kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পর্দায় বাস্তবের জুটি

আগামীকাল মুক্তি পাবে রোমান্টিক ছবি ‘দ্য লাইট বিটুইন ওশানস’, যেখানে অভিনয় করেছেন বাস্তবের প্রেমিক জুটি মাইকেল ফাসবেন্ডার ও অ্যালিসিয়া ভিকান্দার। তাঁদের প্রেমের গল্প জানাচ্ছেন নাবীল অনুসূর্য

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পর্দায় বাস্তবের জুটি

ফিসফাস চলছিল কয়েক মাস ধরেই। কিন্তু প্রশ্ন করলেই তাঁরা এমন ভাব করতেন, যেন ‘প্রেম’ জিনিসটার নাম এই প্রথম শুনছেন।

কিন্তু ছবি মুক্তির আগে আর চেপে রাখতে পারেননি। পারেননি তো পারেনইনি, প্রথম দেখা থেকে প্রেম—খোলামেলা সবই বলেছেন মাইকেল ফাসবেন্ডার আর অ্যালিসিয়া ভিকান্দার।

প্রথম দেখা ২০১৪ সালের টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে। প্রথম দেখাতেই উত্সবের ডান্স ফ্লোরে ভিকান্দারের আমন্ত্রণে নাচতে যান ফাসবেন্ডার। সেই ঘটনাটা যে দুজনের মনেই বেশ ভালোভাবে দাগ কেটেছিল, ঘটনাটার বর্ণনায় দুজনের উত্সাহতেই সেটা বোঝা যায়। বিশেষত, এর আগে অন্তত আরো আধা ডজন তারকার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো ফাসবেন্ডারের বর্ণনা তো রীতিমতো আবেগে ভরা, ‘সেদিন ওর সঙ্গে নাচার আগে ভাবতাম, আমি ভালোই নাচতে পারি। কিন্তু ও যখন আমার সঙ্গে নাচতে শুরু করল, শুধুই মনে হচ্ছিল, ওর কাছে আমি কিছুই না। ’

ডান্স ফ্লোর থেকে তাঁদের গল্পটা শেষতক কত দূর এগোত, কে জানে! কিন্তু গল্পের পূর্ণতার ব্যবস্থা করে দেন ‘দ্য লাইট বিটুইন ওশানস’-এর কাস্টিং ডিরেক্টররা। নায়ক টম শেরবোর্নের চরিত্রে মাইকেল ফাসবেন্ডারকে পছন্দ করেন পরিচালক ডেরেক সিয়ানফ্রান্স। তার আগেই নায়িকা ইসাবেল গ্রেসমার্ক চরিত্রের জন্য কাস্টিং ডিরেক্টরদের তিনি বেছে দিতে বলেন এমন একজন অভিনেত্রীকে, যাঁর মধ্যে মিশেল থাকবে ‘গন উইথ দ্য উইন্ড’-এর ভিভিয়ান লেই, ‘আ ওম্যান আন্ডার দ্য ইনফ্লুয়েন্স’-এর জিনা রোল্যান্ডস এবং ‘ব্রেকিং দ্য ওয়েভস’-এর এমিলি ওয়াটসনের। আর এমন চাহিদাপত্রের বিপরীতে তারা যখন অ্যালিসিয়া ভিকান্দারকে বেছে নেয়, ডেরেকের মোটামুটি চক্ষু চড়কগাছ অবস্থা! ২০১৪ সালের জুন মাস। তখনো ‘এক্স মেশিনা’ মুক্তি পায়নি। ‘দ্য ড্যানিশ গার্ল’-এর শুটিং শুরু হয় আরো পরে। কাজেই ভিকান্দারকে তখন সিয়ানফ্রান্সের না চেনারই কথা।

অবশ্য কাস্টিং ডিরেক্টরদের কথা মেনে নেন ডেরেক। আর তাতে সিনেমার পর্দায় যেমন ফাসবেন্ডার-ভিকান্দারের রসায়ন জমে উঠেছে, জমে উঠেছে তাঁদের সত্যিকার প্রেমকাহিনীও। সিনেমাটির কাহিনী উনিশ শতকের বিশের দশকের প্রেক্ষাপটে। বাতিঘরে বাস করা এক দম্পতির গল্প। সেই বাতিঘরে শুটিং করতে করতেই তাদের প্রেম জমে ওঠে। লোকালয় থেকে দূরে বিরান সেই বাতিঘরে গিয়েই মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল ভিকান্দারের। কিন্তু ফাসবেন্ডারের সাহচর্যে দ্রুতই তা দূর হয়ে যায়। ওখানে থাকতে থাকতেই ফাসবেন্ডারের নাচের ‘দুর্বলতা’ দূর করে দেন ভিকান্দার। সিনেমাটিতে যে বাতিঘর দেখানো হয়েছে, সেটির অবস্থান নিউজিল্যান্ডের মার্লবোরোতে। সেখানে ভীষণ ঠাণ্ডা। সেই ঠাণ্ডা কাটাতেই প্রতিদিন সকালে ফাসবেন্ডার-ভিকান্দার খানিকটা নেচে নিতেন!

সিনেমাটির শুটিং শেষ হয়েছে বছরখানেকেরও বেশি আগে। এর মধ্যে ভিকান্দার অস্কার জিতেছেন। ফাসবেন্ডারের মতো তিনিও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নানা দেশের সিনেমায়। ফলে দুজনের জন্যই দুজনকে সময় দেওয়াটা কঠিন হয়ে উঠেছে। তার পরও তাঁদের প্রেম-খুনসুটির কমতি নেই। সময়-সুযোগ পেলেই দুজনে মিলে সার্ফিং করেন, মাছ ধরেন, বারবিকিউ করেন, কিংবা সারা রাত ধরে সিনেমা দেখেন। আর পর্দার প্রেম? উত্তর দিয়েছেন পরিচালক সিয়ানফ্রান্স, ‘মাইকেল পৃথিবীর সেরা হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন। আর অ্যালিসিয়া পাক্কা ঘোড়সওয়ার। ওরা একজন মোহাম্মদ আলী, আরেকজন সিবিস্কুট। স্বাভাবিকভাবেই ওদের যুগলবন্দি তো সবাইকে কুপোকাত করবেই। ’

‘দ্য লাইট বিটুইন ওশানস’ তৈরি হয়েছে এম এল স্টেডম্যানের লেখা একই নামের উপন্যাস থেকে।


মন্তব্য