kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

আসছেন দয়া

যুক্তরাষ্ট্রের গায়িকা, গীতিকার ও যন্ত্রবাদক দয়া। তাঁর গাওয়া ‘হাইড অ্যাওয়ে’ এখন বিলবোর্ড হট হান্ড্রেডের ২৪ নম্বরে। ১৭ বছর বয়সী এই শিল্পীকে নিয়ে লিখেছেন সালেহ শফিক

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আসছেন দয়া

গত বছর গ্রেস ট্যান্ডন ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছেন।   মাউন্ট লেবানন হাই স্কুলের পাট চুকিয়েছেন।

ডলার ব্যাংক থ্রি রিভারস আর্টস ফেস্টিভালে একটি ছোট তাঁবু পেতেছিলেন। সবাইকে গান শুনিয়ে বেড়িয়েছেন। তবে গ্রেস হিট করেছেন এ বছর এসে। ১৭ বছর বয়সী মেয়েটার মঞ্চের নাম ডায়া। এই নামটির পেছনের কারণ বেশ বড়। যখন গ্রেস ‘হাইড অ্যাওয়ে’ গানটির রেকর্ডিং শেষ করেছেন, তখনই জানা গেল, গ্রেস নামের আরেক শিল্পী চলে এসেছেন বাজারে। তাই আরেকটি নাম নিতেই হয়। গ্রেস ট্যান্ডন জানতেন তাঁর দাদা ভারতের লোক ছিলেন। সেখানে গ্রেসের হিন্দি দয়া। ওই ‘হাইড অ্যাওয়ে’ গানটি দিয়েই বিলবোর্ড গরম করেছেন ডায়া।

গানটির প্রথম অংশের বাংলা এমন—‘ছেলেরা মনে হয় সেই মেয়েদের পছন্দ করে, যারা অকারণে হাসে আর মেয়েরা সেই ছেলেদের,

যাদের আছে অফুরন্ত টাকা আর অনেক সময়’।

গানটি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ডায়া বলছিলেন, ‘আমার বন্ধুরা যখন-তখন গানটি গেয়ে বেড়াচ্ছিল। বড়রা পিয়ানোয় বাজাচ্ছিল। আমি হাঁটতে হাঁটতেই দু-একবার শুনে ফেলছিলাম। বন্ধুরা আমাকে পিকচার টেক্সট পাঠাচ্ছিল। ’

ডায়া পিজা শপে যেতে পছন্দ করেন আর একটু বেশি সময় পেলে লিটল টোকিওতে সুশি খান। ডায়া বলেন, ‘পপ গাইতেই পছন্দ করি, তবে গানের মধ্যে মেসেজ দিতে চাই। ’ আরো বলেন, ‘আমি চাই মানুষ তাদের স্বপ্নগুলো চিনুক। স্বপ্নের জন্য লড়তে শিখুক এবং কখনো পিছিয়ে না পড়ুক। ’

ডায়ার পাঁচ বোন। বাবা আমেরিকান আর মা আফগান। তিন বছর বয়সে পিয়ানো বাজাতে শুরু করেছিলেন। গাইতে শুরু করেছেন ১০ বছর বয়সে। একবার মা ক্রিস্টিনের সঙ্গে মার্কিন গায়িকা সারা বেরেইলের কনসার্টে গিয়েছিলেন ডায়া। সব দেখেশুনে মাকে বলেছিলেন, ‘আমি এমন হতে চাই। ’ তাঁর মা ক্রিস্টিন বলেন, ‘গ্রেস হইচই করা মেয়ে নয়। কিন্তু গান গাওয়ার সময় সে আর কিছুই মনে রাখে না। আশপাশের সবাইকে সে চুম্বকের মতো টানতে থাকে। তার গান শুধু শোনার নয়, তাকে দেখারও আছে। ’

১১ বছর বয়সে পিটসবার্গের এক মিউজিক কনজারভেটরিতে গান শেখা শুরু। সেখানেই তাঁর সঙ্গে দেখা জিনো বারলেত্তার। তিনি গান লেখেন। জিনোর নজরে পড়ে যান ডায়া। এই মানুষটি পর্যাপ্ত যত্ন নিয়েছেন ডায়ার। জিনো ঠিক করে দিয়েছেন ডায়ার গায়কি, শৈলী, গীতি—সব কিছু। গত বছর ডায়া মা-বাবার সঙ্গে আসেন লস অ্যাঞ্জেলেসে। জিনো তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন জে এন্টারটেইনমেন্টের স্টিভ জ্যাপের সঙ্গে। জিনোর তত্ত্বাবধানেই ‘হাইড অ্যাওয়ে’ গানটি তুলে নেন কণ্ঠে। সেই গান দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে রেড ডিস্ট্রিবিউশন। গানটি প্রকাশিত হয়েছে গত বছরের এপ্রিলে। অনলাইনে ভালো সাড়া জাগিয়েছিল। ব্লগে এ নিয়ে ভালো লেখালেখি হয়েছে। পেরেজ হিলটন নামের এক সংগীত আলোচক লিখেছেন, ডায়ার কণ্ঠে কিছু একটা আছে, যা আসলেই বিশেষ। ডায়া এনবিসি টিভির টুডে শোতে গানটি গেয়েছেন আগস্টে। গানটির সাফল্য তাঁকে একটি এক্সটেন্ডেড প্লে প্রকাশে উৎসাহ দেয়। তাতে আছে মোট ছয়টি গান। প্রকাশ পেয়েছে গত সেপ্টেম্বরে। ওই সময়ও বিলবোর্ডে জায়গা পেয়েছিল, তবে অনেক পেছনে— ১৬১ নম্বরে। ‘হাইড অ্যাওয়ে’র মিউজিক ভিডিও প্রকাশ পায় অক্টোবরে। গেল ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাবে ‘হাইড অ্যাওয়ে’ দর্শক পেয়েছে ৮৬ লাখ।


মন্তব্য