kalerkantho


কার ছবি কার হাতে

রহমানের বদলে রাজ্জাক

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রহমানের বদলে রাজ্জাক

পারিশ্রমিক, শিডিউল, চিত্রনাট্য, মান-অভিমান, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ—কত কারণেই না ছবি ছেড়ে দেন প্রতিষ্ঠিত নায়ক-নায়িকারা। সুযোগ পেয়ে যায় নতুন কেউ, খুলে যায় ভাগ্য, জন্ম নেয় নতুন কোনো তারকা। এমনই কিছু ছবি আর নায়ক-নায়িকার গল্প নিয়ে ধারাবাহিক এই আয়োজন। আজ থাকছে রহমানের জায়গায় সুযোগ পেয়ে রাজ্জাকের তারকা হওয়ার কথা

 

১৯৬৬ সালের শুরুর দিকের কথা। জহির রায়হান সিদ্ধান্ত নিলেন, হিন্দু পুরাণ মনসামঙ্গল কাব্যের বেহুলা-লখিন্দর উপাখ্যান নিয়ে ছবি নির্মাণ করবেন। চিত্রনাট্য তৈরির পর ভাবলেন, নতুন নায়ক নিয়ে ছবিটি করবেন। ইফতেখারুল আলম সে সময়ের বড় প্রযোজক। তাঁকে চিত্রনাট্য পড়ে শোনালেন। প্রযোজনা করার আগ্রহ প্রকাশ করলেন ইফতেখার। প্রথমেই চূড়ান্ত হলো নায়িকা। নাম ভূমিকায় অভিনয় করবেন সুচন্দা।

কিন্তু নায়ক? নতুন কাউকে নেওয়ার কথা ভাবলেও প্রযোজকের মতের বাইরে যেতে চাইলেন না জহির রায়হান। প্রযোজকের পছন্দ রহমান। রহমান তখন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে সমান জনপ্রিয়। নায়কের সঙ্গে দেখা করলেন জহির। গল্প শোনালেন। ছবির অর্ধেক অংশে নায়ককে ভেলায় শুয়ে থাকতে হবে শুনেই তিনি ‘না’ করে দিলেন। বললেন, পরে জহিরের অন্য কোনো ছবিতে অভিনয় করবেন, তবে ‘বেহুলা’ নয়।

বিপদে পড়লেন পরিচালক। কিছুদিন পরই শুটিং। এমন সময় নায়ক পাবেন কোথায়? হঠাৎ মনে পড়ল রাজ্জাকের কথা। অভিনেতা খলিল এবং ইফতেখারুল আলম নিজেও রাজ্জাককে পছন্দ করতেন। তাঁরাই একসময় রাজ্জাকের কথা বলেছিলেন জহির রায়হানকে। এফডিসিতে আসতে বললেন রাজ্জাককে। রাজ্জাক এলেন। অডিশন দিলেন। ক্যামেরা লুক টেস্ট করা হলো। রাজ্জাককে পছন্দ করলেন জহির রায়হান। তবে এ ছবিতে তাঁকে মানাবে কি না দ্বিধায় ছিলেন। দাড়ি শেভ না করে এক সপ্তাহ পর আবার দেখা করতে বললেন। রাজ্জাক ভাবলেন, হয়তো ছবিটা কপালে নেই। তবু পরিচালকের কথামতো শেভ করলেন না। এক সপ্তাহ পর খোঁচা খোঁচা দাড়ি নিয়ে দেখা করলেন। আবার লুক টেস্ট। জহির রায়হানকে এবার বেশ হাসিখুশি দেখা গেল। বললেন, শুটিং করা যেতে পারে। ছবিতে রাজ্জাকের অভিনয় প্রশংসিত হয়। ‘বেহুলা’র আগে ‘তেরো নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’, ‘কার বউ’, ‘ডাক বাবু’, ‘আখেরি স্টেশন’ ছবিতে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ‘বেহুলা’ দিয়েই রাতারাতি নায়ক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে গেলেন রাজ্জাক।

 

নায়ক রাজ্জাকের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ


মন্তব্য