kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


৩০০ পেরিয়ে নোয়াশাল

মীর সাব্বিরের ধারাবাহিক নাটক নোয়াশাল-এর ৩০০তম পর্ব গত সপ্তাহে প্রচার হলো আরটিভিতে। জনপ্রিয় এই ধারাবাহিকটি নিয়ে লিখেছেন ইসমাত মুমু

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



৩০০ পেরিয়ে নোয়াশাল

শুটিংয়ের ফাঁকে ‘নোয়াশাল’-এর শিল্পীরা

প্রথম পর্ব প্রচার হয় ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর থেকে প্রতি সোম, মঙ্গল ও বুধবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে প্রচার হয় ধারাবাহিকটি।

রচনায় আকাশ রঞ্জন। মূল ভাবনা, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় মীর সাব্বির। তিনি বলেন, ‘প্রথমে ৫২ পর্ব করার কথা ছিল। দর্শক চাহিদার কথা ভেবে পর্ব বাড়ানোর অনুরোধ করল চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। তারপর তো চলছেই। ’

দর্শকদের অভিযোগ, ২০ থেকে ৩০ পর্বের পর বর্তমান সময়ের ধারাবাহিকগুলোর গল্প জোর করে টানা হয়। ফলে দর্শক চাহিদা থাকে না। ‘যারা জোর করে গল্প টানে তাদের নাটক নিশ্চয়ই চলবে না। কিন্তু এখানে আমরা গল্প টানি না, গল্প তার আপন গতিতে দৌড়ায়’, বললেন মীর সাব্বির।

নোয়াখালী আর বরিশালের দুই পরিবারের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিয়ে গল্প। হাস্যরসের মাধ্যমে নানাবিধ গ্রামীণ সমস্যা তুলে ধরা হয়। এ টি এম শামসুজ্জামান হলেন নোয়াখালীর পরিবারপ্রধান আর খায়রুল আলম সবুজ হলেন বরিশালের পরিবারপ্রধান। তাঁদের দ্বন্দ্ব একপর্যায়ে দুই পরিবারের ছেলেমেয়েদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। অন্যান্য চরিত্রে আছেন মীর সাব্বির, আলীরাজ, ডলি জহুর, চিত্রলেখা গুহ, রওনক হাসান, অহনা, নিশা, সাঈদ বাবু, ফারুক আহমেদ, নাজনিন হাসান চুমকি প্রমুখ। অভিনয়ে নোয়াখালী ও বরিশাল অঞ্চলের অভিনয়শিল্পীদের নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক চরিত্র অবশ্য এর বাইরেরও আছেন। তাঁদের বরিশাল এলাকার ভাষাটা রপ্ত করানোর দায়িত্ব নিয়েছেন মীর সাব্বির। আর নোয়াখালীর ভাষাটা ঠিকঠাক হচ্ছে কি না সেটা দেখাশোনার দায়িত্ব নোয়াখালী অঞ্চলের অভিনেতাদের। নোয়াখালীর ছেলের চরিত্রে অভিনয় করা রওনক হাসান বলেন, ‘যদিও আমি নোয়াখালী অঞ্চলের নই, তবু ভাষাটা রপ্ত করতে কষ্ট হয়নি। এটা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম হিট ধারাবাহিক। বর্তমান সময়ে এর চেয়ে জনপ্রিয় ধারাবাহিক প্রচার হচ্ছে কি না বলতে পারব না। শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরে থেকেও রেসপন্স পাচ্ছি। কিছুদিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় শুটিং করতে গিয়েছিলাম। সেখানে অনেকেই মনে করেছে আমি সত্যিই নোয়াখালীর ছেলে। অবাক করা কাণ্ড, নোয়াখালীর একটা কমিউনিটি আমার সঙ্গে দেখা করতেও এসেছে। ’

নাটকে মীর সাব্বিরের নায়িকা মেহরীন ইসলাম নিশা। তিনি বলেন, ‘আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। আমার বাবার বাড়ি নোয়াখালী। ভাষাটায় আমার একরকম দখল আছে। তাই খুব বেগ পেতে হয়নি। ’ বরিশালের ছেলের চরিত্রে অভিনয় করা সাঈদ বাবু বলেন, “আমি বরিশালের ছেলে, তাই সহজেই করতে পারছি। আমার একটা ডায়ালগ ‘বোঝে না বোকাটা’—বেশ জনপ্রিয়। ”

ধারাবাহিকটি কত পর্ব পর্যন্ত চলবে সেটা পরিচালক নিজেও জানেন না। জানালেন, সামনে বেশ কয়েকটা নতুন চরিত্র যোগ হবে। এর আগেও অনেকে কাহিনীর প্রয়োজনে যুক্ত হয়েছেন, আবার বের হয়েছেন। পরিচালক সব কলাকুশলীকে ধন্যবাদ জানাতে ভুললেন না।


মন্তব্য