kalerkantho


তাঁর সেরা পাঁচ

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



তাঁর সেরা পাঁচ

দি আমব্রেলাস অব শেহবুর্গ (১৯৬৪)

ফরাসি এ ছবি পরিচালনা করেছেন জ্যাক ডুম। দেনিউবের সহঅভিনেতা ছিলেন নিনো ক্যাসেলনুভো।

পপ-আর্ট অপেরা ঘরানার ছবিটিতে গাই ফুশি (ক্যাসেলনুভো) একজন ২০ বছর বয়সী গাড়ির মেকানিক। প্রেমে পড়ে তার চেয়ে বছর তিনেকের ছোট জেনেভিয়েভ এমারির (দেনিউব)। এমারি আবার কাজ করে তার বিধবা মায়ের ছাতার দোকানে। এদিকে গাইকে দুই বছরের জন্য যেতে হয় আলজেরিয়ায়, যুদ্ধের জন্য। গাই যুদ্ধে যাওয়ার আগেই গর্ভধারণ করে এমারি। এদিকে দুই বছরের যুদ্ধে বদলে যায় অনেক কিছু। গাই ফিরে এসে দেখে, ছাতার দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। এমারিও নেই। ছবিটি পাঁচটি বিভাগে অস্কার মনোনয়ন পেলেও কোনো পুরস্কার পায়নি। তবে ‘গোল্ডেন পাম’ জিতেছিল ১৯৬৪ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে।

রিপালশন (১৯৬৫)

রোমান পোলানস্কি পরিচালিত ছবিটি ব্রিটিশ সাইকোলজিক্যাল হরর ঘরানার। দেনিউবের সঙ্গে আছেন ইয়ান হেন্ড্রি, জন ফ্রেজার ও ইভন ফেহানু। অদ্ভুত মেয়ে ক্যারল (দেনিউব)। বেলজিয়ামের একটি পার্লার চালায়। থাকে বোনের সঙ্গে। দিনের বেলায়ও ঘুমের ঘোরে হাঁটে। বোন বেড়াতে গেলেই ক্যারল আরো অদ্ভুত আচরণ করতে থাকে। পুরুষরা তার প্রতি আকৃষ্ট হলেও ক্যারল বাস করে অন্য এক জগতে। ক্যারলের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সব চেষ্টাই করে তরুণ কলিন। একপর্যায়ে কলিনের বাড়াবাড়ির কারণে তাকে খুনই করে বসে ক্যারল।

 

বেল দে জ্যুর (১৯৬৭)

পরিচালক লুই বুনুয়েল ছবিটি তৈরি করেছেন ১৯২৮ সালে লেখা জোসেফ ক্যাসেলের একটি উপন্যাস অবলম্বনে। ফরাসি এ নামের আক্ষরিক অর্থ হলো ‘যে নারী রাতের’। সেভারিন নামের এক ধনী গৃহিণীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেনিউব। নিজের জীবনকে অনেকটা পানসে মনে হয় সেভারিনের। দিনদুপুরে সে স্বপ্ন দেখে, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। স্বামী কাজের জন্য বাইরে গেলে সেভারিন দিনদুপুরেই বারবণিতা বনে যায়। এই অন্ধকার জীবনের প্রভাবে পরিবর্তন আসতে থাকে তার সাধারণ সাংসারিক জীবনেও। একপর্যায়ে যৌনকর্মীর পেশা থেকে ফিরে আসতে চাইলেও বাধে উটকো ঝামেলা। জীবনে উড়ে এসে জুড়ে বসে মার্সেল নামের এক তরুণ গ্যাংস্টার।

 

মিসিসিপি মারমেইড (১৯৬৯)

ফ্রঁসোয়া ত্রুফোর এ ছবিতে ক্যাথরিন দেনিউবের সঙ্গে আছেন জ্যঁ পল বেলমন্ডো। লুই মাহে (বেলমন্ডো) রিইউনিয়ন দ্বীপের একজন তামাকচাষি। জুলির (দুনভ) সঙ্গে তার বিয়ে ঠিকঠাক। জুলিকে কেবল ছবি আর চিঠির মাধ্যমেই চেনে লুই। তবে জুলির সঙ্গে দেখা হতেই পাল্টে যায় সব কিছু। ছবির জুলির সঙ্গে কোনো মিল নেই বাস্তবের জুলির। তার পরও এই জুলিকেই বিয়ে করে লুই। বিয়ের কিছুদিন পরেই লুইয়ের টাকা চুরি করে পালিয়ে যায় জুলি নামধারী ওই নারী। তাঁকে খুঁজে গিয়ে ঘটনাচক্রে ছবির জুলির সঙ্গে দেখা হয় লুইয়ের।

 

ড্যান্সার ইন দ্য ডার্ক (২০০০)

মিউজিক্যাল ড্রামা ছবিটির পরিচালক লার্স ভন ট্রায়ার। দেনিউবের সঙ্গে এ ছবিতে আছেন গায়িকা বিয়র্ক। ‘গোল্ডেন হার্ট’ ট্রিলজির তৃতীয় ছবি এটি। প্রেক্ষাপট ১৯৬৪। ইউরোপ থেকে ছেলেকে নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমায় সেলমা (বিয়র্ক)। নিজের যে রোগ হয়েছে, সেই একই রোগের হাত থেকে ছেলেকে বাঁচাতে দিন-রাত খাটে সেলমা। জীবনের সব ক্লান্তি আর দুশ্চিন্তা নিমেষে গায়েব করে দিতে সেলমার আছে এক গোপন ফর্মুলা। নিজেকে মিউজিক্যাল সিনেমার অংশ ভাবে সে। কল্পনা করে, তাঁর কষ্টটা এক ধরনের অভিনয় ছাড়া আর কিছুই নয়। এই ছবিতে সেলমার বান্ধবীর চরিত্রে অভিনয় করেন দেনিউব।

                 নূসরত জাহান 


মন্তব্য