kalerkantho

25th march banner

ফওয়াদনামা

হতে পারতেন মডেল, কম্পিউটার প্রকৌশলী কিংবা বৈমানিক প্রকৌশলী। শেষ পর্যন্ত অভিনেতা পরিচয়টাকে বেছে নিলেন। ফওয়াদ আলফাজ খানের দ্বিতীয় বলিউডি ছবি ‘কাপুর অ্যান্ড সন্স’ মুক্তি পাচ্ছে আগামীকাল। জানাচ্ছেন খালিদ জামিল

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ফওয়াদনামা

নায়িকারা তো পছন্দ করেনই বাদ যান না তাঁদের মায়েরাও। ফওয়াদের শুটিং চলছিল লন্ডনে। সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চলে এসেছেন রণবীর কাপুরের মা অভিনেত্রী নিতু সিং। আবদার জুড়ে দিলেন ছবি তুলবেন ফওয়াদের সঙ্গে। শুধু নিতুই নন। তাঁর নতুন ছবি ‘কাপুর অ্যান্ড সন্স’-এর নায়িকা আলিয়া ভাটের মাও চলে এলেন শুটিং স্পটে ফওয়াদকে দেখার জন্য। তাঁর প্রতি নারীদের এই ভালোবাসা ফওয়াদকে এক রকম লজ্জায়ই ফেলে দেয়। সেই ১৩ বছর বয়সেই মডেলিং দিয়ে শোবিজ যাত্রা শুরু হলেও এখনো লজ্জাটা তাঁর সেভাবে কাটেনি। এ জন্য নাকি তিনি ছবিতে কোনো চুমুর দৃশ্যেও অভিনয় করতে চান না। তবে নিজের কাজের ব্যাপারে বেশ সিরিয়াস ফওয়াদ। যাই করুন নিজের পুরো এক শ ভাগ দিয়ে করতে চান। ‘কাপুর অ্যান্ড সন্স’-এ অভিনয় করার জন্য ছেড়ে দিয়েছিলেন বলিউড ব্লকবাস্টার ছবি ‘পিকে’। সেখানে ফওয়াদ খানের করার কথা ছিল পাকিস্তানি দূতবাসকর্মী সরফরাজের চরিত্রটি।

মডেলিংয়ের পাশাপাশি সংগীতশিল্পী হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। মাথায় চুলও রেখেছিলেন ঝাঁকড়া। ২০ বছর বয়সেই গিটার, বেজ গিটার আর ড্রামস বাজানোয় হয়ে ওঠেন পটু। ‘এনটিটি প্যারাডাইম’ নামের একটা ব্যান্ডও ছিল ফওয়াদের। গানও গাইতেন তাতে। তবে অভিনয়টা জোরেশোরে শুরু করার পর শিকেয় ওঠে গান-বাজনা। প্রথম ছবি ‘খুদা কি লিয়ে’(২০০৭)-এর সফলতার পরেও তাঁকে নিয়মিত ছোট পর্দাতেই দেখা যেতে লাগল। সাত বছর পর দ্বিতীয় ছবি করতে ফওয়াদ খান হাজির হন বলিউডে। ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ছবি ‘খুবসুরত’ দিয়েই বলিউডে অভিষেক হয় তাঁর। তখন থেকেই ভারতকে পাকিস্তানের চেয়ে আলাদা কোনো দেশ বলে মনে হয়নি। বাবার চাকরি সূত্রে ছোটবেলা থেকেই দুবাই থেকে শুরু করে ঘুরে বেড়িয়েছেন এথেন্স, রিয়াদ, ম্যানচেস্টার পর্যন্ত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে ভারতের উত্তর প্রদেশ! ‘খুবসুরত’-এর পর তাঁর দ্বিতীয় ভারতীয় ছবি ‘কাপুর অ্যান্ড সন্স’ মুক্তি পাচ্ছে আগামীকাল। শকুন বাটরা পরিচালিত এই ছবিতে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, আলিয়া ভাট ও ঋষি কাপুরের মতো বলিউডি তারকারা। ছবির চিত্রনাট্যটা হাতে পেয়ে বেশ সময় নিয়েই পড়া শুরু করেন। অনেকটা বই পড়ার মতো করেই চিত্রনাট্যটি পড়ে শেষ করেন। তবে শেষ করার আগেই সিদ্ধান্ত নেন এই ছবিতে তিনি অভিনয় করবেনই। এতে অভিনয় করা তাঁর চরিত্রটাকে অনেকটাই বাস্তবিক মনে হয়েছে। আগে অভিনয় করা তাঁর কোনো চরিত্রের সঙ্গে এটাকে মেলানো যাবে না। গল্পটাই নাকি দারুণ পছন্দ হয়েছে ফওয়াদের। নিজের নতুন হিন্দি ছবি নিয়ে ফাওয়াদ বলেন, ‘কাজটা বেশ উপভোগ করেছি। শুধু আমার নাচের অদক্ষতা নিয়ে ভুগতে হয়েছে সবাইকে। সিদ্ধার্থ আর আলিয়া তো কয়েক দিন অনুশীলন করেই নাচের মুদ্রাগুলো রপ্ত করে ফেলেছিলেন। কিন্তু আমার কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। ’ নাচে পারদর্শী না হলেও অভিনয় দিয়ে সেই সীমাবদ্ধতা পূরণ করে নিয়েছেন ফওয়াদ। তিনিই প্রথম পাকিস্তানি, যার হাতে উঠেছে ‘সেরা অভিনেতা’র ফিল্মফেয়ার পুরস্কার।


মন্তব্য