বাবার পথেই হাঁটছেন-331397 | রঙের মেলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৩ জিলহজ ১৪৩৭


বাবার পথেই হাঁটছেন

তারেক আনাম খান ও নিমা রহমান দম্পতির ছেলে, তবে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের স্বকীয় পরিচয়ে পরিচিত হতে চান আরিক আনাম খান। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান। ছবি তুলেছেন সুমন ইসলাম আকাশ

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাবার পথেই হাঁটছেন

লম্বায় ছয় ফুটের বেশি, বাবাকেও ছাড়িয়ে। আচমকা গলার স্বরটা শুনলে বাবা-ছেলের পার্থক্য করাটা বেশ শক্ত। দাড়ি রাখলে বোঝার উপায় নেই কে বাবা, কে ছেলে। উচ্চতা নিয়ে বন্ধুরা মজা করে বলে, ‘তোর উচ্চতার নায়িকা পাবি কই।’ উদাহরণ টানতে হয় শিমুল খান আর তাঁর বাবার। মা-বাবা দুজনই জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী। অভিনয়টা তাঁর জন্মসূত্রেই পাওয়া। তবে অভিনয়টা নাকি মা-বাবা কারো উৎসাহেই শুরু করেননি; নিজের মনের ক্ষুধা থেকেই শুরু। ২০০৯ সাল থেকে আছেন বাবার প্রতিষ্ঠিত মঞ্চদল নাট্যকেন্দ্রে। তবে সব নিয়মকানুন মেনেই সেখানে শুরু করেছেন। ফরম পূরণ থেকে শুরু করে ওয়ার্কশপ—সব ধাপ পেরিয়ে সুযোগ পেলেন। ‘অনেকে হয়তো ভাবে মা-বাবা তুখোড় মঞ্চকর্মী বলেই আমার জন্য ব্যাপারটা সহজ। আসলে তা নয়। আমাকেও স্ট্রাগল করতে হয়েছে। ভালো চরিত্র করার সুযোগ পেতাম না। আর দশজনকে যেভাবে উৎসাহ দেন বাবা, আমাকেও সেভাবেই দেন। ভালো করলে পিঠ চাপড়ে বলতেন, ওয়েল ডান। খারাপ করলেও বকা খেতে হতো। অতিরিক্ত সুবিধা হলো, বাসায়ও অভিনয়ের খুঁটিনাটি জিজ্ঞাসা করতে পারি’—বললেন আরিক। বাবা-ছেলের সম্পর্কটা বন্ধুর মতো। সারাক্ষণই হাসিঠাট্টা লেগে থাকে। শুধু নাটকই নয়, দেশ, রাজনীতি বহির্বিশ্বের খবরাখবর নিয়ে তাঁদের আড্ডা। তার পরও দ্বিতীয় নাটক ‘মৃত মানুষের ছায়া’য় কাজ করতে গিয়ে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে। ‘নাটকটিতে মা-বাবা দুজনই অভিনয় করেছেন। প্রথম দিকে তো এমনিতেই নার্ভাস থাকতাম। তার ওপর সহশিল্পী মা-বাবা। মনে আছে, নাটকটি মঞ্চায়নের আগের রাতে একটুও ঘুমাইনি।’

সাত বছর মঞ্চে কাজ করার পর গত বছর বাবার নির্দেশনায় ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নাটকে প্রথমবার মূল চরিত্রে সুযোগ মিলেছে। আতাউর রহমান ও নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর মতো গুণীজনরা তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করে গণমাধ্যমে নাটকটি নিয়ে বলেছেন। এটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় মাইলফলক বলে মনে করেন তিনি। মঞ্চে এ পর্যন্ত তাঁর অভিনীত নাটক পাঁচটি—‘আরজ চরিতামৃত’, ‘মৃত মানুষের ছায়া’, ‘ডালিম কুমার’, ‘দুই যে ছিল এক চাকর’ ও ‘বন্ধুকযুদ্ধ’।

টিভি নাটকে প্রথম অভিনয় অনিমেষ আইচের ‘পলাতক সময়’-এ। ২০১২ সালের কথা। ‘নাটকটি করার পর মনে হয়েছিল, আমার আরো অনেক শেখার বাকি। তারপর মঞ্চেই নিয়মিত হই’—বললেন আরিক। গত বছর অনিমেষ আইচের নাটক ‘বুবুনের বাসর রাত’ করে বেশ সাড়া পেয়েছেন। এবার টিভি নাটকে নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছা। এখন অভিনয় করছেন জিটিভির ‘ডেইলি ফ্রাইট নাইট’ সিরিজে। কথা চলছে আরো বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয়ের। “প্রথম দিকে টিভি নাটকে অতটা আগ্রহ ছিল না। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে পারব। ‘বন্ধুকযুদ্ধ’ করার পর নিজেকে ম্যাচিউরড মনে হচ্ছে”—বললেন আরিক।

চলচ্চিত্র নির্মাণেরও ইচ্ছা তাঁর। নিজেকে সেভাবেই প্রস্তুত করছেন। গত বছর বানিয়েছেন শর্ট ফিল্ম ‘দ্য স্মাইল’। চিত্রনাট্য নিজেই লিখেছেন। দীপা খন্দকার ও শাহেদ আলীর অভিনীত ফিল্মটি বেশ প্রশংসিত হয়।

বাবাকে অনুসরণ করেন? ‘সব কিছুতেই। তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন মানুষ। তাঁর মতো পরিশ্রম করেই সেরা জায়গাটায় পৌঁছতে চাই’—বললেন আরিক। এই মুহূর্তে তাঁর জন্য সবচেয়ে আনন্দের খবর, প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তারিক আনাম খান। ‘দেশা দ্য লিডার’-এ হয়েছেন সেরা খল অভিনেতা।

মন্তব্য