kalerkantho


রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো এখনো নিরাপদ নয়: অ্যামনেস্টি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৯:২৮



রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো এখনো নিরাপদ নয়: অ্যামনেস্টি

অ্যামনেস্টির দক্ষিণপূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসগারীয় অঞ্চল বিষয়ক পরিচালক জেমস গোমেজ বিবৃতিতে বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মনে এখনও ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের দগদগে ক্ষত থাকায় তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা উদ্বেগ সৃষ্টির মতো অপরিণত সময়ে নেওয়া পদক্ষেপ। মঙ্গলবার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে নাইপিদোতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে চুক্তি সই হওয়ার পর উদ্বেগ জানিয়ে এক বিবৃতিতে একথা বলেছে সংগঠনটি। মিয়ানমারে নীতির পরিবর্তন না হলে রোহিঙ্গাদের সেখানে ফেরত পাঠানো নিরাপদ হবে না বলে মনে করছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।


আরো পড়ুন: চুক্তি সই: প্রতিদিন তিন শ রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার


তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরা এবং সেখানে বসবাসের অধিকার রয়েছে। তবে বিদ্বেষপূর্ণ একটি ব্যবস্থায় লোকজনকে পাঠাতে তাড়াহুড়া করা যাবে না। জোরপূর্বক কাউকে ফেরত পাঠানো আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন হবে। অ্যামনেস্টি বলছে, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই ওই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরত যেতে পারবেন এমন কোনো নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়নি। এত দ্রুত রোহিঙ্গাদের ফেরা ভয়ানক ভবিষ্যতের মুখে তাদের ফেলতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। গত ২৫ অগাস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারে নিপীড়নের মুখে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা।


আরো পড়ুন:


সংস্থাটি আরও জানায়, বিদ্বেষপূর্ণ ব্যবস্থার অবসান এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জবাবদিহিসহ মিয়ানমারে মৌলিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সেখানে রোহিঙ্গাদের ফেরা নিরাপদ বা মর্যাদাপূর্ণ হতে পারে না। সেনাবাহিনীর ওই অভিযান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে শরণার্থীদের ফেরত নিতে সম্মত হয় মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরার পথ তৈরি করতে গত ২৩ নভেম্বর নেপিদোতে দুই দেশের মধ্যে একটি সম্মতিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। সেখানে বলা হয়, প্রথম দফায় শুধু এবার আসা শরণার্থীদেরই ফেরত নেবে মিয়ানমার।

 



মন্তব্য