প্রীতম ‘ভাইয়া’-334099 | রঙের মেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২১ জিলহজ ১৪৩৭


প্রীতম আহমেদের হিন্দি গান ‘ভাইয়া’র ভিডিও এখন প্রচারিত হচ্ছে ভারতীয় মিউজিক চ্যানেলে। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

প্রীতম ‘ভাইয়া’

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



প্রীতম ‘ভাইয়া’

১ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়েছিল ‘ভাইয়া’ গানটির অডিও। তাতেই সাড়া জাগিয়েছেন বেশ। গানটিতে প্রীতমের সঙ্গে র‌্যাপ পার্টে কণ্ঠ দিয়েছেন ভারতীয় তারকা র‌্যাপার হার্ড কৌর।

জীবনমুখী গানে প্রীতমের জুড়ি নেই। বরাবরই গানের মাধ্যমে সমাজকে একটি বার্তা দিয়ে থাকেন। এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মানুষের দ্বৈত চরিত্র ও সম্পর্কের বৈচিত্র্য নিয়ে এই গান। ‘উপমহাদেশে দেখা যায়, নিকটাত্মীয়রাই শিশু বা মেয়েদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন বেশি। এ বিষয়ে সতর্ক করার জন্যই এ গান। হার্ড কৌরের র‌্যাপ পার্টে আছে সম্পর্কের অপব্যবহারের গল্প আর আমার লিপে গাওয়াতে পুরো ক্যারেক্টারটা পাওয়া যাবে।’ বললেন প্রীতম।

হার্ড কৌরের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন? ‘আমার লেখা ও সুরে ওনার মতো একজন আন্তর্জাতিক মানের র‌্যাপার গেয়েছেন এটা অনেক বড় পাওয়া। উনি গানটার বেশ প্রশংসাও করেছেন। অনেকেই বলেন, তিনি একটু পাগলাটে স্বভাবের। অবাক হয়েছি, তিনি সময়মতো গানের রেকর্ডিংয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। মুম্বাইয়ের ফ্যাটবক্স স্টুডিওতে গানটি রেকর্ড হয়। আড্ডায় কথার ফাঁকে একবার তাঁকে বললাম, আমি বাঙালি রয়েল বেঙ্গল টাইগার। তিনি মজা করে বললেন, আমি হচ্ছি পাঞ্জাবের সিংহ। হা হা হা।’ বললেন প্রীতম।

প্রীতমের নিজস্ব সাইটে গানটির অ্যাপস প্রকাশ হয়েছে। ‘গুগল স্টোর’ থেকে যে কেউই গানটি ডাউনলোড করতে পারবেন। এ সপ্তাহে গানটির ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। শুটিং হয় মুম্বাইয়ের ‘বোম্বে ব্রাদার্স’ স্টুডিওতে। ভিডিওতে প্রীতমের সঙ্গে মডেল হয়েছেন সেখানকার ২৫ জন নারী। নির্দেশনা দিয়েছেন বলিউড পরিচালক আইয়াজ খান। গানটির দুটি ভার্সন—বাংলা ও হিন্দি। বিফোরইউ মিউজিকসহ বেশ কয়েকটি হিন্দি চ্যানেলে এটির প্রচার চলছে। এ ছাড়া ইউটিউবসহ অনলাইনের বিভিন্ন মাধ্যমেও দেখা যাবে। বেশ প্রশংসাও পাচ্ছে ভিডিওটি। প্রথম সপ্তাহেই ইউটিউবে ২৫ হাজারেরও বেশি দর্শক এটি দেখেছে।

বাংলার পাশাপাশি হিন্দি-ইংরেজি ভাষায় করতে চেয়েছেন কেন?

“আমি খুব আনন্দিত, কারণ ‘ভাইয়া’ গানটি জনপ্রিয় মিউজিক চ্যানেল বিফোরইউতে রিলিজ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রাণের ভাষা বাংলাসহ ইংরেজি ও হিন্দি ভাষার সংমিশ্রণে একটি গান ও ভিডিও নির্মাণ করতে চেয়েছি, যেটি উপমহাদেশের প্রচলিত বিনোদন জগতে বাংলাদেশি শিল্পী ও সংগীতকে প্রতিনিধিত্ব করবে।” বললেন প্রীতম।

আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে নিজেদের সুর ও সংগীত পরিচালনায় এমনকি বাংলাদেশি একটি কম্পানির প্রযোজনায় গান হতে পারে, প্রীতমের এ গানটিই তার প্রমাণ। “আমি জানি মুম্বাইয়ে একটি গান ভিডিও করার খরচ দিয়ে আমাদের দেশের একটি সিনেমা বানানো সম্ভব। শ্রোতারা যেভাবে ফ্রি গান শোনেন, কোনো দিনই হয়তো আমাদের বাজার থেকে এই লগ্নি উঠে আসবে না। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, বছরের পর বছর আমাদের দেশের মিডিয়া নানা রকম অনুষ্ঠান আয়োজন করে বলবে, ‘আমাদের দেশের শিল্পীরা বিদেশি শিল্পীদের মতো ভালো বিনোদন দিতে পারে না। তাই আমরা বাধ্য হয়ে বিদেশ থেকে শিল্পী ভাড়া করি’, আমি নিজের মতো করে এই প্রবণতার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছি। হয়তো আমার পরের প্রজন্ম আমার চেয়ে অনেক ভালো ও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করে প্রমাণ করবে, আমরাও পারি। কারো কাছে হয়তো ভালো লাগবে কারো কাছে খারাপ। তবে আমি চাই আমার দেশে বিদেশি শিল্পীদের আগে বাংলাদেশি শিল্পীদের ‘দুধভাত’ শিল্পী হিসেবে উপস্থাপন করা বন্ধ হোক।” বললেন প্রীতম।

সামনে বলিউডের সিনেমার জন্যও গান করবেন। তেমনটাই কথা চলছে। তবে এখনই এ সম্পর্কে মুখ খুলতে চাচ্ছেন না। রেকর্ডিংয়ের পরই ঘটা করে জানাবেন।

ছবি : শওকত ইমরান

মন্তব্য