kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

জয়িতার গান

ছোটবেলায়ই রবীন্দ্রনাথের গানকে সঙ্গী করেন ফারহিন খান জয়িতা। সম্প্রতি বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে বেরিয়েছে তাঁর নতুন একক ‘কত মধুসমীরে’। লিখেছেন আতিফ আতাউর

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জয়িতার গান

জয়িতার সুযোগ ছিল দুই দিকে যাওয়ার। বাবা খালেদ খান নাটকের মানুষ।

শিল্পকলা একাডেমিতে নানা কারণে যাতায়াত ছিল। বাবার হাত ধরে প্রায়ই জয়িতারও পা পড়ত নাট্যাঙ্গনে। সেখানে গেলে সবাই জানতে চাইত—কী খুকি, গান শেখা কত দূর? প্রশ্নটা বেশ অবাক লাগত জয়িতার কাছে। হেসে বললেন, “আমি বাবার হাত ধরে নাটক দেখতে গেছি। কিসের কি, জিজ্ঞেস করবে নাটক করব কি না; অথচ বলে কিনা ‘গান শেখা কত দূর? গানে মাকে কিন্তু ছাড়িয়ে যাওয়া চাই’। ”

সবাই তাঁকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করতেন। তার কারণ বাবার চেয়ে মায়ের খ্যাতিও যে কোনো অংশে কম নয়। মা মিতা হক দেশের প্রথম সারির রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। তবে মা-বাবা জয়িতাকে জোর করে কোনো পথেই ঠেলে দেননি। জয়িতা বলেন, ‘মা চেয়েছিলেন তাঁর মতো গান করি। আমারও ভালো লাগত রবীন্দ্রনাথের গান। তারপর মায়ের কাছেই রবীন্দ্রসংগীতের প্রথম পাঠ নেওয়া। ’

এরপর ওস্তাদ অনুপ বড়ুয়ার কাছে ক্লাসিক্যালের তালিম নিয়েছেন। কলকাতার জয়ন্ত সরকারের কাছেও শিখেছেন। তবে কোনো সংগীত প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শেখা হয়নি। নিজেকে কিছুটা অলস দাবি করে বলেন, ‘আমার সব কিছুর পেছনে মা আর স্বামী মুস্তাফিজ শাহীনের অনুপ্রেরণা। তাঁদের উৎসাহ না পেলে এত দূর আসতে পারতাম না। ’

সম্প্রতি বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে বেরিয়েছে জয়িতার নতুন একক অ্যালবাম ‘কত মধুসমীরে’। এতে গান রয়েছে আটটি। শিরোনাম ‘বারে বারে ফিরালে’, ‘চরণধ্বনি শুনি তব’, ‘প্রচণ্ড গর্জনে আসিল একি দুর্দিন’, ‘সুখহীন নিশিদিন পরাধীন’, ‘হৃদয়বাসনা পূর্ণ হল’, ‘আমার মন, যখন জাগলি না রে’, ‘বাজে বাজে রম্যবীণা বাজে’ এবং ‘খেলার সাথি, বিদায়দ্বার খোলো’। যন্ত্রানুষঙ্গ পরিচালনায় পার্থ পাল।

জয়িতা বলেন, “বেঙ্গল ফাউন্ডেশনে মায়ের সঙ্গে যাতায়াত ছিল। ২০০৬ সালে  ‘বেঙ্গল বিকাশ’ প্রতিযোগিতায় ভালো করেছিলাম। আর মা-বাবার কারণে সব জায়গায় আলাদা একটু সমীহ পাই। বেঙ্গল বড় বড় শিল্পীর গানের অ্যালবাম  করে। এবার আমারটা করেছে। এটা আমার জন্য অনেক সম্মানের। ”

জানান, এই অ্যালবামের গানগুলো একেকটি একেক ধরনের। গানগুলোর জন্য পরিচিতজনদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন। অনেক গুণী শিল্পীও তাঁর গায়কির প্রশংসা করেছেন।

রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে আগেও তিনটি একক অ্যালবাম প্রকাশ করেছিলেন জয়িতা। সবই ছিল কলকাতার ভাবনা রেকর্ডস থেকে। ২০১২ সালে প্রথম একক ‘বাঁধন ছেঁড়ার গান’, ২০১৩ সালে দ্বিতীয় একক ‘দুঃখ জাগানিয়া’ এবং ২০১৪ সালে তৃতীয় একক ‘শুধুই রবীন্দ্রনাথ’।

জয়িতা বলেন, ‘ভাবনা রেকর্ডস থেকে মায়ের অ্যালবাম বের হয়। সেই সূত্রে আমার সঙ্গেও পরিচয়। একবার কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে আমার গান শুনে তারাই অফার দেয় একক অ্যালবাম করার। ’ পর পর তিন বছর ভাবনা রেকর্ডস আপনার একক অ্যালবাম বের করেছে। নিশ্চয়ই তারা সেখানে আপনার গানের ভালো শ্রোতা খুঁজে পেয়েছে? ‘নিশ্চয়ই। নইলে নিজেরা টাকা খরচ করে অ্যালবাম করবে কেন?’—বলেন জয়িতা। স্পন্সর না পাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে তাঁর প্রথম অ্যালবাম বের হয়নি বলেও জানান। তবে সেই পরিস্থিতি এখন অনেকটাই বদলে গেছে বলে অভিমত তাঁর।

গানের পাশাপাশি বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া ইনস্টিটিউটে কাজ করছেন। অবসরে গান শোনেন। ভালো লাগে অদিতি মহসিন, লাইসা আহমেদ লিসা, সেমন্তী মঞ্জুরী, অভিক দের গাওয়া বরীন্দ্রসংগীত। বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে বলেন, ‘অনেক দিন আগে একটি অ্যালবামের কাজে হাত দিয়েছিলাম। সেটা শেষ করতে চাই। কিছুদিনের মধ্যে একটি সিঙ্গলস রিলিজ করব। সেটার কাজ করছি। বিভিন্ন স্টেজ শোতে সময় দিচ্ছি। ’


মন্তব্য