kalerkantho


শাকিব খান ভুল বলেছেন

কাল মুক্তি পাবে ওমর সানী অভিনীত ‘মিয়া বিবি রাজি’। গত দুই মাসে এটি তাঁর তিন নম্বর ছবি। নতুন করে ব্যস্ত হওয়া এ অভিনেতার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ কুমার দীপ। ছবি তুলেছেন জনি ইব্রাহিম

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শাকিব খান ভুল বলেছেন

নিয়মিতই ছবি মুক্তি পাচ্ছে। কেমন লাগছে?

খুব ভালো। দুই মাসের মধ্যে তিনটি ছবি। প্রতিটি ছবিতেই আমার চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ। কোনোটিতে নায়ক, কোনোটিতে চরিত্রাভিনেতা। কাল মুক্তি পেতে যাওয়া ‘মিয়া বিবি রাজি’র গল্পও আমার চরিত্রকে কেন্দ্র করে। নতুন করে আমাকে নিয়ে পরিচালকরা ভাবছেন বলে খুশি হয়েছি।

দীর্ঘদিন পর ‘রাজা ৪২০’ ছবিতে নায়ক হলেন। দর্শক সাড়া কেমন?

আমাকে নিয়ে পরিচালক উত্তম আকাশ একটা বাজি ধরেছিলেন। ছবিতে শাকিব খান থাকা সত্ত্বেও তিনি আমার চরিত্রকে সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। গান, মারপিট থেকে শুরু করে সংলাপও দারুণ।

দর্শক ছবিটি দারুণ উপভোগ করেছে। পরিচালক তাঁর বাজি জিতেছেন। এ বছরে এখন পর্যন্ত এ ছবিটিই ব্যবসাসফল। বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখেছি আমার দৃশ্য এলে দর্শক বেশ নড়েচড়ে বসে।

ছবি ব্যবসাসফল হলেও অনেকে কিন্তু শাকিব খানকে ক্রেডিট দিচ্ছেন। আপনাকে নিয়ে আলোচনা কম।

শাকিব এ সময়ের ক্রেজ। এটা হতেই পারে। তবে শাকিব নিজে কিন্তু আমার অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন।

আপনি নিজেও সম্প্রতি ফেসবুকে শাকিবের প্রশংসা করেছেন।

শাকিব ইন্ডাস্ট্রি টিকিয়ে রেখেছেন। আল্লাহ ওঁর মধ্যে আলাদা একটা গুণ দিয়েছেন। প্রশংসা না করে উপায় নেই।

একক নায়ক হিসেবে নতুন কোনো ছবি করছেন?

এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ছবির কথা চলছে। মুশফিকুর রহমান গুলজারের ‘লাল সবুজের সুর’-এর শুটিং শেষ করলাম। এটি আমার অভিনীত প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ছবি। আমাকে ঘিরেই গল্প।

আবার প্রযোজনায় আসার ঘোষণা দিয়েছেন?

পরিচালক উত্তম আকাশ এখন কানাডায়। তিনি দেশে ফিরলেই কাজ শুরু করব। মোবাইলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছি। গল্প লেখার কাজও চলছে। শিগগির সবাই জানতে পারবেন।

দিনের পর দিন ছবির ব্যবসা কমে যাচ্ছে। কারণটা কী?

তামিল, তেলেগু ছবির গল্প আর আমাদের দেশে চলবে না। দর্শক আবার মৌলিক গল্প চায়। সামাজিক সেন্টিমেন্ট থাকতে হবে গল্পে। জসিম-শাবানা, রাজ্জাক-কবরীর সময়কার পারিবারিক গল্প লাগবে। নইলে দিন দিন অবস্থা আরো খারাপ হবে।

ছোট পর্দায়ও কিন্তু আপনাকে নিয়মিত দেখা যায়।

এর মধ্যে দুটি কাজ করেছি। একটির পরিচালক আমার ছেলে ফারদিন এহসান স্বাধীন। তবে চলচ্চিত্রে ব্যস্ততা বাড়ার কারণে ছোট পর্দায় আর সময় দিতে পারছি না।

নতুন আর কোনো বিজ্ঞাপন করছেন?

আরএফএলের বিজ্ঞাপনটি জনপ্রিয় হওয়ার পর বেশ দ্বিধায় পড়েছি। এর মধ্যে বেশ কিছু কম্পানি যোগাযোগ করেছে। কিন্তু কোনোটিই মনের মতো হচ্ছে না। ভয় পাচ্ছি, যদি ক্লিক না করে।

যৌথ প্রযোজনার ছবিতে একসময় আপনি কাজ করেছিলেন। এখনকার যৌথ প্রযোজনাকে অনেকেই ‘যৌথ প্রতারণা’ বলছে। আপনি কী মনে করেন?

আসলেই যৌথ প্রতারণা। ‘অঙ্গার’, ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’, ‘আশিকী’সহ এ ঘরানার কোনো ছবিকেই আমি যৌথ প্রযোজনা বলতে রাজি নই। তবে শেষদিকে এসে ‘শিকারি’ ছবিটিকে খানিকটা স্বচ্ছ মনে হয়েছে। নায়ক আমাদের, নায়িকা কলকাতার। তা ছাড়া চরিত্রাভিনেতারাও দুই দেশের সমান। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত ঠিক থাকে কি না!

শাকিব খান শিল্পী সমিতির সভাপতি। তিনি বলেছেন, দুই বাংলা এক হলে বাজার বাড়বে। আপনি একজন শিল্পী হিসেবে এটাকে কিভাবে দেখছেন?

শাকিব খান ভুল বলেছেন। এটা কখনো সম্ভব নয়। দুই দেশের সংস্কৃতি কখনো এক হতে পারে না। সম্প্রতি কলকাতার ছবি ‘বেপরোয়া’ মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশে। কয়জন দেখেছে? ‘বেলাশেষে’র মতো ছবিও কিন্তু ইউটিউব কিংবা টিভিতে দেখেছে সবাই। টাকা খরচ করে হলে গিয়ে দেখেনি। অতএব এসব চিন্তা করে লাভ নেই। শাকিব যেহেতু এ কথা বলেছেন, আমি তাঁকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি। কলকাতার জিৎ আর দেব এক ছবিতে থাকবেন আর এ দেশ থেকে শাকিব আর আমি। দুটি ছবি একই দিন মুক্তি দিলে দর্শক যদি আমাদেরটা না দেখে, তাহলে আমি হাতে চুড়ি পরে ঘরে বসে থাকব। অভিনয় বন্ধ করে দেব।


মন্তব্য