ওরা তিন বন্ধু-334100 | রঙের মেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


তারার বন্ধু তারা

ওরা তিন বন্ধু

আরিফিন শুভ-এফ এস নাঈম-মিশু সাব্বির—তাঁদের বন্ধুত্ব প্রায় এক যুগের। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ওরা তিন বন্ধু

মিশু আর নাঈম একই অফিসে (চ্যানেল আই) চাকরি করতেন। পাশাপাশি ডেস্ক। বন্ধুত্ব হতে সময় লাগেনি। শুভ তখন সবে অভিনয় শুরু করেছেন। চ্যানেল আইয়ের একটা নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে মিশু-নাঈমের সঙ্গে পরিচয়। শুভও তাঁদের প্রিয় বন্ধু হয়ে গেলেন। প্রথম দিকে আড্ডা হতো প্রচুর, ক্যারিয়ার প্ল্যানিংসহ নানা বিষয়ে। এখন তিন বন্ধুই তুমুল ব্যস্ত। দেখা সাক্ষাৎ হয় খুবই কম। শুভ বলেন—‘আমরা তিনজনই বাস্তবতা মেনে নিয়েছি। প্রতিদিন দেখা করে বন্ধুত্বের পরিচয় দিতে হবে, ব্যাপারটা এ রকম নয়। এখন তো চাইলেও সময় বের করা সম্ভব হয় না। কিন্তু কোনো না কোনোভাবে একে অপরের খোঁজ ঠিকই পাই।’ সঙ্গে যোগ করলেন মিশু, ‘পেশাটা এক হলেও শুটিং স্পট তো এক হয় না। প্রায়ই দেখা করার জন্য ডেট ফিক্স করি। সেটা আবার কোনো না কোনো কারণে পিছিয়েও যায়। নতুন ডেট নিই। তাও হয় না। অনেক দিন পর হয়তো দেখা হয়। তখন মনে হয় যেন গতকালই তো হলো।’

হাসিঠাট্টা তো বন্ধুদের মধ্যে হয়ই। হয় রাগ, অভিমানও। ‘রাগারাগি হয়েছে কি না মনে করতে পারছি না। তবে অভিমান হয়। বেশির ভাগ সময়ই ফোন ধরা নিয়ে।’ বললেন মিশু। ‘তবে ঝগড়া হয়।’ বললেন নাঈম। সেটা কী নিয়ে? ‘একজন আরেকজনের কাজের সমালোচক। যদি খারাপ হয়, যা-তা লেভেলের গালাগালি করি। এসব পাবলিকলি বলা যাবে না।’

দুই বন্ধুর ভালো কিছু গুণের কথাও বললেন নাঈম, ‘হিউমারাস অভিনয়ে মিশু বেস্ট। ওর একটা ব্যাপার হয়তো অনেকেই জানেন না। অভিনয়ের বাইরে ক্যারিয়ার গড়ার ভালো সুযোগ এসেছিল কিন্তু অভিনয় ভালোবেসে এ মাধ্যমে রয়ে গেল। আমি মনে করি ও সফল। আর শুভ প্রচণ্ড পরিশ্রমী এবং ডেডিকেটেড। এখন ওর সবকিছুই সিনেমা ঘিরে। টিভি নাটকে ও যখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে, তখনই টানা দুই বছর ছোট পর্দায় কাজ না করে নিজেকে বড় পর্দার জন্য প্রস্তুত করেছে। এখন তো অনেক বড় স্টার। হয়তো এখনো অনেক পথ বাকি। তবে আমি জানি ও তা পারবে।’

নাঈমের কথা শুনে শুভ হাসলেন। ‘আমি পরিশ্রমী হয়েছি চলচ্চিত্রে এসে। আর ওরা শুরু থেকেই পরিশ্রমী।’

দুই বন্ধুর ভালো গুণগুলো বলেছেন নাঈম। বদভ্যাসের কথাও বললেন তিনিই, ‘মিশু খুব শর্ট টেম্পার্ড। অল্পতেই রেগে যায়। শুভ কোনো কিছুই ভেবে করতে পছন্দ করে না।’ নাঈম সম্পর্কে খারাপ কিছু খুঁজেও বের করতে পারলেন না শুভ-মিশু। শুধু বললেন, ‘ও হাসিখুশি এবং প্রচণ্ড মিশুক, আজ অবধি ওর কোনো খারাপি চোখে পড়েনি।’

আনন্দ-ফুর্তিতে যেমন একে অপরকে পাশে পেয়েছেন তেমনি পেয়েছেন বিপদের সময়ও। মিশু বলেন, ‘আমার বিয়ের সময় ওরা প্রচুর হৈ-হুল্লোড় করেছে। বাবা মারা যাওয়ার পর আমি যখন প্রচণ্ড ভেঙে পড়ি, ওরাই মানসিক সাপোর্ট দিয়েছে।’

শুভ বলেন, ‘বেশ কয়েকবারই দুর্ঘটনা ঘটিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। ওরাই তখন বাসা থেকে খাবার নিয়ে এসেছে, আমার পাশে থেকেছে।’

নাঈম বলেন, “শুভর কারণেই ‘জাগো’ সিনেমায় কাজ করতে পেরেছি। আর এই যে ‘ভাই বেরাদর’দের সঙ্গে এত কাজ করি, এর নেপথ্যে মিশু। ও সবার কাছে গিয়ে আমার প্রশংসা করে আমাকে কাজ পাইয়ে দিয়েছে।’ নাঈমের এ কথার তীব্র প্রতিবাদ জানান মিশু, ‘ও অনেক ভালো অভিনেতা, সেটা দর্শক জানে। ওর নিজ দক্ষতা ওকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।’

তিন বন্ধুর একসঙ্গে অনেক মজার ঘটনা আছে। শুভ বললেন, ‘ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে শুটিংয়ে থাইল্যান্ড গিয়েছিলাম। ওই ট্যুরে আমরা অনেক মজা করেছিলাম।’ মিশু জানালেন কিছু দুর্ঘটনার কথা, ঘটনাগুলো একই সঙ্গে মজারও। ‘তিনজনই সাঁতার কাটছি, হঠাৎ দেখি শুভ নেই। কী হলো! ...ওর পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে। ও পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। আর একবার আমরা দোতলার ছাদে বসে আছি। হঠাৎ গ্রিল ভেঙে ও মাটিতে। ভাগ্যিস বড় ধরনের কিছু হয়নি।’

নাঈমের একটা স্বপ্ন, যদি কোনো নির্মাতা তাঁদের তিন বন্ধুকে নিয়ে ছবি বানাতে চান, তাহলে তাদের স্ট্রাগলের গল্প বলবেন। যা দিয়ে একটা ফিল্ম তৈরি হয়ে যাবে।

ছবি : দীপু খান

মন্তব্য