kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সেরা ছবি

জয়, সাংবাদিকতার জয়

অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতার গল্প নিয়ে তৈরি ‘স্পটলাইট’ জিতে নিল এবারের অস্কারের সেরা ছবির পুরস্কার। পেয়েছে সেরা মৌলিক চিত্রনাট্যের পুরস্কারও। জানাচ্ছেন আসমা নুসরাত

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জয়, সাংবাদিকতার জয়

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পুরনো দৈনিক ‘বোস্টন গ্লোব’-এর একদল সাংবাদিকের একটি ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিংয়ের কাহিনী ‘স্পটলাইট’। বোস্টন গ্লোব শতবর্ষের পুরনো পত্রিকা।

অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য তাদের খ্যাতি আছে। তবে ছবিটির গল্প যে প্রতিবেদন নিয়ে, তা অত্যন্ত সংবেদনশীল। একজন আইনজীবীর দাবি ছিল, বোস্টনের চার্চগুলোতে পাদ্রিদের যৌন হয়রানির শিকার হয় শিশুরা। সেই দাবিরও বয়স হয়ে গিয়েছিল প্রায় এক যুগ। সে সময় গ্লোবের এক সাংবাদিক বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মাঝপথে থমকে যান। পরে গ্লোবের নতুন সম্পাদক এলে আবার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চান তিনি। পত্রিকার যে দলটি অনুসন্ধানী কাজগুলো করে, তাদের বলে ‘স্পটলাইট টিম’। দলটি কেঁচো খুঁড়তে সাপ পাওয়ার মতো চমকে ওঠে—এক-দুজন নয়, ৮০ জন পাদ্রির এই দোষ আছে, মানে তাঁরা শিশু যৌন হয়রানির সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা নিজেরাও আতঙ্কিত হন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। সাংবাদিকরা আরো বিপদে পড়ে যান, যখন তাঁদের মনে পড়ে যে মানুষের বিশ্বাসকে কতটা ধাক্কা দেবে এই খবর! উপরন্তু ক্যাথলিক চার্চের মতো এত বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে টিকতে পারবেন তো? একপর্যায়ে যথেষ্ট তথ্য আসে তাঁদের হাতে। কিন্তু সে সময়ই আমেরিকায় ঘটে যায় নাইন-ইলেভেন। সাংবাদিকরা অপেক্ষায় থাকেন। পরের বছরের গোড়ার দিকে গ্লোব একটি ফোন নম্বর ছাপিয়ে বলে, যারা হয়রানির শিকার হয়েছে, তারা যেন ঘটনাগুলো খুলে বলে। ফোনের বন্যায় ভেসে যায় গ্লোব অফিস। ক্যাথলিক চার্চ তখন শত্রুর ভূমিকা নেয়নি, বরং অনুতাপে জর্জরিত। চেয়েছে নিজেদের শুধরে নিতে। ২০১৩ সালে জোশ সিঙ্গার যখন এই কাহিনী নিয়ে চিত্রনাট্য লিখলেন, এককথায় সেটিকে ‘নির্মাণ-অযোগ্য’ সিল দিয়ে দিলেন কর্তারা। পরে টম ম্যাকার্থি (ছবির পরিচালকও) তাঁর সঙ্গে যোগ দিলে আশার মুখ দেখেন জোশ। টমের বক্তব্য ছিল, কারো পেছনে লাগা আমাদের উদ্দেশ্য নয়; বরং সাংবাদিকতার শক্তি বোঝানোটাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

ছবিটিতে অতিরিক্ত কোনো উত্তেজনা তৈরি করতে চাননি পরিচালক। সমালোচকরা বলছেন, ‘স্পটলাইট’-এ গল্পটা ঠিক ঠিক বলা হয়েছে। এখানে পাদ্রিদের অতিমানব হিসেবে দেখানো হয়নি। তাঁরাও মানুষ, তাঁরাও ভুল করতে পারেন। সেদিক থেকে পরিচালক অত্যন্ত সহনশীল। পরিচালক বস্তুত গল্পের ভেতরের শক্তিটুকুই বের করে আনতে চেয়েছিলেন শুধু। তিনি সাহসী ছিলেন আরেক দিক থেকেও—খরচ করেছেন মোটে দুই কোটি ডলার। সেদিক থেকে আয় কিন্তু কম করেননি—প্রায় ছয় কোটি ডলার। গত বছরের ২৫ নভেম্বর মুক্তি পায় ‘স্পটলাইট’। তার পরই ছবিটিকে বছরের সেরা ১০টি ছবির একটি বলেছে আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউট। গোল্ডেন গ্লোব পেয়েছে তিনটি। সাংবাদিক রবি চরিত্রের জন্য মাইকেল কিটনকে সেরা অভিনেতার পুরস্কার দিয়েছে নিউ ইয়র্ক ফিল্ম ক্রিটিকস সার্কেল। এবারের অস্কারে সেরা পরিচালকসহ ছয়টি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল ছবিটি।


মন্তব্য