kalerkantho


আইটেম গায়িকা

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে যতগুলো ছবি হয়েছে এগুলোর বেশির ভাগেই রয়েছে আইটেম গান। নিয়মিত আইটেম গান করছেন এমন চার গায়িকাকে নিয়ে এই ফিচার। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আইটেম গায়িকা

কণা

‘এসো না এসো না এতটা কাছে/রাতেরও পেয়ালায় কি জাদু আছে’—এগুলো কণার গাওয়া ‘দ্য স্পিড’ ছবির আইটেম গানের কথা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচের সঙ্গে শোনা যায় গানটি। ‘বিগ ব্রাদার’ ছবির ‘এই শোনো মায়াবী আঁধারে’ এবং ‘ইউটার্ন’ ছবির ‘আমার কাঁচা বরই’ গান দুটির জন্যও ভালো রেসপন্স পেয়েছেন এই গায়িকা। ‘দেহরক্ষী’, ‘জোনাকীর আলো’, ‘পদ্মপাতার জল’ আরো বেশ কিছু ছবিতে আইটেম গান গেয়েছেন কণা। বলেন, ‘আইটেম গানের ব্যাপারটাই অন্য রকম। লেখা থেকে শুরু করে শ্রোতা শোনা পর্যন্ত পুরো একটা ফুর্তি থাকে, মজা থাকে। এসব গান গাইতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। কথা ও সুরের সঙ্গে গাওয়ার এক্সপ্রেশনটা ঠিক না হলে জমে না। ছবিতে আইটেম গান রাখাটাকে ইতিবাচকভাবেই দেখি। ’ আইটেম গানে প্রায়ই অশ্লীল এবং চটুল কথা শোনা যায়। এসব গানের জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রেও নাকি এটা খুব কাজে দেয়? কণা বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা এড়িয়ে চলি।

কথা, সুর, সংগীত পছন্দ না হলে কণ্ঠ দিই না। চিত্রায়ণ তো নির্ভর করে পরিচালকের ওপর।    তার পরও এখন পর্যন্ত এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। ’

রমা

ওয়েস্টার্ন এবং ব্যান্ড ধারার গান করেই অভ্যস্ত শারমিন রমা। ইংরেজি গানেও বেশ দক্ষ। ‘দ্য স্পিড’ দিয়ে প্লেব্যাকে যাত্রা শুরু। এখন পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি ছবিতে গেয়েছেন। সব ধরনের গানই করেন। তবে আইটেম গানের জন্য তাঁর আলাদা কদর। ‘মোস্ট ওয়েলকাম’ ছবিতে তাঁর গাওয়া ‘তুমি রোমিও আমি জুলিয়েট/প্রেম করিতে আজ করব না তো লেট’ গানটি বেশ জনপ্রিয়। ‘হানিমুন’ ছবির ‘দুষ্টু দুষ্টু পাগলামি’ এখন পর্যন্ত ইউটিউবে শোনা হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখবার। রমার গাওয়া ‘সুপার গ্লু’ (বিগ ব্রাদার), ‘নটি গার্ল’ (অ্যাকশন জেসমিন), ‘হাই হুইস্কি’ (ওয়ার্নিং), ‘সুন্দরী সুন্দরী’ (লাভ ম্যারেজ) গানগুলোও শ্রোতারা নিয়েছে। ‘তোকে ভালোবাসতেই হবে’, ‘মন বোঝে না’, ‘হিরো দ্য সুপারস্টার’, ‘লোফার’, ‘মিসড কল’ প্রভৃতি ছবিতেও রয়েছে রমার আইটেম গান। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা অনেক ছবিতেও গান গেয়েছেন। রমা বলেন, ‘চলচ্চিত্রে আইটেম গান করব কখনো ভাবিনি। বরং লাভ সংই গাইতে চেয়েছি। শওকত আলী ইমন ভাইয়ের সুরে কিছু কাজ করার পর অনেকে প্রশংসা করেন। কাজও বাড়তে থাকে। এ ধরনের গান গাইতে গেলে গলায় জোর লাগে, উচ্চারণেও মনোযোগী হতে হয়। আইটেম গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা দারুণ। তবে প্রেমের গানও নিয়মিত গাইছি। ’ অনেক আইটেম গানেই অশ্লীল শব্দ এবং চিত্রায়ণ থাকে? এটাই কি গানগুলোর জনপ্রিয়তার কারণ? রমা বলেন, ‘আমি যে গানগুলো করেছি সেগুলোতে মজার কিংবা দুষ্টামি টাইপ শব্দ আছে। কিন্তু অশ্লীলতা নেই। আমি মনে করি একটা আইটেম গানকে যত বেশি ভালোভাবে উপস্থাপন করা যাবে তত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। ’

তানজিনা রুমা

২০০৫ সালে প্লেব্যাকে অভিষেক। তারপর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ ছবিতে গান করেছেন তানজিনা রুমা। এর মধ্যে ৫০টির বেশি ছবিতে গেয়েছেন আইটেম গান। তাঁর গাওয়া আইটেম গানের কথা বলতে গেলে শুরুতেই আসবে ‘হিটম্যান’ ছবির ‘দেখ না রসিয়া’র কথা। বর্তমানে গানটির ইউটিউব ভিউয়ার ১৫ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি। রয়েছে ‘খুল্লাম খুল্লাম ও জওয়ানি’ (মাটির পরী), ‘না লেবু না লঙ্কা আমি যে তেঁতুল’ (গুণ্ডামি), ‘দেখলে তোরে বাজে মনের কলিং বেল’ (হিরো দ্য সুপারস্টার), ‘আই অ্যাম নটি নটি গার্ল’ (তুই শুধু আমার), ‘আমি দেখতে লালে লাল’ (লাভ ম্যারেজ) প্রভৃতি। ‘সীমাহীন ভালোবাসা’, ‘আজব প্রেম’, ‘ক্রাইম রোড’, ‘ইনোসেন্ট লাভ’, ‘অবাস্তব ভালোবাসা’, ‘রোমিও ২০১৩’, ‘ঝাল’, ‘দুর্ধর্ষ প্রেমিক’, ‘জিদ্দি মামা’, ‘ফুল অ্যান্ড ফাইনাল’, ‘ভুল’ প্রভৃতি ছবিতেও গেয়েছেন। রুমা বলেন, ‘ছবিতে সব ধরনের গানই করি। তবে আজকাল আইটেম গান করা হচ্ছে বেশ। আইটেম গানের প্রতি সবাই এখন মনোযোগী। চিত্রায়ণের মানও ভালো হয়েছে। দর্শক-শ্রোতারা মজা নিয়েই গানগুলো এনজয় করে। এসব গান গাওয়া অনেক চ্যালেঞ্জিং। ’ অশ্লীল কথা আর চিত্রায়ণের কারণেই কি আইটেম গান জনপ্রিয় হচ্ছে? রুমা বলেন, ‘আমি সেটা মনে করি না। টোটাল প্যাকেজ ভালো না হলো কোনো গানই শ্রোতারা গ্রহণ করে না। অনেকে মনে করে, আইটেম গান মানেই অশ্লীল। এ ধারণা ভুল। আবার সব আইটেম গানই যে পরিচ্ছন্ন সেটাও নয়। ’

লেমিস

‘অগ্নি’ ছবির টাইটেল সংটি একই সঙ্গে আইটেমও। এ গান দিয়েই আইটেম গানের গায়িকা হিসেবে লেমিসের পরিচিতি। গানটি চারদিকে ছড়ানোর পর থেকে অনেক পরিচালক-প্রযোজকের কাছ থেকেই এ ধরনের গান গাওয়ার ডাক পেতে থাকেন এই গায়িকা। এখন পর্যন্ত ২০টির বেশি আইটেম গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। চলতি বছর মুক্তি পাওয়া ‘নিয়তি’ ছবিতে কলকাতার স্যাবির সঙ্গে লেমিসের গাওয়া ‘ঢাকাই শাড়ি’ এখন বেশ আলোচিত। লেমিসের গাওয়া উল্লেখযোগ্য আইটেম গানের মধ্যে রয়েছে ‘লজ্জাবতী’ ও ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ (দবির সাহেবের সংসার), ‘নারে না’ (রাত্রির যাত্রী), ‘আমি দেশলাই’ (অন্তরযাত্রা) প্রভৃতি। এ ছাড়া ‘অন্তরঙ্গ’, ‘প্রেমের কাজল’, ‘ভালোবাসা এক্সপ্রেস’, ‘আজব প্রেম’, ‘ব্ল্যাকমেইল’, ব্ল্যাক মানি’ প্রভৃতি ছবিতে লেমিসের গাওয়া টাইটেল সংগুলোও আইটেম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ‘গেম রিটার্নস’, ‘টার্গেট’সহ মুক্তি প্রতীক্ষিত আরো কয়েকটি ছবিতেও আইটেম গান রয়েছে। লেমিস বলেন, ‘ছবিতে দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দিতেই আইটেম গান রাখা হয়। এসব গানের সঙ্গে দর্শকরা হাত-পা ছোড়ে, মজা করে। অনেকের ধারণা, আইটেম গান গাওয়াটা খুব সহজ। এটা একদম ভুল। কারণ এসব গানের এক্সপ্রেশন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। গানের মধ্যে ডুবে যেতে না পারলে গাওয়া অসম্ভব। ’ অনেক আইটেম গানেই অশ্লীল কথা আর চিত্রায়ণ থাকে। এটা কি গানগুলোর জনপ্রিয়তার জন্যই করা হয়? লেমিস বলেন, ‘গাওয়া ছাড়া বাকি কোনো কিছুই কিন্তু শিল্পীর ওপর নির্ভর করে না। একটা গানের কথা আমি যতটুকু পর্যন্ত গ্রহণ করতে পারব ততটুকু পর্যন্ত হলেই কণ্ঠ দিই। তবে হ্যাঁ, আরো যত্ন নিলে আইটেম গানকে দর্শক-শ্রোতাদের কাছে আরো গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব। ’


মন্তব্য