kalerkantho


সুস্বাগত ইলুভেইটি

১৬ মে ঢাকায় গান করবে সুইজারল্যান্ডের ব্যান্ড ইলুভেইটি। আট সদস্যের এ ব্যান্ডকে নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন সালেহ শফিক

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সুস্বাগত ইলুভেইটি

ইলুভেইটির সদস্যরা হলেন : শিরেল গ্লাঞ্জম্যান—ভোকাল, ম্যানডোলা, হুইসেল, পাইপ, গাইতা, হার্প মেরলিন সাতার—ড্রামস আইভো হেনজি—রিদম গিটার আনা মারফি—হার্ডি-গার্ডি, ভোকালস কে ব্রেম—বেজ গিটার রাফায়েল সালজম্যান—লিড গিটার মাত্তেও সিস্টি—ব্যাগপাইপস, হুইসেল শির-রান ইনন—ভায়োলিন, ভোকাল

ইলুভেইটি গায় ফোক মেটাল। জুরিখে দলটির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ২০০২ সালে।

প্রতিষ্ঠাতার নাম শিরেল গ্লাঞ্জম্যান। ২০০৩ সালেই প্রথম এক্সটেনডেড প্লে (ইপি) করেন গ্লাঞ্জম্যান। নাম ছিল ‘ভেন’। ইপিটি গ্লাঞ্জম্যানের একক প্রয়াসেই বেরিয়েছিল এবং ছিল স্টুডিও প্রজেক্ট। এর সাফল্য ছিল দারুণ। তাই গ্লাঞ্জম্যান আস্ত একটি দল বানাতে চাইলেন। তিনি আরো ৯ জন জোগাড় করলেন। সব মিলিয়ে হলো ১০ জন। দলটি প্রথম গায় সুইস মেটাল উৎসবে। তারপর গেয়েছিল ফিয়ার ডার্ক ফেস্টিভালে। বিখ্যাত মেটাল দল কর্পিকালানির মতো তারাও বেশি গাইত পাগান ফোক মেটাল। মেটাল ধারার গানের এটি একটি বিশেষ রকম। খ্রিস্টধর্ম প্রসারের আগে ইউরোপে যে পৌত্তলিক সংস্কৃতি ছিল তার প্রতিরূপ তৈরির চেষ্টা থাকে এ রকম গানে। একে এক্সট্রিম মেটাল বলে অনেকে। অনেকে বলে ব্ল্যাক মেটাল। ইলুভেইটির ফেসবুক পাতায় সদস্যদের যে ছবি দেওয়া আছে তা দেখলে আন্দাজ করা কষ্ট হয় না যে এরা গতানুগতিক নয়।

উইকিপিডিয়া বলছে, পাগান ফোক মেটালকে গানের ধরন হিসেবে না দেখে বরং একে দেখা উচিত একটি চিন্তাপ্রক্রিয়া হিসেবে। ভাইকিং বা অন্য বিশেষায়িত জনগোষ্ঠীর কথা মনে রেখেছে পাগান ফোক মেটাল ব্যান্ডগুলো। তাই তাদের থাকে বিশেষ ধরনের বাদ্যযন্ত্র। গানের কথায়ও থাকে অনেক অচেনা শব্দ বা অদ্ভুত আওয়াজ। এতে মারাত্মক ক্ষোভ উগড়ে দেওয়ার চেষ্টা থাকে।

যা হোক ইলুভেইটি ভালোই গাইছিল উৎসবাদিতে। চুক্তিও করে ডাচ রেকর্ড লেবেলের সঙ্গে। কিন্তু দলের সদস্যরা পরস্পরের সঙ্গে মিলতে পারছিল না। এক-দুজন করে চলে যাচ্ছিল, তবে যোগও দিয়েছে কয়েকজন। এর মধ্যে বেইস গিটারের রাফি উল্লেখযোগ্য। দলটি ২০০৬ সালে জার্মান-আইসল্যান্ডিক দল ফালকেনবাখকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি অ্যালবাম প্রকাশ করে। এর মধ্যে একটি গান ছিল। নাম—‘বানাডিস’ (মহিলা যোদ্ধা বোঝায় যে বিরাট সৈন্যদলের নেতৃত্বে থাকে)। গানটির কয়েকটি বাক্য এমন—

ও মুখ ঢাকা মানুষ

হাতে কুঠার নিয়ে চলেছ

শস্যক্ষেত্র মাড়িয়ে

তোমার ছেলেদের কথা ভাবো ও বানাডিস

আমাদের পথে আলো দিও ও মানালিস।

২০০৬ সালের মাঝামাঝি তারা ‘স্পিরিট’ নামের নতুন অ্যালবাম আনে। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তারা জার্মান দল ওড্রোইয়েরের সঙ্গে ইউরোপ ঘুরে বেড়ায়। বছরের শেষে তারা জার্মান লেবেল টোয়ালাইট রেকর্ডসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। ২০০৭ সালের গোড়ায় তারা র‌্যাগনারক উৎসবে গান করে। এটি একটি পাগান মেটাল উৎসব। ২০০৪ সাল থেকে হয়ে চলেছে জার্মানিতে। ২০০৮ সালে তারা এভোকেশন (প্রেতাত্মা আহ্বান কার্যক্রম) নামের একটি প্রকল্প শুরু করার কথা ঘোষণা দেয়। এ প্রকল্পের প্রথম অ্যালবাম ‘দি আরকেন ডমিনিয়ন’ প্রকাশ পায় ২০০৯ সালের এপ্রিলে। একই বছর তারা ‘এভরিথিং রিমেইন’ (অ্যাজ ইট ওয়াজ নেভার) নামের একটি অ্যালবাম তৈরির কাজ শুরু করে। ২০১০ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি সেটি প্রকাশ পায়। ওই বছরই ইলুভেইটি দক্ষিণ আমেরিকায় চক্কর দেয়। আগস্ট মাসে তারা মেটাল হ্যামার পুরস্কার লাভ করে। ২০১২ সাল ইলুভেইটির সুখের কাল। তাদের হেলভেটিওস অ্যালবামটি সমাদর পায়। মেটাল ব্লাস্ট নামের সাময়িকী উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে এবং গ্লাঞ্জম্যান জানান, তিনি ইতিমধ্যে ‘এভোকেশন-২’-এর গান লেখা শুরু করেছেন। ২০১৪ সালে ইলুভেইটি সুইস মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস লাভ করে। ওই বছরই আরকোনা এবং স্কালমোল্ড নামের দুটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান তাদের আবার ইউরোপ ঘোরাতে নিয়ে যায়। ওই ট্যুরে তারা ঘোষণা দেয়, আগস্টের ১ তারিখে আনবে অরিজিনস। এ অ্যালবামে তারা গলিশ মিথলজি (কেল্টিক দেবতা, ধর্মাচার ইত্যাদি) নিয়ে কাজ করে। ২০১৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তারা ঘোষণা দেয় ‘এভোকেশন-২’-এর কাজ চলছে। চলতি বছরের মাঝামাঝিতে অ্যালবামটি প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


মন্তব্য