kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


সেলুলয়েডে ক্রিকেট

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে নির্মিত হলো ক্রিকেট উপজীব্য চলচ্চিত্র। ৮ এপ্রিল মুক্তি পাবে সাফি উদ্দীন সাফির ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী ২’। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উন্মাদনার পরপরই মুক্তি পাবে ছবিটি। লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সেলুলয়েডে ক্রিকেট

বরাবরই ক্রিকেট ভক্ত শাকিব খান। কাছের পরিচালকদের প্রায়ই ক্রিকেট মাঠের উত্তেজনা নিয়ে  ছবি বানানোর অনুরোধ করে আসছেন। বিশেষ করে বলিউড ছবি ‘লগান’ দেখার পর এই ইচ্ছাটা আরো প্রবল হয়। কিন্তু কোনো পরিচালকই মনের মতো করে গল্প শোনাতে পারেননি শাকিবকে। অবশেষে ২০১৪ সালে সাফি উদ্দীন সাফি ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী ২’-এর গল্প শোনালেন। শাকিবকে ক্রিকেটারের ভূমিকায় অভিনয় করতে হবে। এ যেন সোনায় সোহাগা। রাজি হয়ে গেলেন এক কথায়। পারিশ্রমিক নিয়েও দরকষাকষি করেননি। এমনকি শিডিউলও দিলেন খাতা-কলম ছাড়া। সাফি বলেন, ‘শাকিবকে নিয়ে এর আগে অনেক ছবি নির্মাণ করেছি। কিন্তু আর কোনো ছবিতে তাকে এতটা মনোযোগী হতে দেখিনি। শুটিংয়ের আগে সে ক্রিকেটের ওপর বেশ কিছু বই ও চলচ্চিত্রের সিডি কিনেছে। ব্যাট করার কৌশল, বল করার কৌশল শেখার জন্য ক্রিকেট কোচের পরামর্শ নিয়েছে। প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে প্র্যাকটিস করেছে। আমি ভাবতেও পারিনি সে এতটা সময় দিবে। ’

তবে শাকিবের মতো শুরুতেই রাজি হননি ছবির নায়িকা জয়া আহসান। ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী’র সিক্যুয়েলের কথা শুনে চটে গিয়েছিলেন। সরাসরি বলেন, ‘সিক্যুয়েল ছবিতে অভিনয় করব না। ’ গল্পকার রুম্মান রশীদ খান অনুরোধ করেন গল্পটি একবার অন্তত শোনার জন্য। এক সপ্তাহ পর সময় দিয়েছিলেন। গল্প শুনে ভালো লাগলেও বেশ ভয় পেয়েছিলেন জয়া। ক্রিকেট নিয়ে ছবি করতে গেলে মাঠ লাগবে, গ্যালারিভর্তি দর্শক থাকতে হবে, ক্রিকেট বোর্ডের অনুমতির ব্যাপারও আছে। পরিচালকের কাছে বিষয়গুলো জানতে চান জয়া। পরিচালক তাঁকে নিশ্চিত করেন, সব ঠিক করাই আছে। এমনকি তাঁর সামনে বসেই শুটিংয়ের জন্য ফতুল্লা স্টেডিয়াম বুকিং দেন। তখনই চুক্তিবদ্ধ হন জয়া। শুধু তাই নয়, ছবিতে নিজের কস্টিউম নিজেই ডিজাইন করেছেন তিনি। সাফি বলেন, ‘জয়াকে যে পারিশ্রমিক দিয়েছি তিনি তার চেয়ে বেশি খরচ করেছেন কস্টিউমের পেছনে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ব্যাংকক থেকে শুরু করে মুম্বাই—কোথা থেকে পোশাক আনেননি? শুটিংটাও বেশ উপভোগ করেছেন। সবচেয়ে ভালো লেগেছে তাঁর কমিটমেন্ট। বৃষ্টির জন্য স্টেডিয়ামে শুটিং করতে পারিনি দুই দিন। জয়া তখন কলকাতার ছবি নিয়ে ব্যস্ত। ভেবেছিলাম ফেঁসে যাব। কিন্তু না, কলকাতায় ফোন করে ওখানকার ছবির শিডিউল পিছিয়ে দিলেন। নইলে বেশ ঝামেলা হতো। ’

নির্মাণের পর ছবিটি সেন্সর বোর্ডে আটকে গেলে বেশ হতাশ হয়েছিলেন শাকিব খান। নিজেই একদিন সেন্সর বোর্ডে ফোন দেন। পরবর্তী সময়ে কর্তনকৃত অংশের শুটিংও করেন বিনা শিডিউলে। ছবিতে আরো অভিনয় করেছেন ওমর সানী [ক্রিকেট কোচ], ইমন [জাতীয় দলের তারকা প্লেয়ার], মৌসুমী হামিদ [মডেল]। ক্রিকেট ধারাভাষ্যকারের চরিত্রে হাবিবুল বাশার সুমন ও আসিফ আকবর।

শাকিব ও জয়া দুজনই এখন ৮ এপ্রিলের জন্য অপেক্ষা করছেন। বিশেষ করে শাকিব। পর্দায় জাতীয় ক্রিকেটারের চরিত্রে নিজেকে কেমন লাগে, সেটা না দেখা পর্যন্ত ভালো লাগছে না তাঁর। শাকিব বলেন, ‘আমরা ক্রিকেটপাগল জাতি। মাঠে ১১ জন খেললেও বাইরে ১৬ কোটি মানুষ তাদের সঙ্গেই থাকে। দল জিতলে সবাই হাসে, হারলে কাঁদে। এতটা ক্রিকেট প্রেম অন্য কোনো দেশের মানুষের আছে বলে মনে হয় না। আমার বিশ্বাস, ছবিটি ইতিহাস গড়বে। ’

এখন চলছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ৩ এপ্রিল ফাইনাল ম্যাচ, এক সপ্তাহ পরই মুক্তি পাবে ছবিটি। ‘৮ এপ্রিল থেকে দর্শক এই ছবি নিয়ে উন্মাদনা দেখাবে বলেই আমার বিশ্বাস। উত্তেজনাকর বেশ কয়েকটি ম্যাচের অংশবিশেষ দেখতে পাবে দর্শক। শুটিং হয়েছে ফতুল্লা স্টেডিয়ামে। মাঠে ১০ হাজার দর্শক। দর্শক সারিতে আমিও ছিলাম’, বললেন জয়া আহসান।

শাকিব-জয়া দুজনই এখন কলকাতায়। জয়া ফিরবেন ৪ এপ্রিল, শাকিব ফিরবেন পরদিনই। ঢাকায় ফিরেই ছবির প্রচারণায় অংশ নেবেন। এর মধ্যে নিজেরা কিছু পরিকল্পনাও সাজিয়েছেন। ছবির প্রচারণার ক্ষেত্রে অভিনব একটা পন্থা বের করেছেন জয়া। বিভিন্ন স্টেডিয়ামে গিয়ে ছবির চুম্বকাংশ দর্শকদের দেখাতে চান। তা ছাড়া ঢাকার বাইরের কিছু কিছু স্টেডিয়ামে ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করার কথাও পরিচালককে বলেছেন এই অভিনেত্রী। তবে শাকিব আবার বলেছেন অন্য কথা। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড়দের নিয়ে হাজির হতে চান তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চান দর্শকের সঙ্গে। ক্রিকেট নিয়ে ভালো লাগা, ভালোবাসা তুলে ধরবেন। অবশ্য পরিচালক দুজনের কথাই আমলে নিচ্ছেন।


মন্তব্য