kalerkantho


লুকাস গ্রাহাম এবং সেভেন ইয়ারস

ডেনমার্কের ব্যান্ড লুকাস গ্রাহাম। তাঁদের গান ‘সেভেন ইয়ারস এখন বিলবোর্ড টপ চার্টের হট হান্ড্রেডের তিন নম্বরে। ব্যান্ডটি নিয়ে লিখেছেন সালেহ শফিক

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



লুকাস গ্রাহাম এবং সেভেন ইয়ারস

একই অ্যালবামের ‘মামা সেইড’ গানটি দিয়ে ড্যানিশ সিঙ্গেলস চার্টে এক নম্বরে জায়গা করে নেয় তাঁরা। ইউরোপের ১১টি দেশের টপ চার্টেও গানটি ১০ নম্বরের মধ্যে জায়গা পায়

ব্যান্ডটির নাম লুকাস গ্রাহাম। কারণ এই নামের মানুষটিই ব্যান্ডটি গড়েছেন।

ঘটনাটা ২০১১ সালের। সেবার দুটি হোমমেড ভিডিও ইউটিউবে রিলিজ করেছিলেন গ্রাহাম লুকাস। একটির শিরোনাম ‘ক্রিমিনাল মাইন্ড’, অন্যটি ‘ড্রাংক ইন দ্য মর্নিং’। বন্ধুরা ফেসবুকে গান দুটি শেয়ার দিলে হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে। খুব ফুর্তি নিয়ে গানগুলো তৈরি করেছিলেন লুকাস। মানুষ সেটিই পছন্দ করেছে। ফলে কোপেনহেগেন রেকর্ডস লুকাসের সঙ্গে চুক্তি করে। ওই বছরেরই অক্টোবরে গ্রাহাম লুকাসের কনসার্টের টিকিট বিক্রি হয় ৩০ হাজার। পরের বছর ‘লুকাস গ্রাহাম’ নামেই ব্যান্ডটি প্রথম অ্যালবাম বের করে। অ্যালবামের ‘ড্রাংক ইন দ্য মর্নিং’ গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায় জার্মানিতে। নরওয়ে আর সুইডেনেও বেশ প্রশংসিত হয় অ্যালবামটি। আর ডেনমার্কে তো লুকাস গ্রাহাম নামটিই বেশ জনপ্রিয়।

২০১৫ সালে প্রকাশিত হয় ব্যান্ডটির দ্বিতীয় একক ‘লুকাস গ্রাহাম (ব্লু অ্যালবাম)’। সে অ্যালবামেরই গান ‘সেভেন ইয়ারস’ এখন বিলবোর্ড টপ চার্টের ৩ নম্বরে। গানটির বিষয় বেড়ে ওঠা। লুকাস যেভাবে বেড়ে উঠেছেন সে কথাগুলোই তুলে ধরেছেন এতে। লুকাসের বয়স এখন ২৭; কিন্তু তিনি ৬০ বছরের বেশি বাঁচতে চান না। কারণ তাঁর বাবা মারা গেছেন ৬১ বছর বয়সে। লুকাস ধারাবাহিকভাবে লিখেছেন তাঁর ৭, ১১ ও ২০ বছর বয়সের কথা। ভাবতে চেয়েছেন ৬০ বছর বয়সটাকে। সব মিলিয়ে এটি অন্য রকম এক গান। গানটি এত জনপ্রিয় হওয়ার কারণ

একটাই—ইংরেজিতে বলে সোলফুল, মানে মন থেকে গাওয়া বা হৃদয় উজাড় করে গাওয়া। লুকাস বলেছেন, আমার বাবা মারা না গেলে এ গানটি তৈরিই হতো না। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর গানটি ইউটিউবে আপলোড করা হয়। দৈর্ঘ্য ৩ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড। ২৬ মার্চ পর্যন্ত গানটির ভিডিও দেখা হয়েছে ৯২ মিলিয়নবার।

গানটির কয়েকটি বাক্য এমন—

একদা আমার বয়স যখন হলো সাত

মা বললেন, যাও কয়জন বন্ধু বানাও

নইলে একা হয়ে যাবে

পৃথিবীটা সেদিন থেকে অনেক বড় হয়ে গেল

একে ওকে ঠেলেঠুলে শিখছিলাম দ্রুত

এগারোতে টানলাম ধোঁয়া আর পানীয়ও বাদ যায়নি

দ্রুতই বড় হয়ে উঠতে চাইলাম, দ্রুতই।

একই অ্যালবামের ‘মামা সেইড’ গানটি দিয়ে ড্যানিশ সিঙ্গেলস চার্টে এক নম্বরে জায়গা করে নেয় লুকাস গ্রাহাম। ইউরোপের ১১টি দেশের টপ চার্টেও গানটি ১০ নম্বরের মধ্যে জায়গা পায়। ডেনমার্ক ছাড়াও সুইডেন আর অস্ট্রিয়ায় এ গান এক নম্বর স্থান দখল করে। আমেরিকার বিলবোর্ড হট হান্ড্রেডে ছিল ৪০ নম্বরে। ২০১৬ সালেই তৃতীয় একক অ্যালবাম প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে ব্যান্ডটি।  

লুকাস বড় হয়েছেন এমন এক জায়গায় যেখানে সব কিছু চলে। লুকাস মনে করতে পারেন প্রথম গাঁজা খাওয়ার দিন। তখন তাঁর বয়স মোটে ১১। জায়গাটি কোপেনহেগেনের মধ্যে একটি স্বাধীন জায়গা। মাত্র ৮০০ মানুষের বাস। প্রায় সবাই নেশাদ্রব্য বিক্রির ব্যবসায় জড়িত। এর নাম ক্রিস্টিয়ানিয়া। এর নিজস্ব পতাকা আছে। নিজস্ব জাতীয় সংগীতও আছে। সংগীতের একটি বাক্য এমন—মৃত মাছই কেবল স্রোতের সঙ্গে যায়। এই ক্রিস্টিয়ানিয়া থেকে এসেই লুকাস গানের দল বাঁধে। সঙ্গে যোগ দেয় মার্ক ফালগ্রেন (ড্রামার), ম্যাগনাস লারসন (বেইজ) এবং ক্যাসপার ডগার্ড (কিবোর্ড)।

লুকাস আইরিশ লোকসংগীত শিখেছেন বাবার কাছে। বিটলস তাঁর খুব পছন্দ। এ ছাড়া তাঁর পছন্দ রোলিং স্টোনস, আল গ্রিন, দ্য প্রডিজি ইত্যাদি।  

 


মন্তব্য