kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।

দুই বোন

বলিউড সিনেমার প্লেব্যাক জগতের অন্যতম দুই নক্ষত্র—লতা মুঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলে। সম্পর্কে বোন তাঁরা। এই দুই বোনের সম্পর্ক নিয়েই তৈরি হয়েছে টিভি সিরিজ—‘মেরি আওয়াজ হি পেহচান হ্যায়’। জানাচ্ছেন নাবীল অনুসূর্য

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দুই বোন

১৮-৭

বলিউডের অন্যতম ‘ওপেন সিক্রেট’ লতা-আশার তিক্ত সম্পর্ক। দীর্ঘদিনের পুরনো এই রেষারেষি নিয়ে দুজনের কেউই কখনো মুখ খোলেননি।

তাঁদের এই রেষারেষির শুরু মূলত আশার বিয়ের সময় থেকে। নিজের থেকে ১৪ বছরের বড় গণপতরাও ভোঁসলেকে এক রকম পরিবারের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়েই বিয়ে করেন আশা। তখন থেকেই পরিবারের সঙ্গে আশার তিক্ত সম্পর্কের শুরু। পরে তিক্ততা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে আশাকে তাঁর পরিবারের কারো সঙ্গে দেখা করতেও নিষেধ করে দিয়েছিলেন গণপতরাও।

তত দিনে লতা মুঙ্গেশকর বলিউডে মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত প্লেব্যাক শিল্পী। জনপ্রিয়তাও পেয়েছেন বেশ। স্বামীর সমর্থন নিয়ে সেখানেও পা রাখেন আশা। আর সেদিন থেকেই এই দুই গায়িকার পেশাদারির দ্বৈরথের শুরু। তাঁদের এই দ্বৈরথ নিয়ে মুখরোচক গুজবেরও অভাব ছিল না। এই যেমন, তাঁদের দুজনের বাসায় নাকি একই কাজের লোক কাজ করত। তার মূল কাজ ছিল, ভবিষ্যতে লতা কী কী কাজ করতে যাচ্ছেন, সেসব তথ্য আশার কাছে পাচার করে দেওয়া। তাঁদের এই মুখরোচক দ্বৈরথের গল্পকে সিরিজে কতখানি উপস্থাপন করা যাবে, সে উপস্থাপন কতখানি ভালো হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে আলোচিত দ্বৈরথ নিয়ে বানানো এই সিরিজটির জন্য লতা-আশা কারো কাছ থেকেই অনুমতি নেওয়া হয়নি। ধারাবাহিকে তাই বিখ্যাত দুই গায়িকার দ্বৈরথের কথাও সরাসরি বলা হয়নি।

কল্যাণী ও কেতকী নামের দুই গায়িকা বোনের ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনের রেষারেষির গল্প বলা হয়েছে। তবে দর্শকদের বুঝতে অসুবিধা হয় না, এটা আদতে লতা মুঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলেরই গল্প। তাঁদের জীবনের তিন সময়ের কাহিনী নিয়েই সাজানো হয়েছে ১৩০ পর্বের সিরিজটি।

ধারাবাহিকের নামটা নেওয়া হয়েছে ‘কিনারা’ সিনেমায় লতার গাওয়া জনপ্রিয় এক গান থেকে। ৭ মার্চ থেকে সিরিজটির সম্প্রচার শুরু হয়েছে ভারতীয় টিভি চ্যানেল ‘অ্যান্ডটিভি’তে। ধারাবাহিকটির কাহিনী রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন নিবেদিতা বসু। এক সাক্ষাত্কারে অবশ্য তিনি এটার কাহিনীকে কাল্পনিক বলেছেন।

তরুণী ‘কল্যাণী’ (লতা মুঙ্গেশকর) চরিত্রে অভিনয় করেছেন অমৃতা রাও আর তরুণী ‘কেতকী’(আশা ভোঁসলে) অদিতি বাসুদেব। আর বয়স্কা কল্যাণী-কেতকী হয়েছেন যথাক্রমে দীপ্তি নাভাল ও জারিনা ওয়াহাব।

এই সিরিজ দিয়েই বড় পর্দার নায়িকা অমৃতা রাওয়ের ছোট পর্দায় অভিষেক। ‘ইশক ভিশক’, ‘ম্যায় হু না’, ‘বিবাহ’র মতো সিনেমায় অভিনয় করলেও আগে কখনো ছোট পর্দায় কাজ করেননি এই অভিনেত্রী। সাধারণত বড় পর্দা থেকে ছোট পর্দায় ‘নেমে আসা’টাকে খানিকটা বিব্রতকর ভাবা হলেও অমৃতা কিন্তু ব্যাপারটি মোটেই সেভাবে নিচ্ছেন না। বরং সিরিজটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত।

অবশ্য লতা-আশার এই রেষারেষি নিয়ে এটিই প্রথম কোনো কাজ নয়। এর আগে তাঁদের এই দ্বৈরথ নিয়ে একটি সিনেমাও বানানো হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে এই দুই বোনের রেষারেষি নিয়ে তৈরি হয়েছিল ‘সাজ’। এতে দুই বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শাবানা আজমি ও অরুণা ইরানি।


মন্তব্য