kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভুলে যেতে চাই

‘মায়ের মুখটা ভুলতে পারি না’

জীবন চলার পথে কত ঘটনা, কত স্মৃতি! সব স্মৃতিই আনন্দের হয় না। এমন অনেক স্মৃতি থাকে, যেটা আমরা ভুলে যেতে চাই। জনপ্রিয় অভিনেতা ফারুক বলছেন তেমনই একটি স্মৃতির কথা...

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘মায়ের মুখটা ভুলতে পারি না’

আমার জীবনেও একটা কষ্টের স্মৃতি আছে। এই স্মৃতিটা সব সময় মন ব্যাকুল করে, আমাকে কাঁদায়।

তখন বয়স সাত-আট হবে। আমার মা শয্যাশায়ী। আস্তে আস্তে তাঁর অন্তিম সময় ঘনিয়ে আসছে। শেষের দিকে মায়ের কাছে যেতে ভয় পেতাম। তাঁর যন্ত্রণা সহ্য করতে পারতাম না। যেদিন মা মারা যান, সেদিন আমাকে কাছে ডেকেছিলেন। কিছু বলতে চাইছিলেন, কিন্তু কথা বলতে পারছিলেন না। তাঁর কষ্ট দেখে আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তিনি ইশারায় ডাকলেও আমি কাছে যাইনি। ভেবেছিলাম, মা যখন সুস্থ হবেন তখন যাব। কিন্তু তা আর হলো না। মা সেদিনই চিরতরে চোখ বুজলেন। দৃশ্যটি এখনো চোখের সামনে ভাসে। প্রথমে বুঝতে পারিনি কী হয়েছে। কী হারালাম। বয়স যত বাড়তে থাকল, মায়ের সেই কষ্টমাখা মুখটি তত বেশি মনে পড়তে থাকল। আমি হঠাৎ হঠাৎ কেঁদে উঠতাম। মনে হতো, অপরাধী সন্তান হয়ে গেলাম। মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পারলাম না। আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে হয়তো মরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার কারণে তাঁর ইচ্ছাটা পূরণ হলো না। এখন ভাবি, আরেকবার যদি সুযোগ পেতাম! 

আমি অভিনয় করি। সকাল-দুপুর কাঁদতে হয়। কিন্তু কজন আছেন মন থেকে কাঁদেন। আমি আজও গ্লিসারিন ছাড়া অভিনয় করি, কাঁদি। দুঃখকষ্টের দৃশ্যে অভিনয় করতে গেলেই মায়ের কথা মনে পড়ে। মায়ের কষ্টটা চোখে ভাসে। আর তখনই আমার হৃদয় ভেঙে কান্না আসে। জানি, মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত সেদিনের ব্যথা ভুলতে পারব না। মায়ের কষ্ট পাওয়ার দৃশ্যটা আমি ভুলে থাকতে চাই। কিন্তু পারি না। চোখ বুজলেই চোখে ভাসে মায়ের করুণ সেই মুখ। এই যন্ত্রণা নিয়ে বাকি জীবন কাটাতে চাই। আল্লাহ আমার মাকে বেহেশত নসিব করুন।

অনুলিখন : সুদীপ কুমার দীপ


মন্তব্য