kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রিয়জনের জন্য গান

নিজের আপনজনকে নিয়ে বাঁধা প্রিয় কয়েকটি গানের গল্প শুনিয়েছেন বাপ্পা মজুমদার, আগুন, মমতাজ, আসিফ ও ন্যান্সি। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রিয়জনের জন্য গান

মায়ের জন্য বাপ্পা মজুমদারের গান

২০০৫ সালের কথা। নিজের আর মায়ের সম্পর্ক নিয়ে ‘বেঁচে থাকো আলোর প্লাবন’ শিরোনামে একটি গান করেন বাপ্পা মজুমদার।

ওটাই বাপ্পার জীবনের একমাত্র গান, যেটিতে তাঁর সুরে কণ্ঠ দিয়েছিলেন মা ইলা মজুমদার। বাপ্পা নিজেও গেয়েছিলেন। গানটির মুখ—‘বেঁচে থাকো আলোর প্লাবন/মেঘ মাদলে অঝোর শ্রাবণ/ভালোবাসার আঁচলে বাঁধন/বেঁচে থাকো সুরের প্লাবন’। লিখেছেন সঞ্জীব চৌধুরী। বাপ্পা মজুমদার বলেন, ‘আমার জীবনের সব গানের চেয়ে এটি আলাদা। গানটি করতে গিয়ে অন্য রকম এক ঘোরের মধ্যে ছিলাম। রেকর্ডিংয়ের শুরুতে মা খুব ভয়ে ছিলেন। ধীরে ধীরে উৎসাহ পান। রেকর্ডিং শেষে মায়ের চেহারা দেখেই বুঝেছিলাম, খুব খুশি হয়েছিলেন। ’

বাপ্পা আরো বলেন, ‘গানটির কথা মনে পড়লে খুব কষ্ট লাগে। মাকে হারিয়েছি। গানটির গীতিকার সঞ্জীব দাকে হারিয়েছি। এমন গান আর কখনো হবে না। গানটির সঙ্গে আমার অদ্ভুত একটা মায়া জড়িয়ে আছে। ’

গানটির ভিডিওর শুটিং হয়েছে রাজধানীর ইউটিসি ভবনে। ভিডিওটি ইউটিউবে প্রকাশ করা হয়েছে। সামনে নিজের কোনো অ্যালবামেও গানটি বের করার কথা জানান বাপ্পা।

 

 

বাবার জন্য মমতাজের গান

২০০৬ সালের ডিসেম্বরে মমতাজের বাবা মধু বয়াতি মারা যান। শাহ আলম সরকারকে দিয়ে বাবাকে নিয়ে একটি গান করার পরিকল্পনা করেন শোকাচ্ছন্ন শিল্পী। শাহ আলম সরকার লেখেন, ‘আমার বাবা আমার থেকে, মাত্র দেড় হাত দূরে থাকে, তবু আমি সেই বাবাকে একনজর না দেখতে পাই/ছোট ভাই, বাবার কাছে কেমন করে যাই/কেমন দেশে থাকে বাবা যাওয়ার কোনো রাস্তা নাই/ছোট ভাই, বাবার কাছে কেমন করে যাই’। সুরও দেন তিনি। গানটি প্রকাশিত হয় মমতাজের ‘দুই দিনের ভিসা’ অ্যালবামে। গানটির একটি ভিডিও করা হয়।

মমতাজ বলেন, ‘বাবাকে হারানোর বেদনা সারা জীবনই থেকে যাবে। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দরদ থেকেই গানটি করেছিলাম। গাওয়ার সময় বারবার চোখ ভিজে যাচ্ছিল। গায়কিতেও সে বিষয়টি ফুটে উঠেছে। ’

মমতাজ আরো বলেন, ‘গানটির ভিডিওতে ছোট্ট একটা ছেলে আমার ভাইয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিল। শুটিংয়ের সময় একবারও মনে হয়নি অভিনয় করছি। মনে হচ্ছিল, এটাই বাস্তব। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গানটির কথা মনে থাকবে। ’

 

 

স্ত্রীর জন্য আসিফের গান

২০০৪ সালের কথা। আসিফ আকবর তখন খুব অসুস্থ। ডেঙ্গুতে কাতরাচ্ছেন। একদিন আসিফকে দেখতে বাসায় যান কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী। কথার ফাঁকে আসিফের স্ত্রী মিতু তাঁদের উদ্দেশে বলেন, ‘সুস্থ আসিফ আপনাদের। অসুস্থ আসিফ আমার। সুস্থ হলে আবার আসিফকে আপনাদের মাঝে ফিরিয়ে দেব। ’ কথাটি বেশ নাড়া দেয় আসিফের মনে। শেয়ার করেন গীতিকার শফিক তুহিনের সঙ্গে। তুহিনকে বলেন মিতুকে নিয়ে একটি গানের কথা লিখতে। তুহিন লেখেন, ‘কোনো একদিন যদি চলে যাই তারাদের চেয়েও আরো দূরে/ভেবো না মিছে সেদিন তুমি, খুঁজে দেখো আছি আমি, চেনা কোনো গানের সুরে’। সুর করেন রাজেশ। ‘কোনো একদিন’ শিরোনামে গানটি প্রকাশিত হয় আসিফের ‘তবু ভালোবাসি’ অ্যালবামে। সে সময় গানটির একটি ভিডিওও করে সাউন্ডটেক।

আসিফ বলেন, ‘আমার সব সাফল্যের অংশীদার মিতু। আমার জীবনটা সে গুছিয়ে দিয়েছে। অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। তার প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ এই গান। ভক্ত-শ্রোতাদের পাশাপাশি গানটি আমাদেরও খুব পছন্দ। ’

 

 

ছেলের জন্য আগুনের গান

কয়েক মাস আগের ঘটনা। বাবার সঙ্গে রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে যায় আগুনের বড় ছেলে মিছিল। আগেও বিভিন্ন সময় বাবার সঙ্গে মান-অভিমান করলেও এমনটি করেনি সে। ছেলের এমন কাণ্ডে খুব কষ্ট পান আগুন। ছেলেকে নিয়ে লেখেন, ‘ও আমার সাদা ঘুড়ি উইড়া গেলো পবনে/ভাইবা মরি নাটাই ছাড়া যদি হারায় আসমানে’। সুরও করেন নিজে। সংগীতায়োজনে রেজওয়ান শেখ। এবার ঈদে সংগীতার ব্যানারে প্রকাশ পাবে আগুনের তিন গানের অ্যালবাম ‘কাচের দেয়াল’। সেই অ্যালবামে থাকবে গানটি।

আগুন বলেন, ‘মিছিল এখন ক্লাস নাইনে পড়ছে। এই বয়সের ছেলেরা একটু বেপরোয়া থাকে। কথা শুনতে চায় না, নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। কিছু বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে সে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। আমার বুকটা তখন ফেটে যাচ্ছিল। কষ্ট থেকেই ছেলেকে নিয়ে গানটি লিখেছি। ’

আগুন আরো জানান, তৈরি হওয়ার পর ঘরের সবাইকে গানটি শুনিয়েছেন। বাবার গান সচরাচর এতটা পছন্দ না করলেও এটি শুনে নাকি ১০-এ ৯ দিয়েছে মিছিল।

 

 

মায়ের জন্য ন্যান্সির গান

২০১২ সালে কথা। হঠাৎ করেই মারা যান ন্যান্সির মা। মাকে হারিয়ে খুব ভেঙে পড়েন এই গায়িকা। পরিকল্পনা করেন মাকে নিয়ে একটি গান বাঁধার। দায়িত্ব দেন শাকিলুর রহমান প্রিন্সকে। তিনি লেখেন, ‘হয় না এখন ভোরে ওঠা, হয় না আর সূর্য দেখা/স্কুলের টিফিন নষ্ট প্রতিদিন, মাগো তোমার বকাঝকা/বিছানা চাদর জড়িয়ে বুকে তোমার আদর খুঁজি/মুখটা তোমার দেখব বলে ক্লান্ত এ দু’চোখ বুজি’। সুরও দেন প্রিন্স। ‘মা’ শিরোনামের গানটি ইউটিউবে প্রকাশ করা হয়।

ন্যান্সি বলেন, ‘মা বেঁচে থাকতে অনেক গানে কণ্ঠ দিয়েছি, অথচ মাকে নিয়ে কোনো গান করতে পারিনি। এটা আমার অনেক বড় একটা আফসোস। হঠাৎ করে তিনি এভাবে চলে যাবেন ভাবিনি। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানো এবং তাঁর স্মৃতি ধরে রাখতেই গানটি করেছি; কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ছিল না। তাই ইউটিউব ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে গানটি প্রকাশ করিনি। ’

সময়-সুযোগ বুঝে গানটির একটি ভিডিও বানানোরও পরিকল্পনা আছে এই গায়িকার।

 


মন্তব্য