kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সেরা অভিনেত্রী

হঠাৎ অস্কার!

নিজের কল্পনায়ও আসেনি এভাবে অস্কার জিতে যাবেন। তাইতো পুরস্কার নিতে গিয়ে একরকম তালগোলই পাকিয়ে ফেলেছিলেন ব্রি লারসন। এই সেরা অভিনেত্রীর কথা জানাচ্ছেন নাবীল অনুসূর্য

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



হঠাৎ অস্কার!

‘সব কিছু কেমন যেন তালগোল লাগছে। ব্যাপারটা এখনো ধরতে পারছি না।

কেমন যে লাগছে, বুঝতে পারছি না। এমনটা তো আগে কখনো ঘটেনি’—বলছিলেন ব্রি লারসন। তখনো তাঁর জেট ল্যাগ কাটেনি। ‘কং : স্কাল আইল্যান্ড’-এর শুটিংয়ে তিনি ছিলেন ভিয়েতনামে। তাঁর প্রথম বিগ বাজেট সিনেমা। এরই মধ্যে ‘রুম’ সিনেমার জন্য জীবনে প্রথমবারের মতো অস্কারে মনোনয়নও পেয়েছেন। কাজেই ছুটে এসেছেন অস্কারে। বসে বসে ঝিমুচ্ছিলেন। এর মধ্যেই শুনলেন, সেরা অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর নামই ঘোষণা করা হলো। সঙ্গে সঙ্গে ঘুম ছুটে গেল। তাঁর তো ধারণায়ই ছিল না অস্কার জিতে যাবেন। উচ্ছ্বাস গোপন করার চেষ্টা করলেন না মোটেও। তিনি যে ‘কুল’ হওয়ার চেষ্টা করছেন না, আর তাই নিয়ে যে এমনকি অনেক ক্যামেরা ক্রুও হাসাহাসি করছে, তা নিজেই গড়গড় করে বলে দিলেন।

‘রুম’ সিনেমায় তাঁর চরিত্রের নাম জোয় মা নিউসাম। অপহূত এই মহিলার সাত বছর বয়সী এক ছেলে আছে। এই ছেলেটাকে বাঁচানোরই সংগ্রাম করছে সে। সিনেমাটায় অভিনয়ের জন্য এর আগেই বাফটা, গোল্ডেন গ্লোবের মতো বড় বড় পুরস্কার বাগিয়ে নিয়েছেন লারসন। চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলতে তাঁর ছেলেবেলার স্মৃতিও নাকি বেশ সাহায্য করেছে। তিনিও যে কেবল মায়ের কাছেই বড় হয়েছেন। ২০১৩ সালে ‘শর্ট টার্ম ১২’ সিনেমায় গ্রেস চরিত্রের জন্য জেতেন দুটি অ্যাওয়ার্ড। তবে অভিনেত্রী হিসেবে নাম লিখিয়েছেন দেড় যুগ আগে। ১৯৯৯ সালে শুরুটা হয়েছিল ‘স্পেশাল ডেলিভারি’ দিয়ে। তারপর কাজ করেছেন ‘হুট’, ‘গ্রিনবার্গ’, ‘স্কট পিলগ্রিম ভার্সেস দ্য ওয়ার্ল্ড’, ‘২১ জাম্প স্ট্রিট’, ‘ডন জন’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায়।

অভিনয়ের ব্যাপারে ব্রি লারসনের নিজস্ব কিছু ভাবনাও আছে। অভিনয় করতে গিয়ে তিনি কখনোই বেশি সিরিয়াস হওয়ার পক্ষপাতী নন। তাঁর ভাষায়, ‘অভিনয়টা আসলে সিরিয়াস হওয়ার বিষয় না, সত্যের কাছাকাছি যাওয়ার ব্যাপার। ’ যত সত্যের কাছাকাছি অভিনয় করা যাবে, সেটা তত ভালো হবে। কিন্তু অভিনয় করতে গিয়ে যদি সেটা বেশি নাটকীয় হয়ে যায়, তাহলে অভিনয়টা মেকি মেকি মনে হবে। অস্কার পাওয়ার পর সাক্ষাত্কারে কেবল অভিনয় নিয়েই নয়, সিনেমা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। সিনেমার যে বিষয়টা তাঁকে সবচেয়ে আকর্ষণ করে, তা হলো মানুষকে যুক্ত করতে পারার ক্ষমতা। হলে বা থিয়েটারে সিনেমা দেখতে গিয়ে মানুষ যে সিনেমাটার জগতে ঢুকে যায়, সেটা নিয়েই ভাবে, কথা বলে, সেটাই তাঁকে সবচেয়ে মুগ্ধ করে। সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে মানুষের মধ্যে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সৃষ্টি হয়, সেটাও তাঁকে কম আনন্দ দেয় না।

অভিনেত্রীর বাইরে ব্রি লারসনের আরো একটি পরিচয় আছে। তিনি একজন গায়িকাও বটে। ২০০৫ সালে ক্যাসাব্লাঙ্কা রেকর্ডসের ব্যানারে তাঁর পপ-রক অ্যালবাম ‘ফাইনালি আউট অব পি.ই.’ প্রকাশিতও হয়। কিন্তু এর পরে বার দুয়েক ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত তাঁর আর কোনো অ্যালবাম আসেনি। অবশ্য এখনো গানকে বিদায় বলেননি লারসন। তবে গানের সঙ্গে তাঁর সখ্যও ঠিক জমছে না। ২০১০ সালের পর আর কোনো স্টেজ পারফরম্যান্সও করেননি তিনি।


মন্তব্য