kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ত্যাগেই জীবন

ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ। প্রিয় পশু কোরবানির মাধ্যমে এই শিক্ষা আরো দৃঢ় হয়। জীবনে সবাইকেই কমবেশি ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। শোবিজ তারকারা শুনিয়েছেন তাঁদের জীবনের ত্যাগের গল্প। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ত্যাগেই জীবন

ভালোবাসার জন্য ত্যাগ করতে প্রস্তুত

মেহজাবিন

বড় ত্যাগ করার মতো যথেষ্ট বয়স বা সাহস আমার এখনো হয়নি বলে মনে করি। ত্যাগ হলো একটা সিদ্ধান্ত।

এখনো এ রকম বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। রাস্তাঘাটে বা কর্মক্ষেত্রে মানুষকে ছোটখাটো সাহায্য করি। সেটাকে আমি ওই অর্থে ত্যাগ বলতে চাই না। চারপাশের মানুষদের ত্যাগ দেখে অবাক হই। তাদের স্যালুট জানাই। মানুষের ভালোবাসার জন্য আমি অনেক কিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত।   তবে আমার পরিবারের একটা ত্যাগের কথা সারা জীবন মনে থাকবে। আমার পুরো পরিবার দুবাই থাকত। সেখান থেকে তারা বাংলাদেশে স্থায়ী হয়েছে শুধু আমার ক্যারিয়ারের কথা ভেবে। আমার বোন এ দেশে লেখাপড়া করছে আমার কারণে। না হলে ওখানেই স্থায়ী হতো। তাদের জীবনমান হয়তো আরো ভালো হতো। এসব নিয়ে আমার পরিবার কোনোভাবেই অতৃপ্ত নয়। কিন্তু আমি বুঝি তারা কত বড় ত্যাগ করেছে আমার জন্য।

 

দেশের বাইরে পরিবারের ঈদ

কণা

গায়িকা হতে গিয়ে অনেক কিছু ত্যাগ করেছি। আমি মানুষের ভালোবাসা চাই। মানুষকে কথা দেওয়ার কারণে নানা সময় পরিবারের অনেক অনুষ্ঠান মিস করেছি। এ রকম ছোটখাটো ত্যাগ অনেক আছে। একটা ত্যাগের কথা বলা যায়। আমি সাধারণত পরিবারের বাইরে ঈদ করি না। ২০১২ সালে এক ঈদ বাহরাইনে করেছিলাম। মোটেও ইচ্ছা করছিল না। কিন্তু সেখানকার মানুষ এত আগ্রহ নিয়ে আপ্যায়ন করেছিল, না করতে পারিনি। মানুষের ভালোবাসার জন্যই এই ত্যাগ। অন্য কোনো কারণ হলে দেশের বাইরে পরিবার ছাড়া ঈদ করতে যেতাম না।

 

ঘড়িটা তাকে দিলাম

আমিন খান

ত্যাগের মহিমায় কোরবানি তো প্রতিবছরই পালন করি। মানুষকে টুকটাক সাহায্য করি। সে অর্থে বলতে গেলে এখনো প্রিয় কিছু ত্যাগ করতে পারিনি এই জীবনে। চাইলেই তো সব কিছু ত্যাগ করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় মানুষের জন্য কিছু করতে মন চায়। কিন্তু পারি না নানা বাধ্যবাধকতার কারণে। আবার ত্যাগ করেছি, এটাও বলা যায়! চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসা থেকে নিজের স্বাভাবিক জীবনটা ত্যাগ করেছি। অনেকেই মনে করেন, আমরা তারকা হয়ে খুব আরামে আছি। বাস্তবে কিন্তু তা নয়। ইচ্ছা হলেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুচকা খেতে পারি না। পরিবার নিয়ে সব সময় ঘুরতে যেতে পারি না। ছোট্ট একটা ত্যাগের কথা মনে আছে। তখন কলেজে পড়ি। আমার এক বন্ধু প্রেম করে বিয়ে করবে। ওই বয়সে ওর বিয়ে করার মতো টাকা ছিল না। আমার কাছে এলো সাহায্য চাইতে। আমি কী করব! আমার কাছেও টাকা নেই। আমার খুব পছন্দের একটা দেয়ালঘড়ি ছিল বাসায়। ঘড়িটা তাকে দিলাম। বললাম, ‘এটা বিক্রি করে দে। তোর প্রয়োজন কিছুটা হলেও মেটাতে পারবি। ’ পরে পরিবার থেকে এ জন্য গালমন্দ শুনতে হয়েছে। কিন্তু ওই বয়সে বন্ধুর জন্য কিছু করতে পেরে খুব ভালো লেগেছিল। ’


মন্তব্য