রেকর্ড ভাঙা চীনা মত্স্যকন্যা-334115 | রঙের মেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


রেকর্ড ভাঙা চীনা মত্স্যকন্যা

‘দ্য মারমেইড’কে বলা হচ্ছে চীনের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা। এই পর্যন্ত চীনের বক্স অফিসে আয় করেছে ৫০ কোটি ডলার। ছবির পরিচালক ‘শাওলিন সকার’ ও ‘কুংফু হাসল’খ্যাত স্টিফেন চাউ। লিখেছেন নূসরাত জাহান

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রেকর্ড ভাঙা চীনা মত্স্যকন্যা

এক যে ছিল জলকন্যা। সে প্রেমে পড়ে গেল এক মানুষের। তারপর মানুষ আর জলের বাসিন্দাদের মধ্যে লেগে গেল ধুন্ধুমার কাণ্ড। মোটামুটি এই হলো চিরায়ত রূপকথা। কিন্তু চীনা পরিচালক স্টিফেন চাউ চাইলেন রূপকথার মধ্যে একটু আধুনিকতা থাকুক। ব্যস, ঢুকিয়ে দিলেন এক চামচ পরিবেশবাদী মসলা। জলকন্যাদের নিয়ে এলেন এ সময়ের সাগরে। দেখালেন মানুষের তৈরি যন্ত্রপাতি কী করে তাদের বাসস্থান আর স্বাস্থ্যের বারোটা বাজাচ্ছে। আর এটাই জাদুমন্ত্রের মতো কাজ করল। ছয় কোটি ডলারে বানানো ‘দ্য মারমেইড’ মুক্তির ১৪ দিনে তুলে নিয়েছে সাড়ে ৪১ কোটি ডলার। ভেঙে দিয়েছে ‘মনস্টার হান্ট’ ও ‘ফিউরিয়াস সেভেন’-এর রেকর্ড। এটাই এখন পর্যন্ত চীনের সবচেয়ে বেশি আয় করা ছবি।

কী এমন গল্প, যে চীনের যাবতীয় কুংফু কারাতের ছবিকে ডিঙিয়ে এমন ব্যবসা করে নিল মারমেইড? ধনকুবের ব্যবসায়ী জুয়ান ও মত্স্যকন্যা শানের গল্প। ‘গ্রিন গালফ’ নামে সমুদ্রের একটা অংশ কিনে নেন জুয়ান। সেখানেই থাকে মত্স্যমানবরা। যাদের মধ্যে আছে শানও। ওই জায়গার যাবতীয় সামুদ্রিক প্রাণীদের তাড়িয়ে দিতে চান  জুয়ান। সেখানে স্থাপন করেন একটি শব্দ নিক্ষেপক ‘সোনার যন্ত্র’। যার প্রভাবে অসুস্থ হয়ে মারা যেতে থাকে ‘মারপিপল’ ওরফে মত্স্যমানবরা। অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্যও হয়। যারা লড়াই করে টিকে থাকতে চায়, তারা ঠিক করে জুয়ানকে মেরে ফেলতে পারলেই সব সমস্যা চুকে যাবে। আর জুয়ানকে মারার মিশন হাতে নেয় শান। কারণ মানুষের মতো হাঁটতে পারে সে। মানুষের ছদ্মবেশে জুয়ানের সান্নিধ্যে আসার চেষ্টা করে শান। একপর্যায়ে সফলও হয়। কিন্তু হত্যার মিশন ধীরে ধীরে মোড় নেয় প্রেমের সম্পর্কে। এর পরই শুরু হয় সম্পর্কের টানাপড়েন আর উত্তেজনা। মত্স্যমানবদের মেনে নিতে পারে না ডাঙার বাসিন্দারা। অন্যদিকে শানও চায় না জুয়ানকে তার জাতির লোকেরা মেরে ফেলুক। মূলত রোমান্স আর ফ্যান্টাসির সঙ্গে আনুপাতিক হারে অ্যাকশন আর হালের স্পেশাল ইফেক্ট মেশানো সম্ভব হয়েছে বলেই হয়তো এ সিনেমা দর্শকদের এতটা কাছে পৌঁছাতে পেরেছে।

সমালোচকরাও প্রশংসার জলে ভাসিয়েছেন জলকন্যাকে। নিউ ইয়র্ক টাইমস বলেছে, এটা যেনতেন ফ্যান্টাসি নয়। মত্স্যমানবদের জীবনের গোছালো বিষয়-আশয় দেখেও মুগ্ধ ম্যাগাজিনটি। চাউয়ের অন্য ছবির মতো এই ছবিতেও হাস্যরসের কমতি নেই। আর সেটার বন্দনা করতে গিয়ে চলচ্চিত্র সমালোচক সাইমন আব্রামস লিখেছেন, আপনি সাবটাইটেল পছন্দ করুন আর না করুন, পরিচালকের নামটাও হয়তো শোনেননি আগে, জীবনে হয়তো একটি চায়নিজ ছবিও দেখেননি, তবু এ ছবি আপনাকে হাসতে বাধ্য করবে।

১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত শুধু অভিনয়ই করেছেন এ ছবির পরিচালক স্টিফেন চাউ। সে সময় পর্যন্ত তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল জ্যাকি চ্যানের সমান। এর পরই পরিচালনায় আসেন। ‘লাভ অন ডেলিভারি’ তাঁর প্রথম ছবি। সেই ছবিতে তিনি ছিলেন দুই পরিচালকের একজন। ‘ফ্রম বেইজিং উইথ লাভ’ও দুই পরিচালকের ছবি। পরিচালনার সঙ্গে চলছিল অভিনয়ও। ১৯৯৫ সালের ‘আ চায়নিজ অডিসি’তে অভিনয়ের জন্য দারুণ প্রশংসিত হন। অভিনয়ের পাশাপাশি সমানতালে চলতে থাকে পরিচালনাও। ‘ফরবিডেন সিটি কপ’, ‘কিং অব কমেডি’, ‘শাওলিন সকার’ ও ‘কুংফু হাসল’ তাঁর জনপ্রিয় ছবি। কাহিনী যেমনই হোক না কেন, অ্যাকশন আর কমেডি তাঁর ছবিতে থাকবেই। ২০০১ সাল থেকে নিয়মিত প্রযোজনাও করে আসছেন চাউ। ঝুলিতে আছে ‘আমস্টার্ডাম ফ্যান্টাস্টিক ফিল্ম’, ‘এশিয়া প্যাসিফিক ফিল্ম ফেস্টিভাল’, ‘ব্লু রিবন’সহ বেশ কিছু পুরস্কার।

মন্তব্য