kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


অভিনয় থেকে সংবাদ পাঠ

বিয়ের পর অভিনয়ে নেই। দর্শকও তাঁকে ভুলতে বসেছিল প্রায়। আবার ফিরেছেন, তবে অভিনয়ে নয় সংবাদ পাঠে। সাবরিন সাকা মীমকে নিয়ে লিখেছেন সাইমুম সাদ, ছবি তুলেছেন মোহসীন আহমেদ কাওছার

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অভিনয় থেকে সংবাদ পাঠ

বিয়ের পরপর খুব মিস করতাম। এখন অবশ্য অ্যাডজাস্ট হয়ে গেছে। অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা আছে এখনো। দর্শকের ভালোবাসা, সম্মান—সব তো অভিনয় করেই পেয়েছি

বিয়ের পরই পাল্টে গেল জীবন। দূরে সরে গেলেন অভিনয় থেকে। পাল্টে গেল রুটিন। সকালে অফিসে ছুটতেন স্বামী। পরের সময়গুলো বিরক্তিকর ঠেকত। নেই কলটাইম কিংবা মুখ থেকে মেকাপ তোলার তাড়া। কাগজ পড়েই কাটত সময়। কাগজ পড়ার অভ্যাসটা একটু ভিন্ন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সুর করে পড়তেন। হাত নাড়াতেন উপস্থাপনার ভঙ্গিমায়। হয়তো বা মনের অগোচরে অভিনয়ও করতেন। তবে মন থেকে চাইতেন সংবাদ উপস্থাপনা করবেন। কিন্তু অভিনয়? ‘নাটক করতে গেলে প্রচুর সময় দিতে হয়। আর আমার স্বামীও মিডিয়ার কেউ নন। সংসারটা সামলে নিয়ে অভিনয় করাটা কঠিন’, বললেন মীম।

সংবাদ পাঠের সুযোগটা পেয়েও গেলেন এটিএন বাংলায়। ২০১৩ সালের নভেম্বরে যোগ দিলেন। টানা দুই বছর ছিলেন। গত বছর এটিএন ছেড়ে যোগ দিয়েছেন আরটিভিতে। সপ্তাহে দুই দিন শুক্র ও শনিবার সংবাদ নিয়ে হাজির হন দর্শকের সামনে। শনিবারে করেন লাইভ শো ‘তারকালাপ’। সপ্তাহের বাকি পাঁচ দিন কাটছে কেয়ার বাংলাদেশের একটি প্রজেক্টে। তবে উপস্থাপনাটাই বেশি উপভোগ করছেন। বললেন, ‘নিউজ পড়তে এখন খুব ভালো লাগে। বেশ মজার। যদিও শুরুর দিকে জড়তা ছিল। নিউজ উপস্থাপনার মজাটা হলো, এটা সরাসরি। টিভি নাটক তো লাইভ নয়। নাটকে নাট্যকারের বানানো গল্প অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরতাম। এখন ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা সরাসরি বলি। আরেকটা বিষয় হলো, অভিনয়ের সময় চরিত্রানুযায়ী মেকাপ নিতাম। নিউজেও প্রতিদিন সাজুগুজু করতে হয়। ’

সংবাদ পাঠে আগ্রহটা জন্মে অবশ্য আরো আগে, একুশে টেলিভিশনে সামিয়া জামানকে দেখে। ‘তখনই ভেবেছিলাম যদি কখনো অভিনয় ছাড়ি তবে নিউজ প্রেজেন্টারই হব। একটু দেরিতে হলেও আসতে পেরেছি’, বলেন মীম।

শিশুশিল্পী মীমের কথা যারা ভুলে গেছে বা জানে না, তাদের জন্য বলি, ১৯৯৫ সালে ‘নতুন কুঁড়ি’তে কয়েক হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে একক ও দলীয় অভিনয়ে প্রথম হয়েছিলেন। আবৃত্তিতে হয়েছিলেন তৃতীয়।

এরপর দীর্ঘদিন টিভি নাটকে শিশুশিল্পী হয়েছেন। দর্শক মহলে তুমুল জনপ্রিয়। হঠাৎ করেই দুই-তিন বছরের বিরতি নিলেন। ফিরলেন নায়িকা হয়ে। লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনেই কাটত সকাল-সন্ধ্যা। শিডিউল নিয়ে হাঁপিয়ে উঠতেন।

সেই জীবনটা মিস করেন না? ‘বিয়ের পর খুব মিস করতাম। এখন অবশ্য অ্যাডজাস্ট হয়ে গেছে। অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা আছে এখনো। দর্শকের ভালোবাসা, সম্মান—সব তো অভিনয় করেই পেয়েছি,’ বললেন মীম।

এখনকার নাটক নিয়ে আশাবাদী তবে কিছু অসুবিধাও দেখছেন মীম। ‘ভালো ভালো নাটক হচ্ছে, কিন্তু দর্শক যদি জানতেই না পারে তাহলে লাভ কী? এখন দু-একটা নাটকে অভিনয় করে লাভ নেই। এত এত চ্যানেল!’, বলেন মীম।


মন্তব্য