kalerkantho

Reporterer Diary

শেষ আক্রমণটা হয় যেন সম্মুখ থেকে...

রাফে সাদনান আদেল   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৬:০৫



শেষ আক্রমণটা হয় যেন সম্মুখ থেকে...

প্রতীকি চিত্র

বিশ্বাস করেন আর না করেন- আপনার বিবেচনা, এই দেশে সাংবাদিকরা ভয়ানক নিগৃহীত, নিপীড়িত, বঞ্চিত। দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে কিন্তু নিজের অধিকারের প্রশ্নে বোবা হয়ে থাকতে হয় তাদের। আর্থিকভাবে কি যে নাজুক অবস্থায় আছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান! অনেক কষ্ট হয়! অনেক!

ভাবুন তো একবার, ছয়মাস-তিনমাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না! আরো ভাবুন তো, ঈদের আগে বোনাস নেই! যে কোনো এক ঈদের হাতে গোনা ছুটি। সাপ্তাহিক একদিনের ছুটিও সবসময় মেলে না। কী বলবেন তো, এই তো সাংবাদিকতা! জেনে বুঝেই তো এসেছেন, তাইলে কান্দেন ক্যান! নো দিস ইজ নট জার্নালিজম! দিস ইজ নট দ্য ব্ল্যাডি জার্নালিজম ... লুক অ্যাট আউটসাইড...

দিন শেষে যদি শুধু চাকরিই হবে, বেতনটা দেন ঠিকমতো! ব্যবসাই যখন করবেন ঠিক মতো করেন। আর না করতে পারলে ছেড়ে দেন গণমাধ্যম ব্যবসা। সাংবাদিকতা যখন নয়টা পাঁচটা চাকরি নয়, গণমাধ্যম ব্যবসাও ছেলের হাতের মোয়া নয়।

আমরা পারি না, পারি না কিছু স্বজাতি বিশ্বাসঘাতকের জন্য... মুখোশ পড়া গুটি কয়েকের কাছে আমরা বারবার প্রতারিত হই। সুতরাং বলতে শুরু করতে হবে। বলতে থাকবো, বেয়াদবি করলেই ভরা মজলিসে একদম ন্যাংটা করে দিব। কী আর করবেন? বড়জোর কোনো একদিন আমিই হবো খবর! সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অমুক! এসব আমাদের জানা হয়ে গ্যাছে! অতএব সিদ্ধান্ত নিলাম আর চুপ থাকবো না।

বুকে সাহস থাকলে, কমেন্ট করেন, আমি মিথ্যা! আর সাহসের পারদে ঘাটতি থাকলে শুরু হোক কূটচাল। আমি আমার হত্যার জন্য প্রস্তুত। শুধু একটা অনুরোধ, দুর্ঘটনার নাটক হলেও শেষ আক্রমণটা হয় যেন সম্মুখ থেকে।

একই সক্ষমতায় অন্য পেশাজীবীরা নিশ্চিন্তে বাঁচে আর আমার ভাইয়েরা প্রতিদিন মরে একটু একটু করে। এরচেয়ে প্রতিবাদ করেই অপঘাতে মৃত্যু ঢের সম্মানের...

উল্লেখ্য, সামনে কোনো সাংবাদিক সংগঠনের নির্বাচন নেই। আর আমি এক দশকেরও বেশি সময় কাজ করেও কোনো সংগঠনের সদস্য নই আর বর্তমানে প্রত্যক্ষ সাংবাদিকতা থেকেও দূরে আছি...

 (রাফে সাদনান আদেলের ফেসবুক পেজ থেকে)



মন্তব্য