kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


মানব বনাম অতিমানব

আগামীকাল মুক্তি পেতে যাওয়া ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান : ডন অব জাস্টিস’-এ প্রথমবারের মতো রুপালি পর্দায় দেখা হতে যাচ্ছে দুই সুপারহিরোর। তবে প্রথম সে দর্শনটা সুখের হচ্ছে না। জানাচ্ছেন নূসরাত জাহান

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মানব বনাম অতিমানব

মনে মনে একবার ভাবুন তো—বাস্তবে ঠিক আপনার বাসার ছাদের ওপর দিয়ে উড়ে গেল সুপারম্যান। যে কি না এক ঘুষিতে উড়িয়ে দিতে পারে ভবন, চোখের রশ্মি দিয়ে গলিয়ে দিতে পারে কঠিন সব ইস্পাত। এমন অতিমানবীয় শক্তিধর লোক যদি সত্যি সত্যিই থাকে, তবে সে যত উপকারই করে বেড়াক না কেন, ভয় লাগবে না—কোনো দিন যদি এই সুপারম্যানের মাথাটা বিগড়ে যায়? আর এমন ভয় পেয়ে বসেছিল ব্যাটম্যান ওরফে ব্রুস ওয়েনকে। সুপারহিরোদের মধ্যে যাঁর নেই কোনো অতিমানবীয় ক্ষমতা। তো, এই ব্যাটম্যান ঠিক করল, সুপারম্যানকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একদিকে সীমিত ক্ষমতার মানুষ, অন্যদিকে তুমুল শক্তিধর সুপারম্যান। কিন্তু মানুষ হলেও ব্যাটম্যানের আছে অসাধারণ সব প্রযুক্তি। লড়াইটা তবে কেমন হবে?

দুই সুপারহিরোর ভক্তদের জন্য এ ছবি দেখাটা তাই বাধ্যতামূলক বলতেই হয়। এ ছাড়া রুপালি পর্দায় এবারই প্রথম মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্যাটম্যান আর সুপারম্যান। ব্যাটম্যান আর সুপারম্যানের কঠিন লড়াইয়ের একপর্যায়ে মাঠে নামবে ডিসি কমিকসের আরেক সুপারহিরোইন চরিত্র ‘ওয়ান্ডার উইম্যান’ ও সুপারভিলেন ‘ডুমসডে’ ও ‘লেক্স লুথর’।

ক্রিস্টোফার নোলানের পরিচালনায় ব্যাটম্যান-ট্রিলোজিতে ব্যাটম্যান হয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ান বেল। এবার জ্যাক স্নাইডারের ছবিতে ব্যাটম্যান হয়েছেন অস্কারজয়ী অভিনেতা বেন অ্যাফ্লেক। তাঁকে নিয়ে প্রথম দিকে শঙ্কায় ছিলেন পরিচালক-প্রযোজক। এমনকি লোকের মন্দ কথা যেন কানে না আসে, এ জন্য কাস্টিং ঘোষণার পর ইন্টারনেটের দুনিয়ায় অ্যাফ্লেককে পা মাড়াতে দেননি পরিচালক। পরে অবশ্য তাঁর কাজ দেখে প্রযোজক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার্স ব্রাদার্স এতটাই খুশি হয় যে পরবর্তী তিনটি ব্যাটম্যান ছবির জন্য তাঁকে নায়ক হতে অনুরোধ করে। নিজের ব্যাটম্যান চরিত্রের জন্য বেশ খেটেছেনও বেন। শরীরে যোগ করতে হয়েছিল ২০ পাউন্ড মাংসপেশি ও ৮ শতাংশ চর্বি। ছবির প্রয়োজনে পিঠে আঁকিয়েছেন বিশাল এক ট্যাটু। প্রথম দিকে ভক্তরা সেটাকে আসলই ভেবেছিলেন। পরে অবশ্য বেন স্বীকার করেছেন ওটা নকল। এমনিতেই ক্রিশ্চিয়ান বেল বলে বেড়াচ্ছেন, ব্যাটম্যান চরিত্রে আরেকজনকে দেখে তিনি মোটামুটি ঈর্ষাকাতর। ছবি মুক্তির পর বেনের অভিনয় দেখে নিশ্চয়ই ঈর্ষার আগুনটা দাউ দাউ করে উঠবে!

তবে সুপারম্যান ওরফে হেনরি ক্যাভিলও কম যাননি। আগের সুপারম্যান সিনেমা ‘ম্যান অব স্টিল’-এর চেয়ে তাঁকে এবার আরো বড়সড় দেখানোর দরকার ছিল। এ জন্য নির্মাতারা ক্যাভিলকে ভরপেট খাইয়েছেন আর ব্যায়াম করিয়েছেন দিন-রাত। আগের তুলনায় তাঁর পেশি বেড়েছে দ্বিগুণ। এমনকি শুটিংয়ের একপর্যায়ে সুপারম্যানের ওজন হয়েছিল ১০০ কেজি! পরে অবশ্য সেটা কমিয়েও এনেছেন।


মন্তব্য