kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘সেই হাসিমুখটা আর দেখতে পাব না’

৭ মার্চ গাছচাপা পড়ে মারা যান চিত্রশিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক খালিদ মাহমুদ মিঠু। তাঁর প্রথম ছবি ‘গহীনে শব্দ’তে অভিনয় করেছেন কুসুম শিকদার। মিঠুকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করেছেন তিনি

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘সেই হাসিমুখটা আর দেখতে পাব না’

খালিদ মাহমুদ মিঠু [১৯৬০-২০১৬]

মিঠু ভাইয়ের সঙ্গে প্রথম কাজ করি ২০০০ সালে। তখন আমি গান করতাম।

চ্যানেল আই আমার একটি গানের মিউজিক ভিডিওর দায়িত্ব দিয়েছিল মিঠু ভাইকে। গাজীপুরে শুটিং হয়। প্রথম দিন কাজ করে বুঝলাম, মিঠু ভাই খুবই মিশুক। কাজের ফাঁকে ফাঁকে নানা ধরনের গল্প করতেন। আস্তে আস্তে আমরা একটা পরিবারের মতো হয়ে গেলাম। মিঠু ভাই নতুন কোনো ছবি আঁকলে বা কাজের পরিকল্পনা করলে আমার সঙ্গে শেয়ার করতেন। মতামত জানতে চাইতেন। ‘গহীনে শব্দ’ পরিচালক হিসেবে তাঁর প্রথম ছবি, নায়িকা হিসেবেও আমার প্রথম ছবি। ছবির স্ক্রিপ্ট লেখার সময় থেকে তিনি আমার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কাজের ব্যাপারে মিঠু ভাইয়ের মতো সচেতন মানুষ অনেক কম। শুটিংয়ের সময়ই ঈদ এলো। ইউনিটের সবাই জানতেন, ঈদের সময় শুটিং হবে না। অন্তত তিন দিনের জন্য হলেও বিরতি পাওয়া যাবে। কিন্তু না। মিঠু ভাই বললেন, ‘প্রযোজকের ক্ষতি হোক তা আমি চাই না। সবাই এখন কাজে মজে আছি। এই গতি থাকতে থাকতেই শুটিংটা শেষ করতে চাই। ’ কাজের প্রতি তাঁর এমন নিষ্ঠা দেখে আমিও রাজি হয়েছি।

পরিচালক হিসেবে মিঠু ভাইকে মূল্যায়ন করার যোগ্যতা আমার নেই। প্রথম ছবিতেই তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এই গৌরব কয়জনের ভাগ্যে জোটে। শুধু দেশেই নয়, একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কারও লাভ করেছে। কানাডার একটি উৎসবে আমিও সেরা অভিনেত্রী হয়েছি।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারেও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর মনোনয়নও পেয়েছিলাম। একজন দক্ষ পরিচালক না হলে এত অর্জন সম্ভব হতো না। ব্যক্তিগতভাবে আমি মিঠু ভাইয়ের পেইন্টিংয়ের ভক্ত। তাঁর আঁকা অনেক ছবি আমার ঘরের দেয়ালে বাঁধানো। তিনি আমাকে বেশ কিছু ছবি গিফট করেছেন। তাঁর শেষ চলচ্চিত্র ‘জোনাকির আলো’র পরিকল্পনা করার সময়ও আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। কোন ধরনের গল্প হবে সেটিও বলেছিলেন। আমারও কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু কোনো এক কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ছবিটির শুটিং চলাকালে হয়তো তিনি মনোক্ষুণ্ন ছিলেন। স্পট থেকেই আমাকে এসএমএস পাঠাতেন। অনেক ক্ষোভ আর কষ্ট জমানো এসএমএসগুলো পড়ে আমার খুব খারাপ লাগত। হয়তো তিনি ভাবতেন ঝামেলাগুলো পুরনো ইউনিটের সঙ্গে শেয়ার করতে পারলে হালকা হতে পারবেন। তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করতাম। এমনিতে মিঠু ভাই খুব চাপা স্বভাবের। যত বিপদই হোক না কেন কাউকে বুঝতে দিতেন না। সব সময় হাসিমুখে থাকতেন। কষ্ট লাগে, সেই হাসিমুখটা আর দেখতে পাব না।

আমার প্রথম মিউজিক ভিডিও, প্রথম চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে মিঠু ভাই। তাঁকে ভুলে যাওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব। আল্লাহর কাছে প্রর্থনা করি, এভাবে যেন আর কোনো মেধাবী মানুষের অকালমৃত্যু না হয়।

অনুলিখন : সুদীপ কুমার দীপ


মন্তব্য