kalerkantho


রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মানবাধিকার কমিশনের সাত দফা সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১১ অক্টোবর, ২০১৭ ০৫:১০



রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মানবাধিকার কমিশনের সাত দফা সুপারিশ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সাত দফা সুপারিশ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে, মিয়ানমারে গণহত্যা ও নির্যাতন বন্ধ, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বাফার জোন তৈরি, জাতিসংঘের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে দ্বি-পক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশে বসবাসরত ১০ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রদান, কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন ও রোহিঙ্গাদের নাগরিত্ব দেওয়া, প্রয়োজনে নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক মিয়ানমারের ওপর অবরোধ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার।

 

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মধ্যদিয়ে এ সুপারিশগুলো তুলে ধরা হয়। সুপারিশগুলো তুলে ধরেন কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। এ সময় কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মো. নজরুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  

সংবাদ সম্মেলনে কাজী রিয়াজুল হক বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের জন্য পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা বিরল। বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সব দেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারকে চাপ দিতে হবে।  

তিনি বলেন, মিয়ানমার বাংলাদেশকে যুদ্ধের মধ্যে ঠেলে দিতে চায়। তাই তারা আকাশসীমা লংঘন করেছে। বাংলাদেশ ধৈর্য ধরেছে।

কারণ বাংলাদেশ শান্তি চায়। মিয়ানমার সারা বিশ্বের কাছে ঝুঁকি।  

তিনি বলেন, সবাইকে মানবতা বুঝতে হবে। কারণ মানবতা সকলের জন্য। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিচ্ছে, তাদের মৌলিক অধিকার বঞ্চিত করছে। এ কারণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে মিয়ানমারকে।   

রিয়াজুল হক বলেন, জাতিসংঘকে গণতান্ত্রিক হতে হবে। রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রাষ্ট্রের, কিন্তু মানবাধিকার সার্বজনীন। জাতিসংঘে গণতন্পের চর্চা থাকতে হবে। তিনি বলেন, চীনের মানবাধিকার কমিশনের কাছে আমরা সেপ্টেম্বরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন থেকে চিঠি দিয়েছিলাম। তারা চিঠির জবাবে রোহিঙ্গা নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য ও মিয়ানমার সরকারের বক্তব্য ভিন্ন।


মন্তব্য