kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হালসির ক্লোজার

আমেরিকান গায়িকা হালসি। বয়স মাত্র ২১। এরই মধ্যে নাম করেছেন বেশ। প্রমাণ বিলবোর্ড টপ চার্টের ১ নম্বরে তাঁর গান ‘ক্লোজার’। লিখেছেন সালেহ শফিক

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



হালসির ক্লোজার

অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড আর যুক্তরাষ্ট্রে গানটি দ্রুতই জনপ্রিয় হয়। ৪ মিনিট ৪ সেকেন্ডের এ গানটিতে আবার একত্র হওয়ার আকুতি আছে

ইউটিউবে আসল নাম অ্যাশলে দিয়েই একটি গান পোস্ট করেন হালসি। ২০১২ সালের ঘটনা।

সেটি ছিল টেইলর সুইফটের ‘আই নিউ ইউ ওয়্যার ট্রাবল’ গানের প্যারডি। হালসি নামটি তিনি নিয়েছেন অ্যাশলের বর্ণমালাগুলো এদিক-ওদিক করে। পুরো নাম অ্যাশলে ফ্রানজিপ্যান। আমেরিকান ইলেকট্রোপপ সিঙ্গার। জন্ম ১৯৯৪ সালে। তাঁর গান লেখার শুরু ১৭ বছর বয়সে। ২০১৪ সালে প্রথম এক্সটেন্ডেড প্লে (ইপি) প্রকাশ করেন ‘রুম ৯৩’ নাম দিয়ে। পরের বছরই প্রকাশ করেন প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম ‘ব্যাডল্যান্ডস’। বড় হয়েছেন নিউ জার্সিতে। ১৪ বছর বয়সে গিটার শুরু করার আগে ভায়োলিন আর চেলো বাজাতেন। ১৮ বছর বয়সে অর্থকষ্টে পড়েন। তখন টাকা জোগাড় করতেন সংগীতযন্ত্র বাজিয়ে। চেয়েছিলেন চারুকলায় পড়তে। কিন্তু পরে দেখেন টাকায় কুলাবে না। তারপর ক্রিয়েটিভ রাইটিং নিয়ে পড়তে থাকেন।

ইপি প্রকাশের আগেই কিন্তু অ্যাশলে (তত দিনে অবশ্য নাম নিয়েছেন হালসি) মনোযোগ কাড়েন ‘ঘোস্ট’ দিয়ে। গানটি তিনি পোস্ট করেছিলেন অনলাইন মাধ্যম সাউন্ড ক্লাউডে। ২০১৫ সালে হালসি সাউথ বাই সাউথওয়েস্ট উৎসবের সবচেয়ে আলোচিত শিল্পী ছিলেন। ওই বছরের মার্চ আর এপ্রিলে তিনি ঘুরে বেড়ান ‘ইয়াং রাইজিং সন্স’ নামের একটি পপ দলের সঙ্গে। আগস্টে মুক্তি পায় তাঁর ‘ব্যাডল্যান্ডস’। হালসি এটি নিয়ে বলেন, রাগী মেয়ের গান। প্রথম সপ্তাহেই ৯৭ হাজার কপি বিক্রি হয় অ্যালবামটি। এর গানগুলোতে একটি ভয়ের শহরের কথা বলেছেন হালসি। শহরটি মরুর মাঝে। মানুষরা বন্দি থাকে সেখানে। ‘দ্য ফিফথ এলিমেন্ট’ চলচ্চিত্রটি দেখে অনুপ্রাণিত হন হালসি। সেটারই প্রতিফলন ‘ব্যাডল্যান্ডস’ অ্যালবামটিতে। একসময় বুঝতে পারেন, গানগুলোতে তাঁর নিজেরই মানসিক অবস্থান বর্ণনা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ভাবছিলেন, এ থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই। কিন্তু শেষের গানগুলোতে  মুক্তি খোঁজেন এবং আরো নতুন শহর খুঁজে পান।

হালসির ‘ক্লোজার’ এখন বিলবোর্ড হট হান্ড্রেডের ১ নম্বরে। আমেরিকার ডিজে ডুয়ো চেইনস্মোকারস গানটি প্রযোজনা করেছে। জুলাইয়ের ২৯ তারিখে গানটি প্রকাশিত হয়। রেডিওতে প্রথম শোনা যায় ২ আগস্ট। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড আর যুক্তরাষ্ট্রে গানটি দ্রুতই জনপ্রিয় হয়। ৪ মিনিট ৪ সেকেন্ডের এ গানটিতে আবার একত্র হওয়ার আকুতি আছে। একখানে যেমন বলা হচ্ছে, ‘কেন যে আমি তোমায় ছেড়ে গেলাম, মনে হয় পাগলামিতে ধরেছিল আমায়। ’

৩ আগস্ট ক্লিভল্যান্ডে এক অনুষ্ঠানে টানা ৭০ মিনিট গান করেন হালসি। শ্রোতারা তাঁকে স্টেজ বক্সার আখ্যা দেয়। শ্রোতারা এটাও বুঝতে পেরেছে, মেয়েটি আরো বড় স্টেজের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছেন। তাঁর পরিবেশনা জ্যানেট জ্যাকসনের কথাও মনে করিয়ে দেয়। ‘গ্যাসোলিন’, ‘হোল্ড মি ডাউন’, ‘ক্যাসল’ প্রভৃতি গান সেদিন তিনি পরিবেশন করেছিলেন। ‘হন্টিং’ গানটি গাইতে উঠেছিলেন একটি লাল হুড পরে। অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি একটি ছোট্ট বক্তৃতাও দিয়েছিলেন, যাতে ছিল সব মানুষের একসঙ্গে মিলেমিশে থাকার আহ্বান।


মন্তব্য