kalerkantho


রোহিঙ্গা ইস্যুতে কক্সবাজারে জরুরি সভা

রোহিঙ্গাদের আনার কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৯ নভেম্বর, ২০১৭ ২২:৫১



রোহিঙ্গাদের আনার কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নাফনদ পাড়ি দিয়ে রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের পরিবহণের কাজে বাংলাদেশের আর কোন নৌযান ব্যবহার করা যাবে না। অর্থনৈতিক লাভ, রাজনৈতিক উস্কানি এবং সীমান্তে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে যদি রোহিঙ্গাদের এপাড়ে আনার কাজে জড়িতদের সনাক্ত করা যায় তাতে কারও ক্ষমা করা যাবেনা।

সেই সাথে রোহিঙ্গা পরিবহণে জড়িত নৌযানের মালিক, রোহিঙ্গা পাচারকারী এবং একাজে সম্পৃক্ত আরো অন্যান্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজ বৃহষ্পতিবার রাতে কক্সবাজারের সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় প্রশাসনের পক্ষে এরকম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তসহ রোহিঙ্গা শিবিরে মহল বিশেষের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্ঠির চেষ্টা প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে আজ এ জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, রাজনীতিবিদ, সীমান্ত এলাকার জনপ্রতিনিধি ও নৌযান মালিক সমিতির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় রোহিঙ্গা শিবির এবং সীমান্তের জিরো লাইনে এনজিও ছদ্মাবরণে মহল বিশেষের নানা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টার কথাও তুলে ধরা হয়। এমনকি সীমান্তের একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সভায় উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করে জানান, বাংলাদেশের নৌযান নিয়ে নাফনদ পাড়ি দিয়ে কাড়ি কাড়ি বিদেশি অর্থায়নে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসা হচ্ছে।

একাজে সীমান্তের কিছু লোক জড়িত থাকার কথা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, কেবল অর্থনৈতিক লাভবান হবার জন্যই বেশ কিছুদিন ধরেই রাখাইন থেকে পরিকল্পিতভাবে নিয়ে আসা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের।

সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, মিয়ানমার পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এক প্রকার শান্ত রয়েছে। এরকম শান্ত পরিস্থিতি থাকা সত্বেও সীমান্ত গলিয়ে অব্যাহতভাবে এভাবে একটি ভিনদেশি নাগরিকদের অবৈধ অনুপ্রবেশ কোন ভাবেই কাম্য হতে পারেনা।

কেননা বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ এবং সম্পদও সীমিত।

বক্তারা বলেন, গত ২৫ আগস্টের পর রাখাইনে সেনা নির্যাতনে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের ইতিমধ্যে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। আমাদের সরকার যথাযথভাবে এসব নির্যাতিতদের সহানুভূতির সাথে তাদের দেখভাল করে যাচ্ছে। তাই এরকম অবস্থায় কোন ভাবেই দিনের পর দিন সীমান্তের অনুপ্রবেশকারীদের স্থান দেওয়া সম্ভব নয়।

সভায় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে লাখ লাখ রোহিঙ্গা যারা আশ্রয় নিয়েছে তাদের বিষয়ে আমাদের সরকার য়াই করার আছে তার সবই করছে। কিন্তু কোনভাবেই যাতে আমাদের কোন ব্যক্তি ওপারে গিয়ে সে দেশের নাগরিকদের এপারে আনতে না পারে সেজন্য সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

জেলা প্রশাসক রোহিঙ্গা শিবিরের অভ্যন্তরে বিরাজিত পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, সম্প্রতি রাতের অভিযানে পুলিশের হাতে আটক হওয়া একজন মৌলভী দাবি করেন তিনি তাবলীগ জামাতের লোক। জেলা প্রশাসক বলেন, অথচ তাবলীগ জামাতে একজনের স্থান নেই।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন বলেছেন, ‘সীমান্ত দিয়ে কোন রোহিঙ্গা আনার কাজে যদি স্থানীয়দের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ’

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, সীমান্তের রোহিঙ্গা ইস্যু ও রোহিঙ্গা শিবির এলাকাকে এখন অঢেল টাকার বাণিজ্য ও রাজনৈতিক মঞ্চ হিসাবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু মাত্র অল্প কয়দিনের মধ্যেই এলাকার মানুষের মাঝে নানা সন্দেহ ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে দিয়েছে। এ অবস্থা থেকে আমাদের পরিত্রাণ পেতে হবে। সভায় বিজিবি, কোস্টগার্ড কর্মকর্তারাও বক্তব্য প্রদান করেন।  


মন্তব্য