kalerkantho

26th march banner

ভোলা তো যায় না তারে

কাল মুক্তি পাবে রফিক সিকদারের ‘ভোলা তো যায় না তারে’। ছবির নায়ক-নায়িকা নিরব ও তানহা তাসনিয়াকে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান, ছবি তুলেছেন সুমন ইসলাম আকাশ

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভোলা তো যায় না তারে

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুদ্র ও নীলাঞ্জনা। একে অন্যকে প্রচণ্ড ভালোবাসে। বাধা হয়ে দাঁড়ায় ধর্ম—রুদ্র মুসলমান, নীলাঞ্জনা হিন্দু। নীলাঞ্জনার বড়লোক বাবা তাদের আলাদা করতে চায়। তখনই রুদ্রর শরীরে ধরা পড়ে জটিল রোগ। নীলাঞ্জনার বিয়ে হয়ে যায় আরেকজনের সঙ্গে। ‘ভোলা তো যায় না তারে’র গল্প এখানেই শেষ নয়। বাকিটা বলতে চাইলেন না রুদ্র, মানে ছবির নায়ক নিরব। ‘দর্শক হলে গিয়ে ভালো একটা গল্প দেখতে চায়, এই ছবিতে একটা গল্প আছে। সচরাচর আমরা ছবিতে দেখি নায়ক-নায়িকার দুঃখ, কষ্ট, প্রেমে পড়া, মিলন—সবই একই রকম। এই বিষয়গুলো আমাদের ছবিতেও আছে, তবে উপস্থাপনটা ভিন্ন। এডিটিংয়ের আগ পর্যন্ত আমি ছবির কিছু বুঝিনি। যেদিন প্রিমিয়ার হলো, পুরো ছবি দেখে পরিচালককে জড়িয়ে ধরলাম। বললাম, আপনি সত্যিই অসাধারণ কিছু দেখিয়েছেন। আমার মনে হয় না, হল থেকে কোনো দর্শক পুরোটা শেষ না করে উঠতে পারবে’, বললেন নিরব।

অনলাইনে চলচ্চিত্রটির ট্রেলার প্রশংসিত হয়েছে। সাধুবাদ পেয়েছে প্রিমিয়ারেও। ইমরান, আরফিন রুমি ও বেলাল খানের করা তিনটি গানই পেয়েছে জনপ্রিয়তা।

২০১৪ সালের শুরুতে শুটিং শুরু, শেষ হয় গত বছরের মাঝামাঝি। ২০০২ সালে বইমেলায় প্রকাশিত হয় ছবির পরিচালকের উপন্যাস ‘পদ্মা পাড়ের পার্বতী’, সেখান থেকেই চিত্রনাট্য। প্রতিটি দৃশ্য যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে শিল্পীদের নাকি বেশ খাটিয়েছেন পরিচালক। ‘একজন সহশিল্পী মোবাইল হাতে নিয়ে তিনটি বাটন চেপেই মোবাইল কানে নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন। কাট। পরিচালকের কথা ১১ ডিজিট ডায়াল করেই কল দিতে হবে। মাঝেমধ্যে আমি বিরক্ত হয়ে যেতাম। একবার তো ঝগড়াই লেগে গিয়েছিল। আর শুটিং করব না বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। পরে অন্যরা আমাদের দুজনকে বুঝিয়ে শান্ত করেছেন। এ সব হয়েছে তাঁর খুঁতখুঁতে স্বভাবের জন্য। বলছিলাম, তিনটির সঙ্গে আর একটা গান যোগ করেন। তাঁর সোজা উত্তর, আমার সে ছবি না, যার গল্প নেই পাঁচটা গান আর মারামারি দিয়ে ছবি শেষ। আমার ছবির গল্পই ছবির মূল আকর্ষণ’, বললেন নিরব।

পরিচালকের প্রথম সিনেমা। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ধলেশ্বরী, এমনকি নায়িকা তানহা তাসনিয়ারও এটি প্রথম ছবি। তানহা বলেন, ‘এই ছবির মাধ্যমেই ক্যামেরার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। অনেক বকাঝকা খেতে হয়েছে। অনেক ইমোশনাল দৃশ্যে অভিনয় করতে হয়েছে। শুরুতে তো কাঁদতেই পারতাম না। কাঁদতে গেলে নিজের কাছেই ফানি লাগত। এমনও হয়েছে পরিচালকের বকা খেয়েই কেঁদে দিয়েছি। ’

নিরবের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন? ‘আমি তাঁর ফেসবুক ফ্রেন্ড। তাঁর মাধ্যমেই তো এই ছবিতে সুযোগ পেয়েছি। কিভাবে ক্যামেরায় তাকাতে হয়, এক্সপ্রেশন দিতে হয়, কিছুই জানতাম না। তিনি আর পরিচালক হাতে ধরে শিখিয়েছেন’, বললেন তানহা।

নিরব বলেন, ‘চরিত্র অনুযায়ী যেমন মেয়ে দরকার ছিল, ও ঠিক তেমনটাই। ও যে মানের অভিনয় করেছে তাতে ওকে কেউ নবাগতা বলতে পারবে না। ’

নায়ক-নায়িকা, পরিচালক মিলে ছবির প্রচারণা চালাচ্ছেন বেশ। বিভিন্ন চ্যানেলে ১০ সেকেন্ডের টিজার যাচ্ছে। ইউটিউব, ফেসবুক, পোস্টারিং—সব মাধ্যমেই ছবিটির বিজ্ঞাপন চোখে পড়ছে।

নিরব এখন তিনটি ছবির শুটিং করছেন—টার্গেট, গেইম রিটার্নস ও মেয়ে কার। তানহা করছেন শাকিব খানের বিপরীতে ‘ধূমকেতু’ ও বাপ্পির বিপরীতে ‘জানবাজ’-এর শুটিং।


মন্তব্য