বাজল সানাইয়ের সুর-334102 | রঙের মেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


বাজল সানাইয়ের সুর

বিয়ের ঘোষণাটা দিলেন হঠাৎ। ‘এপ্রিল ফুল’-এ বিয়ে। এখন চলছে কেনাকাটা। মডেল-অভিনেত্রী ঈশিকা খানকে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাজল সানাইয়ের সুর

স্টার সিনেপ্লেক্সে বন্ধুদের নিয়ে গিয়েছিলেন সিনেমা দেখতে। সেখানেই প্রথম দেখা হবু বরের সঙ্গে। নাম কায়সার খান। মৌলভীবাজারের ছেলে, এখন লন্ডনি। প্রথম দেখাতেই ঈশিকাকে পছন্দ হয়ে গেল কায়সারের। ফোন নম্বর সংগ্রহ করলেন কায়সার। ফোনে একদমই পাত্তা দিলেন না ঈশিকা। কিন্তু কায়সার তো নাছোড়বান্দা! মা-বাবাকে দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন ঈশিকার বাসায়। ঈশিকার মা বেশ পছন্দ করলেন কায়সারের পরিবারকে। অন্য আত্মীয়স্বজনেরও পছন্দ হলো। ক্যারিয়ারের এ উঠতি সময়ে বিয়ে করতে মোটেও রাজি ছিলেন না ঈশিকা। মায়ের অনেক জোরজবরদস্তির পর ভাবতে রাজি হলেন। কথা বললেন কায়সারের পরিবারের সঙ্গে। তাঁদের পরিবারের ভালোবাসা পেয়ে ঈশিকাও আর না করতে পারলেন না। “সত্যি বলতে কায়সারের চেয়ে তাঁর পরিবারকে আমার বেশি ভালো লেগেছে। সবাই অনেক মিশুক। হবু শ্বশুর-শাশুড়ি এখনই আমাকে মা বলে ডাকেন। আমার হবু শ্বশুরের সঙ্গে থাকলে আর কারো মনে হয় হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। এত মজার মজার কথা বলেন! যেমন আমার শাশুড়ি বিয়ের শাড়ি কিনতে গেলেন। এক এক করে তাঁর ৩০টি শাড়ি পছন্দ হলো এবং সব কটিই আমার জন্য। শ্বশুর বলেন, ‘আমার ইচ্ছা হয় পুরো দোকানটাই তোমাকে কিনে দিই।’ দেবর, ননদ সবাই খুব আন্তরিক। লন্ডনে থাকলেও দেশীয় সংস্কৃতিটা তাঁরা খুব ফলো করেন”, বললেন ঈশিকা।

দুজন দুজনকে এখনো ‘আপনি’ করে সম্বোধন করেন। প্রতিদিন ঘুমানোর আগে ও ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই ঈশিকাকে কল দেন কায়সার। প্রথম দিকে পাত্তা না দেওয়ার ব্যাপারটা মনে পড়লে এখনো হাসি পায় ঈশিকার। ‘সেদিন প্রি-ওয়েডিং ফটোশুট করতে গিয়ে কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছি আমরা। কায়সার তো ফটোশুটে মোটেই অভ্যস্ত নন। কিভাবে বসতে হবে, দাঁড়াতে হবে—আমাকেই দেখিয়ে দিতে হয়েছে। এ নিয়ে সেদিন মজার সব কাণ্ড ঘটেছে’, বললেন ঈশিকা।

বিয়ের কার্ড বিলি করা হয়েছে এরই মধ্যে। ৩০ মার্চ গায়ে হলুদ, ১ এপ্রিল বিয়ে—মিরপুর পুলিশ কনভেনশন সেন্টারে। ৩ এপ্রিল গলফ গার্ডেনে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। কেনাকাটাও প্রায় শেষ। লেহেঙ্গা আর রিসেপশনের পোশাকটা কেনা হয়েছে লন্ডন থেকে। গায়ে হলুদেরটা ইন্ডিয়া থেকে। ‘ওরা লন্ডন থেকে ফিরবে কাল। ফেরার পথে দুবাই থেকে শপিং করবে। পাত্রের জন্য কেনাকাটা করেছি আমরাই। অনুষ্ঠান প্ল্যানিং নিয়ে খুব চিন্তিত। প্রতিদিনই প্ল্যানিং চেঞ্জ করছি। সাধ্যের মধ্যে বেস্টটা করার চেষ্টা করছি’, বললেন ঈশিকা।

অনেকেই ঈশিকাকে প্রশ্ন করেন, বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে লন্ডন পাড়ি জমাবেন? ‘অভিনয়ে আগের মতোই নিয়মিত থাকব। শ্বশুরবাড়ির অভিভাবকরাও চাচ্ছেন না এখনই সব কিছু ছেড়ে তাঁদের সঙ্গে লন্ডনে পাড়ি জমাই। সেখানে স্থায়ীভাবে থাকা হবে হয়তো অনেক পরে।’

প্রচার চলতি ধারাবাহিকগুলো নিয়েই এখন তাঁর ব্যস্ততা। বিয়ের জন্য নতুন কোনো নাটক হাতে নিচ্ছেন না। শুটিং করছেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘নয়ছয়’, শিমুল সরকারের ‘একি কাণ্ড’, রায়হান খান ও আনোয়ার হোসেনের দুটি ধারাবাহিকের। আগে শিডিউল দেওয়া কিছু একক নাটকের শুটিংও করবেন। বিয়ের পরপরই একবার লন্ডন যাওয়ার প্ল্যান। মাসখানেক থাকবেন। কায়সারের বেশির ভাগ আত্মীয়স্বজন সেখানেই থাকেন। বিয়েতে সবাই আসতে পারবেন না। তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করাটাই মূল উদ্দেশ্য।

মন্তব্য