ব্ল্যাক মেসাইয়াহ-334103 | রঙের মেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১০ আশ্বিন ১৪২৩ । ২২ জিলহজ ১৪৩৭


ব্ল্যাক মেসাইয়াহ

যুক্তরাষ্ট্রের গায়ক কেন্ড্রিক লামার। ৫৮তম গ্র্যামির আসরে সর্বোচ্চ পাঁচটি বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন সালেহ শফিক

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ব্ল্যাক মেসাইয়াহ

২০১৫ সালের বিশ্ব সংগীতকে লামার ছাড়া চিন্তা করার সুযোগ নেই। শুধু যে তিনি পাঁচটি গ্র্যামি জিতেছেন—এ কারণে নয়। তাঁর অ্যালবাম ‘টু পিম্প আ বাটারফ্লাই’ র‌্যাপ গানের ইতিহাস লিখেছে নতুনভাবে। এর গানগুলো সত্য, সুন্দর ও সাহসী। কালো মানুষের নতুন প্রতিনিধি কেন্ড্রিক লামার। যিনি বড় হয়েছেন এলোমেলো এক জায়গায়, পাঁচ বছর বয়সে একজনকে খুন হতে দেখেছেন, পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। তেমন একটি পরিবেশে বড় হয়েও লামার জীবনকে সহজ-সরলভাবে চালাতে চেয়েছেন। নিজের স্কুল বান্ধবীর সঙ্গে গত বছর বাঁধা পড়েছেন। ২০১২ সালে যখন তাঁর ‘গুড কিড, ম্যাড সিটি’ অ্যালবামটি প্রকাশ পায়, তখনই একটি ঢেউ উঠেছিল। তিনি তখন ট্রেভন মার্টিনের অবতার হয়ে উঠেছিলেন কালো মানুষের কাছে। ১৭ বছরের এই ট্রেভন মার্টিনকে একজন সাদা মানুষ গুলি করে মেরে ফেলেছিল ২০১২ সালে। সেই থেকে মার্টিন কালো মানুষের কাছে প্রতিবাদের প্রতিমূর্তি। আর ‘গুড কিড, ম্যাড সিটি’ প্রকাশের পর লামার হয়ে উঠেছিলেন সেই প্রতিবাদের ভাষা। সেই বছরই লামার আফটারম্যাথ ও ইন্টারস্কোপের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন।

লামারের জন্ম ১৯৮৭ সালে, ক্যালিফোর্নিয়ায়। আট বছর বয়সে তিনি টুপাক শাকুরের পরিবেশনা দেখেন। তারপর থেকে টুপাক হয়ে ওঠেন তাঁর ধ্যানজ্ঞান। একবার লামার বলেছিলেন, ‘আমি এমিনেমের স্টাইল পছন্দ করি, কিন্তু টুপাক আমার জীবন যাপনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।’ ২০০৩ সালে তাঁর বয়স ছিল ১৬। সেবার তিনি একটি মিক্সটেপ প্রকাশ করেছিলেন। পরের পাঁচ বছর তেমন সাড়া জাগাতে পারেননি। ২০০৮ সালে তিনি ‘অল মাই লাইফ’ নামের একটি গান করেন। লিল ওয়েন সেই গানটির সংগীতায়োজন করে দেন, আর ওয়ার্নার ব্রাদার্স রেকর্ডস সেটি প্রচারে ভূমিকা রাখে। ২০০৯ সালে ‘ব্ল্যাক হিপ্পি’ নামে একটি হিপ হপ সুপার গ্রুপ তৈরি করেন। ২০১০ সালে লামার শুধু গান গেয়ে বেড়িয়েছেন। ২০১১ সালে তিনি ঘোষণা দেন, ‘আমার নতুন অ্যালবামের কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।’ ২০১২ সালের এপ্রিলে গুড কিড, ম্যাড সিটির রেসিপি নামের একক গানটি বাজারে ছাড়েন। আর অ্যালবামটি বাজারে আসে ওই বছরের অক্টোবরে। প্রথম সপ্তাহে বিক্রি হয়ে যায় দুই লাখ ৪২ হাজার ১০০ কপি। ‘টু পিম্প আ বাটারফ্লাই’ বস্তুত লামারের তৃতীয় অ্যালবাম। এটির কাজ করেছেন তিন বছর ধরে। ‘আই’ নামের প্রথম একক বাজারে আসে দুই বছর হয়ে গেল। গানটির কিছু কথা এমন :

‘বিচার, বিধি ইত্যাদি অনেক কিছুর মধ্য দিয়ে আমি গেছি,

কিন্তু হাল ছাড়িনি,

কারণ সৃষ্টিকর্তা আছেন।

জানি, শয়তান আমাকে সুযোগ পেলেই টাইয়ের দড়িতে বেঁধে ফেলবে

প্রার্থনা শুধু এই, পবিত্র পানির পাত্র যেন না শুকিয়ে যায়।’

গানটি বিলবোর্ড হট হান্ড্রেডকে সত্যিই গরম করে ফেলে। তারপর ২০১৫ সালের মার্চ মাসে তো পুরো অ্যালবামই বাজারে আসে, আর লামার হয়ে ওঠেন ব্ল্যাক মেসাইয়াহ। ফাংক (ষাটের দশকের একটি আফ্রো-আমেরিকান সংগীত আন্দোলন), কবিতা আর মুক্ত জ্যাজ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে ‘টু পিম্প আ বাটারফ্লাই’। আইটিউন স্টোরে প্রথম মুক্তি পায় অ্যালবামটি। রোলিং স্টোনের গ্রেগ টেট একে বলে ফেলেন, মাস্টারপিস। অল মিউজিকের ডেভিড জেফ্রি বলেন, ‘অ্যালবামটি পাবলো পিকাসোর গুয়ের্নিকার মতো অন্ধকার, গভীর, জটিল ও বিদ্রোহী। এন্টারটেইনমেন্ট উইকলিতে লেখা হয়, লামার বুঝি বদলে দেবেন গানের দিগন্ত!

 

গ্র্যামিতে লামারের পাঁচ

বেস্ট র‌্যাপ পারফরম্যান্স

(অলরাইট)

 

বেস্ট র‌্যাপ অ্যালবাম

(টু পিম্প আ বাটারফ্লাই)

 

বেস্ট মিউজিক ভিডিও

(বেড ব্লাড)

 

বেস্ট র‌্যাপ/সং কোলাবোরেশন

(দিজ ওয়ালস)

 

বেস্ট র‌্যাপ সং

(অলরাইট)

মন্তব্য