kalerkantho


রেকর্ডগুলো নিয়ে কেলি গিয়েছিলেন কম্পানিগুলোর দ্বারে দ্বারে। প্রায় সব জায়গা থেকে একই জবাব পান, গানগুলো বেশি গাঢ়।

ভালোবেসে গেলাম শুধ

কেলি ক্লার্কসন নজর কাড়েন ২০০২ সালে, আমেরিকান আইডলের প্রথম সিজনে প্রথম হয়ে। তারপর থেকে ছুটে চলেছে তাঁর জয়রথ। এখন তাঁর ‘পিস বাই পিস’ গানটি বিলবোর্ড টপচার্টের ২০ নম্বরে। সালেহ শফিক জানাচ্ছেন বিস্তারিত

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভালোবেসে গেলাম শুধ

শিরোনামের কথাটি কেলি ক্লার্কসনের। তাঁর পিস বাই পিস গানের কথাগুলো খেয়াল করলেই বুঝবেন এ কথাই তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। গানটির প্রথম কয়েকটি বাক্য :

‘চেয়ে চেয়ে দেখলাম, তুমি বিমান ধরতে যাচ্ছ

তোমার অতীত আমাকে দিয়ে 

তোমায় দেখতে আমি ১৫০০ মাইল পেরিয়ে এসেছি

চেয়েছিলাম শুধু আমাকে চাও তুমি, কিন্তু চাইলে না। ’

বলেছেনও কেলি, আমার বয়স এখন ৩৩। বলা যায় প্রাপ্তবয়স্কা। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না, যদি তুমি ভালোবাসা না দাও। কেলির জন্ম ১৯৮২ সালে। তিনি একই সঙ্গে গায়িকা, সংগীত লেখক এবং শিশুতোষ গ্রন্থ লেখক। তাঁর বই ‘রিভারসাইড লুলাবাই’ সামনের অক্টোবরে বাজারে আসছে। ২০০২ সালে আমেরিকান আইডলের ফার্স্ট সিজন বিজয়ী তিনি। তাঁর অভিষেক সিঙ্গেল ‘বিফোর ইওর লাভ’ বিলবোর্ড হট হান্ড্রেড ১০০-তে জায়গা করে নেয় এবং ওই বছর সেটি ছিল টপ সেলিং সিঙ্গেল।

পরের বছর ওয়ার্ল্ড আইডলে রানার আপ হন তিনি। তাঁর প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম ‘থ্যাংকফুল’ ২০০৩ সালে বিলবোর্ড টু হান্ড্রেডে জায়গা পায়। বিক্রি হয় ৪৫ লাখ  কপি। দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ব্রেকঅ্যাওয়ে’ প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। বিক্রি হয় ১৫ কোটি কপি। অ্যালবামটি বেস্ট পপ ভোকাল অ্যালবাম অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয়। তিনি নিজেও বেস্ট ফিমেল পপ ভোকাল পারফরম্যান্স পুরস্কার পান। ২০০৭ সালে বের করেন তৃতীয় অ্যালবাম ‘মাই ডিসেম্বর’। ২০০৯ সালে ‘অল আই এভার ওয়ান্টেড’। এর ‘মাই লাইফ উড সাক উইদাউট ইউ’ গানটি বিলবোর্ড হট হান্ড্রেডে এক নম্বর জায়গা করে নেয়। ২০১১ সালে আসে তাঁর পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম ‘স্ট্রংগার’। ২০১৩ সালে প্রকাশিত ‘র‌্যাপড ইন রেড’ বছরের বেস্ট সেলিং হলিডে অ্যালবাম হয়। গেল বছর প্রকাশ পেয়েছে পিস বাই পিস।

কেলির জন্ম টেক্সাসে। তিন ভাইবোনের সবার ছোট কেলি। বয়স যখন ছয়, তখন মা-বাবার ছাড়াছাড়ি। কেলির মা পরে জিমি টেইলর নামের একজনকে বিয়ে করেন। কেলি বড় হয়েছেন দক্ষিণী ব্যাপ্টিস্ট ধারায় (ব্যাপ্টিস্টদের উত্তর ধারাও আছে, তবে আমেরিকায় দক্ষিণী ধারার জনসংখ্যা বেশি)। কেলি বলছিলেন, ‘আমি চার্চেই বড় হয়েছি। চার্চের ইয়থ গ্রুপের নেতা ছিলাম। আমার পরিবার খুব রক্ষণশীল ছিল, রবি আর বুধবারে চার্চে যেতাম। ’

পড়াশোনা করেছেন পলিন হিউজেস মিডল স্কুলে। সেখানকার কয়্যার শিক্ষক সিনথিয়া গ্লেন তাঁর গান শুনে ফেলেছিলেন হঠাৎই। সিনথিয়া মেয়েটিকে শুনে অবাক হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যত্ন নিতে। পরে কেলি বার্লসন হাই স্কুলে ভর্তি হন এবং সেখানে গান গাওয়ার অনেক সুযোগও পান।

সেখানে অ্যানি গেট ইওর গান বা সেভেন ব্রাইডস ফর সেভেন ব্রাদার্সের মতো মিউজিক্যালে গাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন কেলি। শোনার পর শ্রোতাদের একজন বলেছিল, সৃষ্টিকর্তা তোমাকে এত সুন্দর গলা দিয়েছে, তোমার উচিত গানটা ধরে রাখা। কেলি গান ধরে রাখার জন্য ক্লাসিক্যাল মিউজিকে তালিম নেওয়া শুরু করেন।

কেলি আশা করছিলেন গান তাঁকে কলেজে কোনো না কোনো স্কলারশিপ পাইয়ে দেবে। তাঁর আশা সত্যও হয়। স্নাতক করার পর নর্থ টেক্সাসের দি ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন এবং বার্কল কলেজ অব মিউজিক তাঁকে ফুল স্কলারশিপ দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু সুযোগটি গ্রহণ করেননি এ গায়িকা। এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য ছিল, ‘আমি এরই মধ্যে অনেক গান লিখেছি। এবং নিজের মতো করে ক্যারিয়ার গড়তে চাই। ’

২০০১ সালে মিউজিকে ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছা নিয়ে যান লস অ্যাঞ্জেলেসে। সাবরিনা, দ্য টিনএজ উইচের মতো কিছু টিভি সিরিজে তিনি এক্সট্রার রোল পেয়েছিলেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের গীতিকার গ্যারি গোফিন তাঁর পাঁচটি গান রেকর্ড করেন। রেকর্ডগুলো নিয়ে কেলি গিয়েছিলেন কম্পানিগুলোর দ্বারে দ্বারে। প্রায় সব জায়গা থেকে একই জবাব, গানগুলো বেশি গাঢ়। দুঃখ নিয়ে ফিরে যান বার্লসনে। সেখানে মুভি থিয়েটারে কাজ করেন কিছুদিন। তার পরই আসে আমেরিকান আইডল।

নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, তাঁর (কেলির) এমন একটি গলা আছে, যা সবাইকে নাড়া দিতে সক্ষম। হুইটনি হিউস্টন, মারায়া কেরি ও ক্রিস্টিনা অ্যাগুইলেরা কেলির পছন্দের শিল্পী।


মন্তব্য