kalerkantho


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিলম্বের জন্য বাংলাদেশকেই দায়ী করল মিয়ানমার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ নভেম্বর, ২০১৭ ১৪:০০



রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিলম্বের জন্য বাংলাদেশকেই দায়ী করল মিয়ানমার

ছবি অনলাইন

মিয়ানমার সরকার দাবি করেছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিলম্বের জন্য বাংলাদেশই দায়ী। তাদের দাবি, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য 'মাল্টি মিলিয়ন ডলার' আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়ার আশায় এ দেরি করছে।

সম্প্রতি মিয়ানমার সেনাদের নির্মম অত্যাচার ও ধর্মীয় বিবাদের কারণে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে।

মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির মুখপাত্র জাউ হাতায়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে বিলম্বের জন্য বাংলাদেশকে দায়ী করেন। গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এ দাবি করেন।

সু চির মুখপাত্র হাতায়ে বলেন, মিয়ানমার যেকোনো সময় শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত। এ জন্য ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সমঝোতাকে ভিত্তি ধরতে হবে। তবে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে সে ধারাগুলো এখন মেনে নিতে হবে।

হাতায়ে বলেন, 'আমরা শুরু করতে রাজি। কিন্তু বাংলাদেশ পক্ষ এখনো তা গ্রহণ করেনি। এতে প্রক্রিয়াটি দেরি হয়ে যাচ্ছে।

এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। '

গত সপ্তাহে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নেতৃত্বে একটি দল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনার জন্য মিয়ানমার সফর করে। তাদের সফরে নেপিদোতে উভয় পক্ষের মাঝে সীমান্তরক্ষা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়। তবে সেখানে পুরনো সমঝোতা বিষয়ে নতুন করে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এ বিলম্বের পেছনে কারণ হিসেবে বাংলাদেশ পক্ষকেই দায়ী করল মিয়ানমার সরকার। হাতায়ে বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিশাল শরণার্থী ক্যাম্প বানানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সহায়তা নিচ্ছে।

হাতায়ে বলেন, 'বর্তমানে বাংলাদেশ ৪০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা পেয়েছে। আমরা ভয় পাচ্ছি, এ অর্থ পাওয়ার পর তারা হয়তো রোহিঙ্গাদের ফেরত দেওয়ার এ প্রক্রিয়ায় আরো বিলম্ব করবে। '

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের যে ও জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরির কথা ছিল তা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ৩০ নভেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে এটি তৈরি করা হতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার অবশ্য বাংলাদেশ সরকার একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে আলোচনায় যে ১০টি বিষয় নিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের আলোচনা করা হয়েছিল সেগুলোতে মিয়ানমার একমত হয়নি। ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনেও অগ্রগতি হয়নি।
সূত্র : রয়টার্স


মন্তব্য