বোরাত, ব্রুনো কিংবা আলি জি-334119 | রঙের মেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


বোরাত, ব্রুনো কিংবা আলি জি

বরাবরই অদ্ভুত ধরনের চরিত্র করেন তিনি। সেসব চরিত্রের মুখ দিয়ে উঠে আসে সমাজ আর রাষ্ট্রের নানা রকম অসংগতির কথা। আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে সাশা ব্যারন কোহেনের নতুন ছবি ‘দ্য ব্রাদার্স গ্রিমসবি’। জানাচ্ছেন নাবীল অনুসূর্য

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বোরাত, ব্রুনো কিংবা আলি জি

কেমন করে জানি অভিনয়ে এসে পড়লেন সাশা। নিজে কমেডিয়ান-অভিনেতা হলেও লেখেন চিত্রনাট্য। অদ্ভুত সেসব চিত্রনাট্য। সবচেয়ে অদ্ভুত তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলো। এতটাই  উদ্ভট যে তিনি ছাড়া আর কেউই সেগুলোতে অভিনয় করতে পারেন না। এই যেমন ‘আলি জি’ ‘বোরাত সেগদিয়েভ’, ‘ব্রুনো গেহার্ড’ কিংবা ‘অ্যাডমিরাল জেনারেল আলাদিন’। প্রতিটি চরিত্রেই তাঁকে এতটাই মানিয়ে যায় যে মনে হয় যেন চরিত্রগুলো তিনি নিজের কথা ভেবেই লিখেছেন।

অভিনয় দিয়ে নাম কামালেও সাশার শুরুটা কিন্তু মডেলিং দিয়ে, তাতে খানিকটা নামডাক হলে বিবিসিসহ কয়েকটি টিভি চ্যানেলে উপস্থাপনাও করেন। তবে সাশার ক্যারিয়ারের গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করে দেয় ‘আলি জি’। ১৯৯৮ সালে চ্যানেল ফোরের ‘দ্য ইলেভেন-ও ক্লক’ শোতে প্রথমবারের মতো আলি জিকে নিয়ে হাজির হন সাশা। অশিক্ষিত ও অসভ্য ধরনের এই কমেডি চরিত্রটি তুমুল জনপ্রিয় হয়। ২০০০ সালে তিনি শুরু করেন ‘দ্য আলি জি শো’। সে বছরই কমেডি বিভাগে জিতে নেন বাফটা অ্যাওয়ার্ড। ২০০২ সালে আলি জিকে নিয়ে তৈরি হয় সিনেমা ‘আলি জি ইন্ডাহাউস’।

চলচ্চিত্র পরিচালক ল্যারি চার্লসের সঙ্গে জুটি বেঁধে বেশ কয়েকটি কমেডি সিনেমায় কাজ করেন সাশা। প্রতিটিই যেমন ভীষণ হাসির, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপগুলোও রীতিমতো কঠোর। ২০০৬ সালে এই জুটি মুক্তি দেয় ‘বোরাত’। এতে অভিনয়ের জন্য গোল্ডেন গ্লোব জিতে নেন সাশা। এরপর দ্য আলি জি শোয়ের আরেকটি চরিত্র ব্রুনো গেহার্ডকে নিয়ে বানান ‘ব্রুনো’। সিনেমাটা মুক্তি পায় ২০০৯ সালে। আর ২০১২ সালে মুক্তি পায় এই জুটির ‘দ্য ডিক্টেটর’। এই পলিটিক্যাল স্যাটায়ার চরিত্র সম্পর্কে বিবিসি মজা করে লিখেছিল, ‘এক স্বৈরশাসকের নায়কোচিত কাহিনী, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে তার প্রিয় স্বদেশে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা রোধ করে।’

নতুন সিনেমা ‘দ্য ব্রাদার্স গ্রিমসবি’তেও তাঁকে দেখা যাবে উদ্ভট এক চরিত্রে, কার্ল ‘নবি’ বুচার। ব্রিটেনের এক অখ্যাত মফস্বল শহর গ্রিমসবিতে থাকে বোকার হদ্দ নবি। ওর ছোটবেলায় হারিয়ে যাওয়া ভাই হচ্ছে সেবাস্তিয়ান বুচার। সেবাস্তিয়ান এখন এমআই সিক্সের শীর্ষ গুপ্তঘাতক। হঠাৎ একদিন দেখা হয় তাদের। এরপর পরিস্থিতি এমন দাঁড়াল যে পৃথিবী রক্ষা করতে সেবাস্তিয়ানকে ওর বোকা ভাইকে নিয়ে এক মিশনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়। ব্যারন কোহেন সিনেমায় যে শুধু উদ্ভট চরিত্রেই অভিনয় করেন, তাই নয়, তাঁর গেটআপ-কস্টিউমগুলোও যথেষ্ট অদ্ভুত। আলি জি, বোরাত, ব্রুনো, আলাদিন—প্রতিটা চরিত্রেরই পোশাক-পরিচ্ছদ এক কথায় কিম্ভূত। সেই ধারাবাহিকতা দেখা যাবে নবির পোশাকেও। এই ছবির সূত্র ধরেই সাশা আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের রিপাবলিক পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে উত্তেজনা জমে উঠেছে। এমনিতেই ট্রাম্পকে একদমই পছন্দ করেন না সাশা। একাধিকবার প্রকাশ্যেই তিনি সে কথা জানিয়েছেন। কয়েক দিন আগে লস অ্যাঞ্জেলেসে সিনেমাটির প্রচার করতে গিয়ে রসিয়ে রসিয়েই ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়েছেন এই বলে যে ‘আজকে আমার নতুন সিনেমার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ এক বিষয় নিয়ে কথা বলতে এসেছি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থনের ঘোষণা দিলাম। কেননা তাঁর শোভাযাত্রাগুলোর সঙ্গে আমাদের ব্রিটিশ ফুটবল ম্যাচের অনেক মিল। দুটিই ভীষণ সহিংস, দুটিতেই চলে তুমুল গালিগালাজ। পার্থক্য একটাই, কৃষ্ণাঙ্গদের ধরে ধরে বের করে দিই না আমরা।’

মন্তব্য