্য সময় প্রচার করা যায় না। ফলে মানুষের কাছে সেভাবে পৌঁছে না। তাই লেখার সময় এমন শব্দ ব্যবহার করতাম, যাতে পরেও প্রচার করা যায়। সে ক্ষেত্রে গানটি আবার সরাসরি ঈদের গান হয়ে ওঠে না। সেটা আরেক সমস্যা। এই যেমন কোরবানির ঈদে প্রচারিত আমার লেখা দুটি গান ‘আহা কি মিষ্টি মিষ্টি এ দিন’ (কণ্ঠ সাবিনা ইয়াসমিন, সুর খোন্দকার নূরুল আলম) এবং ‘আজ হৃদয় হলো কৃষ্ণচূড়ার সঙ্গী’ (কণ্ঠ মো. খুরশিদ আলম ও আবিদা সুলতানা, সুর খোন্দকার নূরুল আলম)।

 

এই গানগুলো মাত্র একবার প্রচারিত হয়

লিটন অধিকারী রিন্টু

দুই ঈদ সামনে রেখে প্রতিবারই এক বা একাধিক গান হয়। ১৬ বছর ধরে ছোটদের অনুষ্ঠান করি। সেখানেও ঈদ নিয়ে গান করি। কিন্তু এই গানগুলো মাত্র একবার প্রচারিত হয় বলে মানুষের কাছে যায় না। আমার মনে হয়, ঈদকে আমরা সামাজিক অনুষ্ঠান হিসেবেই বেশি মূল্যায়ন করি। মানে যতটা না আধুনিকতার দিক থেকে চিন্তা করি, ধর্মীয় দিক থেকে হয়তো ততটা চিন্তা করি না। তাই ঈদের গান, নাটক, চলচ্চিত্র—সব কিছুতে আধুনিকটাই বেশি উঠে আসে। ধর্মভিত্তিক অনুষ্ঠান হলে ঈদ নিয়ে গান তৈরির বিষয়টাও সামনে বেশি আসত, কোরবানির ঈদ নিয়ে আরো গান হতো।

 


মন্তব্য