kalerkantho


রাহিঙ্গাদের গণধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন

তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও তদন্তে দু’জন বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০৩:২৭



তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও তদন্তে দু’জন বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণধর্ষণসহ যৌন নির্যাতনের খবরে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে এসব নির্যাতনের ঘটনা জানা, তদন্ত ও তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের জন্য যুক্তরাজ্য শীগগীরই এ দেশে দু’জন বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে।

সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা প্রতিরোধবিষয়ক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধি এবং ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী লর্ড আহমেদ গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।  

লর্ড আহমেদ বলেন, বার্মায় (মিয়ানমারে) রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরূদ্ধে গণধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ভয়ঙ্কর তথ্যগুলো অত্যন্ত বিরক্তিকর। ধর্ষণ, দলগত ধর্ষণ, আক্রমণাত্নক শারীরিক তল্লাশি ও খুনের মতো ঘটনার তথ্যগুলো প্রমাণ করে যে দায়ীদের বিচার ঠেকাতেই তাদের (অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের) ধারাবাহিকভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। এসব নিপীড়ন মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লংঘন এবং অনতিবিলম্বে এগুলো বন্ধ হতে হবে।

লর্ড আহমেদ বলেন, যৌন সহিংসতায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, বর্তমানে তাদের সহায়তা দেওয়া কর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে জাতিসংঘের পাশাপাশি ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দফতরের ‘সংঘাতে যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ’ দলের প্রধান এ অঞ্চল সফর করেন। ঘৃণ্য এসব অপরাধের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ, তদন্তসহ যৌন সহিংসতার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের আরো সহায়তা দিতে যুক্তরাজ্য শীগগীরই দু’জন বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে।  

তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার লংঘন ও নাজুক মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈশ্বিক উদ্যোড় নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একতাবদ্ধ হয়েছে। ’ রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতার কথাও তিনি তুলে ধরেন।  

উল্লেখ্য, যৌন সহিংসতাবিষক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত প্রমিলা প্যাটেন গত রবিবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর (তাতমাদো) বিরূদ্ধে দলগত ধর্ষণ, যৌন দাসত্ব, অপমান, প্রকাশ্যে নগ্ন করে রাখাসহ ধারাবাহিকভাবে যৌন সহিংসতার ভয়ঙ্কর সব অভিযোগ পেয়েছেন।

তিনি এ বিষয়টি জাতিসংঘ মহাসচিব, নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিরূদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগের বিচার হতেই হবে।

জানা গেছে, প্রমিলা প্যাটেনের সঙ্গে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দফতরের ‘সংঘাতে যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ’ দলের প্রধানও কক্সবাজার সফর করে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দফতর বাংলাদেশে দু’জন বেসামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠাকে ‘স্ট্যাবিলাইজেশান ইউনিটের’ সঙ্গে কাজ করছে। তারা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা ও ফৌজদারি আইনে অভিজ্ঞ। তাঁরা রোহিঙ্গাদের ওপর যৌন সহিংসতার তথ্যগুলোর ব্যাপারে খোঁজ নেবেন এবং তদন্ত ও লিপিবদ্ধ করবেন।


মন্তব্য