kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মধুর সময়ে মধুবন্তী

কলকাতার গায়িকা মধুবন্তী বাগচী। প্লেব্যাক দিয়ে নাম করেছেন। অ্যালবামও করে থাকেন। কণ্ঠ দেন নজরুলের গানেও। ‘শিকারী’ ছবিতে তাঁর গাওয়া ‘আর কোনো কথা নেই বলে’ দুই বাংলায়ই এখন জনপ্রিয়। লিখেছেন মিজানুর রহমান

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মধুর সময়ে মধুবন্তী

 ‘গানবাজনা করছ করো, কিন্তু পড়াশোনাটা ভুলে যেয়ো না’—মায়ের এই উপদেশ মেনে চলেছেন। পড়াশোনায় সফল, গানের জগতে নামও কামিয়েছেন বেশ।

বলছি পশ্চিম বাংলার ছবির গানের জনপ্রিয় গায়িকা মধুবন্তী বাগচীর কথা। বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সঙ্গে সংগীত জড়িয়ে আছে। পূর্বপুরুষরাও সংগীত শিখেছেন। পেশা হিসেবে বেছে না নিলেও সংগীত আমাদের পরিবারেরই একটা অংশ। আর লেখাপড়া! সেটা তো করতেই হবে। মধ্যবিত্ত পরিবারে ছোটবেলা থেকে সংগীতকে পেশা হিসেবে নেওয়ার চিন্তা করার দুঃসাহস অনেক কম মানুষেরই হয়। আমারও ছিল না। তবে কখনো বিচ্যুত হইনি। ছোটবেলা থেকেই শিখেছি। যখন খুব ছোট ছিলাম, বাবার কাছে শিখেছি। এরপর বিদুষী শুভ্রা গুহর কাছে ক্লাসিক্যাল। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষার কারণে গান শেখায় মাঝে একটি ছেদ পড়লেও এখন তা নিয়মিত। ’

গানকে পেশা হিসেবে কখনো চিন্তা করেননি মধুবন্তী। শুরুতে ক্লাসিক্যাল শিখেছেন। কলেজজীবনে মাথায় জেঁকে বসে পশ্চিমা রক। নজরুলসংগীত তো আছেই। এসব মিলিয়ে গানের ক্ষেত্রে তেমন বাছবিচার করেননি কখনো। নিজের কণ্ঠটা প্লেব্যাক গায়িকার কণ্ঠ হিসেবে চিন্তা করেননি কভু। তাঁর মতে, ‘ক্লাসিক্যালের গলার সঙ্গে সাধারণত প্লেব্যাক যায় না। আর এখানে অনেক কিছু নির্ভর করে—গানগুলো কে বানাচ্ছেন, কে অভিনয় করছেন, গানের ধরন, মুহূর্ত—এমন অনেক কিছুর ওপর। ভালো গান পেলে গাইব, নইলে গাইব না। ’

প্লেব্যাকে তাঁর সর্বশেষ গান ‘শিকারী’ ছবির ‘আর কোনো কথা নেই বলে’। শুরুতে মধুবন্তী জানতেনই না যে এই গানে তাঁর সহশিল্পী অরিজিৎ সিং। জানতে পেরে চমকে যান। গানটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই শ্রোতাদের মুখে মুখে। এক মাস ধরে মির্চি বাংলা টপ চার্টে রাজত্ব করছে। বর্তমানে এটির অবস্থান ৪ নম্বরে। বাংলাদেশের শাকিব খানের সঙ্গে গানটিতে পারফর্ম করেছেন ওপার বাংলার শ্রাবন্তী। ইউটিউবে ২১ লাখেরও বেশিবার দেখা হয়েছে। গানটি লিখেছেন প্রসেন, সুর করেছেন ইন্দ্রদীপ দাসগুপ্ত।

মধুবন্তী বলেন, ‘এই গানের পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে পশ্চিমা গানের প্রতি আগ্রহটা বেশ কাজে দিয়েছে। গানটিতে কিছুটা পশ্চিমা প্রভাব রয়েছে। তাই মানিয়ে নিতে সহজ হয়েছে। ’

মধুবন্তীর গাওয়া আরো দুটি গান এখন বেশ জনপ্রিয়। এগুলো হলো ‘এগিয়ে দে’ (শুধু তোমারই জন্য) এবং ‘আইটেম বোম্ব’ (কেলোর কীর্তি)।

গানের ক্যারিয়ার চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বলেন, ‘আমরা কিছু মার্কেট গবেষণা করেছি। তাতে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে মানুষ ৮-৯টা অডিও গানের অ্যালবাম কিনতে খুব বেশি আগ্রহী হয় না। এখন সবার আগ্রহ সিঙ্গলসের দিকে। আমার মতে, একসঙ্গে অনেক গানের অ্যালবাম না করে একটা গান ভালোভাবে রেকর্ড করে দৃষ্টিনন্দন ভিডিও বানিয়ে ছাড়লে সেটি বেশি কাজে আসে। ’

প্রকৌশলে লেখাপড়া করলেও আর্টের দিকেই আগ্রহ। গানের পাশাপাশি গয়না ডিজাইনিংও করছেন। মায়ের বুটিকের জন্য এই ডিজাইনিং করেন তিনি। তাই আপাতত মধুবন্তীর হাতে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য অনেক অপশন রয়েছে।


মন্তব্য