kalerkantho


চ্যাম্পিয়ন মিম

লাক্স-চ্যানেল আই সুন্দরী প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর অভিনয়ের মাঠেও ‘চ্যাম্পিয়ন’ হতে চান। নাদিয়া আফরিন মিমকে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান। ছবি তুলেছেন সুমন ইসলাম আকাশ

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



চ্যাম্পিয়ন মিম

 

সন্ধ্যা নেমে এসেছে। সবে ফিরেছেন।

চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ। ‘সকাল থেকেই ক্লাস ছিল। এমন ব্যস্ত ছিলাম কারো ফোন রিসিভ করারও সময় পাইনি। গতকাল ছিল ধারাবাহিকের শুটিং। এক আত্মীয় মারা গেছেন গতকাল। সেখানেও যেতে পারিনি,’ বললেন মিম। পড়ছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে, স্নাতক প্রথম বর্ষে। অভিনয় আর ক্লাস দুই কাজ একসঙ্গে করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

ভালোই চাপে আছেন মনে হচ্ছে? ‘চাপে আছি সত্যি, তবে উপভোগও করছি।

আগে ছিলাম সাধারণ মেয়ে। রাস্তায় বের হলে কেউ চিনত না। এখন কেউ না কেউ যেচে এসে কথা বলে। দেখলে খুশি হয়। ভালোই লাগে। এই ভালো লাগার জন্য তো আর পড়াশোনা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ক্লাস মিস করাও চলে না। কিছুদিন আগে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা গেছে। তখন শুটিং বাদ রেখে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হয়েছে’, বললেন মিম।

চ্যানেল আইতে চলছে মিম অভিনীত ইফতেখার আহমেদ ফাহমির ধারাবাহিক ‘পারিবারিক জাদুঘর’। প্রচার অপেক্ষায় দুটি ধারাবাহিক—আরটিভিতে রাজিবুল ইসলাম রাজিবের ‘ছন্নছাড়া’ ও জিটিভিতে তানিম রহমান অংশুর ‘সুপার গার্ল’। শুটিং করে বেশি মজা পান ‘সুপার গার্ল’-এর। ‘কারণ সেখানে আমি ছাড়াও আছে সাফা কবির, টয়া আপু, কেয়া ও অন্বেষা। পাঁচ তরুণীর গল্প। সবার সঙ্গেই আমার সখ্য হয়েছে। শুটিং ছাড়াও আমরা প্রায়ই একসঙ্গে ঘুরতে বের হই’, বললেন মিম।

অভিনয়ের ক্ষেত্রে সব সময় পরিবার উৎসাহ দেয়। বিশেষ করে তাঁর মা। মিমের সঙ্গে তিনিও শুটিং স্পটে হাজির হন। কোন ড্রেসে বা কোন মেকাপে তাঁকে ভালো লাগবে, যাচাই-বাছাইয়ে তিনিই সাহায্য করেন। আর পাণ্ডুলিপি পছন্দের ব্যাপারে সাহায্য করেন বাবা। ‘অনেক সময় ধরে পাণ্ডুলিপি পড়ার ধৈর্য আমার হয় না। বাবা নিজে থেকে সব পড়েন এবং আমি কোনগুলো পছন্দ করতে পারি বলে দেন’, বললেন মিম।

এক বছরের ক্যারিয়ারেই কয়েকটি জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন—‘আমার গল্প’, ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’, ‘লাবণ্য’, ‘অপূর্বা’, ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ফিরে এসো প্রেম’ ও ‘আজকের বিশেষ অতিথি’।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসের নায়িকা হওয়ার ইচ্ছে মিমের। এখন পর্যন্ত সুযোগ হয়নি।

চলচ্চিত্রেও অভিনয় করতে চান। তবে এখনই নয়, পড়াশোনার পাট চুকিয়ে তবেই নামবেন সিনেমায়। চলচ্চিত্রে তাঁর কিছু পছন্দের পরিচালক আছেন।

যদি তাঁদের কাছ থেকে প্রস্তাব পান তাহলে চোখ বন্ধ করে রাজি হয়ে যাবেন। পছন্দের পরিচালকদের নাম অবশ্য বললেন না।

 

অনেক সময় সব পাণ্ডুলিপি পড়ার ধৈর্য আমার হয় না। বাবা নিজে থেকে সব পড়েন এবং আমি কোনগুলো পছন্দ করতে পারি তা বলে দেন


মন্তব্য