kalerkantho


রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের ৩ দফা প্রস্তাব

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ নভেম্বর, ২০১৭ ১৬:২২



রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের ৩ দফা প্রস্তাব

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট তিন কিয়াও

মিয়ানমারের রাখাইনে অস্ত্রবিরতি কার্যকর এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরিসহ তিন দফা প্রস্তাব দিয়েছে চীন।

সোমবার নেপিডোতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট তিন কিয়াও ও সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের নেতৃত্বের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের তিন ধাপের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন ওয়াং ই। চীনের প্রস্তাবগুলো হচ্ছে-

১. প্রথম পর্যায়ে রাখাইনে অস্ত্রবিরতি কার্যকর করতে হবে, যাতে শৃঙ্খলা আর স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয় এবং মানুষকে আর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে না হয়।   

২. অস্ত্রবিরতি কার্যকর হলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, যাতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি হয়।

৩. চূড়ান্ত ধাপে রোহিঙ্গা সঙ্কটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে মনোযোগ দিতে হবে, যেখানে দারিদ্র্য বিমোচনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। 

চীনের দেয়া তিন প্রস্তাব প্রসঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সব পক্ষের কঠোর শ্রমে বর্তমানে প্রথম স্তরের অনেকটাই অর্জিত হয়ে গেছে। মূল কথা হচ্ছে, সংঘাত যেন আর না বাড়ে, বিশেষ করে নতুন করে যেন যুদ্ধের দামামা না বাজে, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

রোহিঙ্গা সংকটের মূলে রাখাইনের দারিদ্র্য দায়ী উল্লেখ করে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাখাইনে সম্পদ আছে, কিন্তু যথেষ্ট উন্নয়ন হয়নি। তাই এই অঞ্চলকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে এবং উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে মিয়ানমারকে সহযোগিতার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই। এক্ষেত্রে সহযোগিতা ও ভূমিকা রাখতে চায় চীন।

এদিকে, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আজ এক বৈঠকে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয় দেশের বন্ধু হিসেবে চীন রাখাইন ইস্যুতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চায়।’

এর আগে গত রবিবার ঢাকা সফর শেষে নেপিডোতে পৌঁছে ওয়াং ই বলেন, ‘মিয়ানমার ও বাংলাদেশ- দুই দেশকেই চীন বন্ধু রাষ্ট্র বলে মনে করে। বেইজিং বিশ্বাস করে, দুই দেশ মিলে পরস্পরের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানের পথ ঠিকই বের করতে পারবে।‘

উল্লেখ্য, রাখাইনে সেনা অভিযান ও নিপীড়নের মুখে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে ৬ লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এই সেনা অভিযানকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে আজ আসেম সম্মেলনে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সরাসরি রোহিঙ্গাদের কথা উল্লেখ না করে দাবি করেছেন, ‘অবৈধ অভিবাসীরাই সন্ত্রাসবাদ ছড়াচ্ছে এবং সে কারণে  বিশ্ব অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতের মধ্যে রয়েছে।’

সু চি অব্যাহতভাবে অবৈধ অভিবাসনকে সন্ত্রাস, উগ্রপন্থা, সহিংসতা ও সামাজিক অনাচার এমনকি পরমাণু যুদ্ধের হুমকির কারণ বলেও মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চলতি সপ্তাহে সমঝোতা : সু চি



মন্তব্য