kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পরীমণি-রোশান

মিষ্টি মেয়ে আর হ্যান্ডসাম বয়

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মিষ্টি মেয়ে আর হ্যান্ডসাম বয়

পরীমণি-রোশান

কলকাতার এক স্টুডিওতে দুজনের প্রথম দেখা। ‘রক্ত’র লুক টেস্ট চলছিল সেখানে।

পরী যখন স্টুডিওতে ঢুকলেন, রোশান তখন ক্যামেরার সামনে। পরীকে দেখে হেসে বললেন, ‘হাই’। পরীও সৌজন্য দেখিয়ে হাসলেন। তারপর  ডুয়েট ফটোশুট। দুপুরে খাওয়ার সময় আড্ডা হলো। একে অপরকে জানলেন। দুজনই আশ্বস্ত হলেন, একসঙ্গে কাজ করতে সমস্যা হবে না।

শুটিংয়ের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা বললেন রোশান, ‘শুরুতে অ্যাকশন দৃশ্য। পরী আর আমি একটা রেস্টুরেন্টে, সেখানে ভিলেনরা আক্রমণ করে। গোলাগুলি করে আমরা নিজেদের বাঁচাই। প্রথম দৃশ্যটা এক টেকে ওকে হয়। পরিচালকসহ সবাই হাততালি দিয়ে আমাকে উৎসাহ দেয়। শুটিংয়ের আগে প্রচণ্ড নার্ভাস ছিলাম। প্রথম দৃশ্য এক টেকে ওকে হওয়ার পর আমার কনফিডেন্স বেড়ে গেছে। ’

পরীর অভিজ্ঞতা কিন্তু ভয়াবহ। প্রথম দিকে অ্যাকশন দৃশ্য করতে গিয়ে বমি করেছেন কয়েকবার। পানিতে দাঁড়িয়ে, রোদে পুড়ে শুটিং করেছেন। একপর্যায়ে তো জ্বরেই পড়লেন। ১০১ ডিগ্রি জ্বর নিয়েও পরদিন যথাসময়ে শুটিং করেছেন। নদীর পানিতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় টানা ৯ ঘণ্টা ছিলেন। ‘অ্যাকশন দৃশ্যগুলো করতে পারব না বলেই ধরে নিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরেছি, বেশ ভালোভাবেই পেরেছি’—বললেন পরী।

রোশানের অ্যাকশন দৃশ্যগুলোও কম ঝুঁকির ছিল না। হাত-পা কেটে খুবই খারাপ অবস্থা। ছবির টিজারে দেখা যায়, জানালার গ্লাস ভেঙে লাফিয়ে পড়েন রোশান। কোনো রকমের ডামি ব্যবহার ছাড়াই দৃশ্যটি করেছেন।

পরী-রোশান এখন বেস্ট ফ্রেন্ড। দুজনের বোঝাপড়াটাও দারুণ। অভিনয়ে পরীর সাহায্যও পেয়েছেন রোশান। সারা রাত শুটিং হতো। শুটিংয়ের জন্য রাত জাগা পরীর পুরনো অভ্যাস। অন্যদিকে রাত ১টার মধ্যেই ঘুুমিয়ে পড়তেন রোশান। পরিচালক রোশানকে জাগিয়ে রাখার দায়িত্ব দিলেন পরীকে। আড্ডা দিয়ে তাঁর ঘুম তাড়াতেন পরী। পরে অবশ্য রোশানেরও অভ্যাস হয়ে গেছে।

অ্যাকশন দৃশ্য ঠিকঠাক করলেও রোমান্স করতে গিয়ে ঝামেলা হয়েছে ভীষণ। পরীর ঘনিষ্ঠ হতে বললেই হেসে ফেলতেন রোশান। এ জন্য পরিচালকের কাছে বকাও কম খাননি। একটা দৃশ্যের কথা বললেন পরী, ‘ঠোঁটে চুমু খাওয়ার একটা দৃশ্য। লাইট-ক্যামেরা সব রেডি। সবাই স্পেশাল দৃশ্য দেখার জন্য অপেক্ষায়। ঠোঁটের কাছে এলে ওকে বললাম, তুমি কি সিগারেট খাও? পরিচালক চিৎকার করে বললেন, আরে ডায়ালগ দিচ্ছ কেন? চুমু খাও। হা হা হা। ’ পরীর মুখে এ কথা শুনে লজ্জায় লাল রোশান। এ নিয়ে মুখ খুলতে চাইলেন না। শুধু বললেন, ‘দর্শকই বিচার করুক আমি কতটা রোমান্স করতে পেরেছি। ’

টিজারে রোশানের কণ্ঠের প্রশংসা করেছেন অনেকেই। শুটিংয়ের সময় একটু উচ্চ স্বরে কথা বললেই সবাই বলত, এ তো অমিতাভ বচ্চনের কণ্ঠ! সবার আগে রোশানের কণ্ঠের প্রশংসা করেন সিনেমায় ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করা অমিত হাসান।

পরী সম্পর্কে রোশানের মন্তব্য—‘ও এতগুলো ছবির নায়িকা, কিন্তু আমার সঙ্গে কাজ করার সময় কখনোই সেটা বুঝতে দেয়নি। মেয়ে হিসেবে ভীষণ মিষ্টি। ’

আর রোশান সম্পর্কে পরী বলেন, ‘হ্যান্ডসাম বয়। অ্যাকশনে দুর্দান্ত। রোমান্সেও কম যায় না। ’


মন্তব্য