kalerkantho


‘শেখ হাসিনা দাবাই অঁরারে বেশী উপকার গরের’

তোফায়েল আহমদ, উখিয়ার কুতুপালং থেকে   

৩০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২২:৪৪



‘শেখ হাসিনা দাবাই অঁরারে বেশী উপকার গরের’

ঔষধের নামও ‘শেখ হাসিনা দাবাই’ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে রোহিঙ্গা শিবিরে। সময় শনিবার দুপুর পৌনে দুইটা। কক্সবাজারের উখিয়ার টিভি টাওয়ার পাহাড়। এই পাহাড়েই রয়েছে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের রোহিঙ্গা মেডিকেল ক্যাম্প। মেডিকেল ক্যাম্পটির ১০০ দিন পূর্তি ছিল শনিবার। শনিবার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে গিয়ে এ প্রতিবেদক উপস্থিত হন ক্যাম্পটিতে।

এসময় এক বৃদ্ধ রোহিঙ্গা এসে বললেন-‘ডাকতর সাব আঁরে শেখ হাসিনা দাবাই দিয়ন। এডে শেখ হাসিনা দাবাই বেশী ভালা কাজগরে।’ অর্থাৎ ডাক্তার সাহেব, আমাকে শেখ হাসিনা ঔষধ দিবেন। এখানে শেখ হাসিনা ঔষধই বেশী কার্যকর।

প্রতিবেদক বৃদ্ধের কাছে এগিয়ে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন-‘ইয়ানত শেখ হাসিনা দাবাই দেয়।’ অর্থাৎ এই  মেডিকেল ক্যাম্পটিতেই তার ভাষায় ‘শেখ হাসিনা দাবাই’ দেওয়া হয়ে থাকে।

আবদুল সালাম, কবির আহমদ সহ আরো কয়েকজন রোহিঙ্গা জানালেন, ‘সত্যি শেখ হাসিনা দাবাই অঁরারে বেশী উপকার গরের।’ অর্থাৎ সত্যি শেখ হাসিনা ঔষধ আমাদের বেশী উপকারে এসেছে।

মেডিকেল ক্যাম্পে আসা রোহিঙ্গা লোকমান হাকিম (৮২) গত কোরবানি ঈদের ৩ দিন পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুর দক্ষিণে খিলাদং গ্রামের বাসিন্দা। স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে সহ অনেক নাতি-নাতনি সহ বিশাল সংসার বৃদ্ধ রোহিঙ্গা লোকমানের। এই বৃদ্ধ শনিবার দুপুরে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা এবং শরীর ব্যথা জনিত রোগ নিয়ে আসেন ছাত্রলীগের মেডিকেলের ক্যাম্পে।

রোহিঙ্গা লোকমান হাকিম ক্যাম্পের কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মী কক্সবাজার সরকারি মেডিকেলে কলেজের ছাত্র একরামুল্লাহ ও কামরুল হাসানের কাছে তার রোগের বিবরণ দেন। বৃদ্ধ রোহিঙ্গার রোগের বিবরণ শুনে অপর সহকর্মী রিদুয়ানুল হক শাহীন তাকে এগিয়ে দেন-কয়েক পাতার প্যারাসিটামল ও হিস্টাসিন ট্যাবলেট। সেই ‘শেখ হাসিনা দাবাই’ পেয়ে বৃদ্ধ লোকমান মহাখুশিতে রোহিঙ্গা শিবিরের বস্তির পথে হাঁটতে থাকেন।

রোহিঙ্গারা ঔষধকে ‘দাবাই’ বলে থাকে। মেডিকেল ক্যাম্পটির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা উখিয়ার ত্যাগী ছাত্রলীগ নেতা ইব্রাহিম আজাদ জানালেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কক্সবাজার জেলা শাখা বিগত তিন মাস দশ দিন ধরে ক্যাম্পটি পরিচালনা করে আসছে। রোহিঙ্গাদের কাছে এমুখ আর ওইমুখ করে প্রচার হয়ে পড়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলের অনুসারি ছাত্রলীগের কর্মীরাই ক্যাম্পটি পরিচালনা করছে।

কক্সবাজারের উখিয়া ছাত্রলীগের সভাপতি ছৈয়দ মোহাম্মদ নোমান এ প্রসঙ্গে জানান-‘রোহিঙ্গারা ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ কিছুই বুঝতে চায় না। যা বুঝে সবই শেখ হাসিনা। এ জন্যই ছাত্রলীগ পরিচালিত মেডিকেল ক্যাম্পটিই রোহিঙ্গাদের কাছে  ‘শেখ হাসিনা দাবাই’ হিসাবে পরিচিত।

মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনায় জড়িত ইন্টারন্যাশন্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মঈন উদ্দিন জানান-‘আমাদের মেডিকেল ক্যাম্প এবং ক্যাম্পের ঔষধ সবই রোহিঙ্গাদের নিকট পরিচিত ‘শেখ হাসিনা দাবাই’ হিসাবে।

কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমদ জয় জানান- ‘গত ২২ সেপ্টেম্বর আমরা রোহিঙ্গাদের জন্য মেডিকেল ক্যাম্পটি উদ্বোধন করি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন ক্যাম্পটি।’ তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ দলীয় নেতৃবৃন্দও মেডিকেল ক্যাম্পটিতে ঔষধ সরবরাহ করে আসছেন। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাই পালা করে প্রতিদিন চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। শুক্রবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও মেডিকেল ক্যাম্পটি পরিদর্শন করেন।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরো জানান, গত ১০০ দিনে ৩৪ হাজার ৭৮৫ জন রোহিঙ্গা চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। তার মধ্যে পুরুষ-৬ হাজার ৩৫৬ জন, নারী-১০ হাজার ৭৮৯ জন ও শিশু ১৭ হাজার ৬৪০ জন।

গতকাল ক্যাম্পের শত দিন উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীও সেখানে ভীড় জমান। এসময় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও উখিয়া আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রাসেল চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন মিঠু, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সদস্য ইসমাঈল সাজ্জাদ সহ আরো কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা জানান, প্রতিদিনই প্রচুর সংখ্যক রোহিঙ্গা এই মেডিকেল ক্যাম্পে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।


মন্তব্য