kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তাঁদের ভুতুড়ে অভিজ্ঞতা

ভুতুড়ে অভিজ্ঞতা হয়েছে, ভূতে বিশ্বাস করেন—এমন তারকাদের গল্প জানাচ্ছেন আনিকা জীনাত

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তাঁদের ভুতুড়ে অভিজ্ঞতা

বিপাশা বসু

বিপাশা বসুকে ইদানীং হরর ছবিতেই বেশি দেখা যায়। শুধু পর্দার সামনে নয়, পর্দার পেছনেও যে তিনি ভূতের ভয়ে কাবু হয়েছিলেন, সেটা কে জানত! ঘটনা বেশ আগের, ২০০০ সালের।

ঘটনাস্থল মুকেশ মিল। মুম্বাইয়ের কোলাবায় অবস্থিত এই লোকেশনে তিনি ‘গুনাহ’ ছবির কাজ করছিলেন। হঠাৎই কী হলো, কোনোভাবেই মনে করতে পারলেন না একটি দৃশ্যের সংলাপ। মনে হচ্ছিল, কেউ যেন বাধা দিচ্ছে। দমবন্ধ দমবন্ধ লাগছিল। কিন্তু সেখান থকে বের হওয়া মাত্রই সংলাপ মনে পড়ে গিয়েছিল! শুধু তিনিই নন, ছবির পরিচালকও অদ্ভুত নানা ঘটনার সাক্ষী ছিলেন। তাঁরা শুটিং শেষ করে চলে যাওয়ার ১০ দিনের মাথায় একটি টিভি সিরিয়ালের শুটিং শুরু হয় মুকেশ মিলে। সেই সিরিয়ালের এক অভিনেত্রী শুটিং শুরু হওয়া মাত্র পাগলের মতো আচরণ করা শুরু করে। এরপর হাসপাতালে নেওয়া হলে রহস্যজনকভাবে তিনি মারা যান। এই ঘটনার পর থেকেই বলিউডের অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীই মুকেশ মিল এড়িয়ে চলেন।

 

ইমরান হাশমি

ইমরান হাশমি একবার বন্ধুদের সঙ্গে মুম্বাইয়ের কাছাকাছি মাথেরান এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন। রাতে স্থানীয় হোটেলে থাকার সময় সবাই বিকট স্বরে চিত্কার শুনতে পান। ঘটনা কী দেখার জন্য সবাই বের হয়ে আবিষ্কার করেন, তাঁরা ছাড়া হোটেলটিতে আর কোনো অতিথি নেই! পুরো রাতই চিৎকার শুনতে পেয়েছিলেন তাঁরা।   কোনোমতে রাতটা পার করেই পড়িমরি করে দে ছুট।

 

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী

ঘটনাটি ঘটেছে পরিচালক সুপর্ণ ভার্মার সঙ্গে। এ ঘটনার পর থেকে নওয়াজও ভূতে বিশ্বাস করতে শুরু করেন। শুটিং চলার সময় সুপর্ণ  খেয়াল করলেন, নওয়াজের পেছনে থাকা একটি ফটো ফ্রেম সামান্য হেলে গেছে। তিনি পাত্তা দিলেন না। নওয়াজ অভিনয়ে মগ্ন। হঠাৎ করেই দেয়ালে ঝোলানো ফটো ফ্রেমটা বাতাসের ধাক্কা ছাড়াই নিচে পড়ে ভেঙে গেল। আশ্চর্য হয়ে তিনি দেখলেন, ফটো ফ্রেমটা যে পেরেক দিয়ে আটকানো ছিল তা শক্তভাবেই দেয়ালে গেঁথে আছে। পুরো ঘটনা শুনে নওয়াজ তো হাঁ!

 

রণবীর সিং

ভূত বা প্রেতাত্মায় তাঁর বিশ্বাস নেই। কিন্তু ঘটনাটি যে তিনি নিজের চোখে দেখেছেন। ‘কিচ্ছু না’ বলে কিভাবে উড়িয়ে দেবেন? ব্যাপারটি হয়েছে ‘বাজিরাও মাস্তানি’র সেটে। শুটিং চলার সময় প্রায়ই তিনি অনুভব করতেন পেশওয়া বাজিরাওয়ের [ছবিতে তাঁর চরিত্র] অস্তিত্ব। একদিন ছবির সেটে দেখেন, দেয়ালে ধুলোর আস্তরণ পড়ে আসল বাজিরাওয়ের প্রতিকৃতিতে রূপ নিচ্ছে। রণবীর বলেছেন, সেই প্রতিকৃতিতে বাজিরাওয়ের হাত, নাক, চোখ, পাগড়ি ও গোঁফ ছিল।

 

জেসিকা অ্যালবা

অভিনেত্রী জেসিকা অ্যালবাও ভূতে বিশ্বাসী। তখন তাঁর বয়স ১৭। জেসিকা নিজের ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। আচমকা অশুভ কোনো শক্তি তাঁর বিছানার চাদর তুলে ফেলে। ভয় পেয়ে চিৎকার করতে যাবেন, কিন্তু গলা দিয়ে আওয়াজও বের হচ্ছিল না। বিছানা থেকেও উঠতে পারছিলেন না। অনুভব করেন, প্রচণ্ড চাপ দিয়ে কেউ তাঁকে বিছানায় আটকে রাখতে চাইছে।

যখন ছাড়া পেলেন, আর্তনাদ করতে করতে ঢুকলেন মা-বাবার ঘরে। এ ঘটনার পর তাঁরা কিছু সুগন্ধি পাতা আর জিনিস পুড়িয়ে এই সমস্যা থেকে রেহাই পেয়েছিলেন।

 

কেট হাডসন

এই অভিনেত্রী নাকি তাঁর মায়ের লন্ডনের বাসায় অনেকবার ভূত দেখেছেন। বারবার ভূত দেখার কারণে তিনি এখন রীতিমতো ভূত বিশেষজ্ঞ। তাঁর কথা হলো, ভূত বা প্রেতাত্মা ঠিক দেখার কোনো বিষয় নয়। শুধু অস্তিত্বটুকুই অনুভব করা যায়। তাঁর নাকি একবার এমন এক মহিলার অবয়ব দেখার দুর্ভাগ্য হয়েছিল, যার কোনো মুখমণ্ডল ছিল না। এখানেই শেষ নয়, তাঁর মৃত দাদির আত্মাও নাকি প্রায়ই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসে!

 

ডেমি লোভাটো

এই গায়িকার টেক্সাসে একটি বাড়ি আছে, ভুতুড়ে বলে যার খুব বদনাম। ভূতটি ১১ কি ১২ বছরের একটি মেয়ের। নাম এমিলি। যারাই ভূত তাড়াতে তাঁর বাসায় এসেছিল, তারাই এ নাম বলেছে। “ছোটবেলায় মা আমাকে জিজ্ঞেস করতেন, ‘কার সঙ্গে খেললে?’ বলতাম এমিলির সঙ্গে। আমার খুব ভালো বন্ধু,” বলেন লোভাটো।


মন্তব্য