kalerkantho


রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চি : আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে ভয় নেই

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৩:৩৮



রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চি : আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে ভয় নেই

অবশেষে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা নিধন ইস্যুতে নীরবতা ভাঙলেন অং সান সু চি। বললেন, এই বিষয়ে 'আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে ভীত নয় মিয়ানমার'।

তিনি আরো বলেন, 'আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এসে তদন্ত করে দেখুক আসলেই কী ঘটেছে। আর আমাদের সরকারও রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। '

মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে দেশটির জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ শুরু হওয়ার পর থেকে মঙ্গলবারই প্রথম তিনি গণভাষণ দিলেন।

তিনি বলেন, 'আমি এ ব্যাপারে সজাগ আছি যে রাখাইন পরিস্থিতির ওপর বিশ্বের নজর আছে। আর মিয়ানমারও বিশ্বের জাতিসমুহের একটি সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকে ভয় পায় না। '

'আর বিষয়টি নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। আসল সমস্যাটি কোথায় সেটি আমরাও খুঁজে বের করতে চাই। এই ইস্যুতে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ আছে।

সেগুলোর সবই আমাদেরকে শুনতে হবে। কিন্তু কোনো অভিযোগের প্রেক্ষিতে পদক্ষেপ গ্রহণের আগে সে অভিযোগটির স্বপক্ষে বাস্তব কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ আছে কিনা তাও নিশ্চত হয়ে নিতে হবে। '

অং সান সু চি দাবি করেন, রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগ গ্রাম গত ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় আক্রান্ত হয়নি। তবে তিনি দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেও কোনো সমালোচনা করেননি। অথচ দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের গ্রামে আগুন দেওয়া এবং নির্বিচারে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

সু চি বলেন, সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাস দমন অভিযানের সময় সাধারণ জনগণের ক্ষতি হয় এমন কাজ এড়িয়ে চলতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সু চির এই মন্তব্য বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের বিবরণের সঙ্গে মেলে না। যারা বলছে, সেনাবাহিনী তাদের বেসামরিক লোকদের ওপর বর্বর হামলা চালিয়েছে। আর স্যাটেলাইট চিত্র থেকেও দেখা গেছে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে সেনারা। ৪৭১টি গ্রামের মধ্যে ১৭৬টি গ্রাম ইতিমধ্যেই পুরোপুরি জনমাবশুন্য হয়ে গেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসেব মতে ৬২টি গ্রাম আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর ৩৫টি গ্রামে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

২০০০ এর দশকে সুদানের দারফুর এবং ১৯৯০র দশকে বসনিয়ার কসোভোতে চালানো নিধযজ্ঞের চেয়েও ভয়াবহ বলা হচ্ছে রাখাইনের নিধনযজ্ঞকে।

২৫ আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর এর আগেও একবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সু চিকে ফোন করলে সু চি বলেন, ইসলামী সন্ত্রাসীরা রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে ভুয়ো তথ্য ছড়াচ্ছে। মঙ্গলবারও সু চি তার দেশের সেনাবাহিনীর বর্বরতার কথা অস্বীকার করলেন।

মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ৩০ মিনিটির ভাষণে সু চি আরো বলেন, আমরাও রাখাইনের সহিংসতায় সাধারণ জনগণের দুর্ভোগের ব্যাপারে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

'রোহিঙ্গা মুসলিমরা বাংলাদেশে পালিয়ে যাচ্ছে তা শুনে আমরাও উদ্বিগ্ন। তারা কেন পালিয়ে যাচ্ছে তার কারণ আমরাও খুঁজে বের করতে চাই। '

সু চি আরো বলেন, তার দেশ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদেরকে যেকোনো সময় একটি 'ভেরিফিকেশন' বা 'যাচাই' প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত আছে। তবে তিনি এটা বলেননি কত সংখ্যক রোহিঙ্গা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন। কারণ বেশির ভাগ রোহিঙ্গাকেই মিয়ানমার তার নাগরিক বলেই মনে করে না।

ওই ভাষণে সু চি শুধু একবার রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেন। তাও আবার রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন 'আরাকান স্যালভেশন আর্মি'র কথা বলার সময়। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের ইসলামবিদ্বেষী সন্ন্যাসীরা সহ দেশটির বেশির ভাগ বৌদ্ধই মনে করেন রোহিঙ্গারা অবৈধ বাঙালি অভিবাসী যারা বাংলদেশ থেকে তাদের দেশে গিয়ে বসতি গেড়েছে।

প্রসঙ্গত, ৭২ বছরের এই নোবেল বিজয়ী গণতান্ত্রিক নেতা রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা না বলায় তার মতো নোবেলজয়ীদের কাছ থেকেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী তার সমর্থকদের অনেকেও তারা বিরুদ্ধে সমালোচনা করছেন। যারা একটা সময়ে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে তার গণতান্ত্রিক লড়াই-সংগ্রামকে বেশ সম্মানের চোখে দেখতেন।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান


মন্তব্য