kalerkantho


শিক্ষিত রোহিঙ্গাদের হত্যা করতে সবচেয়ে আগ্রহী ছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ জুন, ২০১৮ ১২:৩৪



শিক্ষিত রোহিঙ্গাদের হত্যা করতে সবচেয়ে আগ্রহী ছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনী

ছবি অনলাইন

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরো কিছু তথ্য পাওয়া গেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে। এতে উঠে এসেছে রোহিঙ্গাদের মাঝে থেকে নেতৃত্বের বিকাশ যেন না হয় সেজন্য শিক্ষিতদের হত্যা করতে খুবই আগ্রহী ছিল তারা।

বেশ কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের মধ্যে থেকে শিক্ষিত লোকদের বেছে বেছে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে।
 
রোহিঙ্গাদের নেতৃত্ব দেয়ার মতো যাতে কেউ না থাকে সে লক্ষ্যেই এ কাজ করেছে বলে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনেও প্রায় একই চিত্র উঠে এসেছে। জানা গেছে, গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আরসার কথিত হামলার পর রাখাইনের মং নু গ্রামে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। ঘটনার পর শিক্ষকদের খুঁজতে ওই গ্রামটিতে আসে একদল সেনাসদস্য।

মোহাম্মদ হাশিম নামে এক রোহিঙ্গা সাংবাদিকদের জানান, তাদের গ্রামে যখন সেনাবাহিনীর সদস্যরা আসে, তখন তিনি ভয়ে পাহাড়ি এলাকায় চলে যান। সেখান থেকে তিনি দেখতে পান, তার শিক্ষক ভাইকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তার হাত পেছন থেকে বাঁধা। জীবিত অবস্থায় তার ভাইকে এটিই ছিল শেষ দেখা। এর পর তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনিও শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন।

হাশিম বলেন, সেনাসদস্যরা যখন তাকে ধরে নিয়ে যায়, তখন সে বারবার বলছিল- আমি শিক্ষক! আমি শিক্ষক! আমার পরিচয়পত্র রয়েছে। এভাবেই মিয়ানমারের সেনাসদস্যদের কাছে প্রাণভিক্ষা চাইলেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর থেকেই ভাইয়ের আর কোনো খবর জানেন না হাশিম।

হাশিম ছাড়াও রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে এমন অন্তত রয়েছে ডজনখানেক শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও বয়োজ্যেষ্ঠ। তারা বলেন, শিক্ষিত লোকদের নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তারা আরও বলেছেন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠরোধ করে দিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এ কাজ করেছে।



মন্তব্য