kalerkantho

Reporterer Diary

মনে হতো, ওই অচেনা রাস্তায় সব রহস্যময় মানুষের বাস

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ মে, ২০১৮ ১৬:২২



মনে হতো, ওই অচেনা রাস্তায় সব রহস্যময় মানুষের বাস

প্রতীকী ছবি

-আচ্ছা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে কিভাবে যাব?
-প্রেস ক্লাব তো চেনো? ওখান থেকে খুব কাছে।
-ও। তা প্রেস ক্লাবটা কোথায়?
-তাও চেনো না?। পল্টন তো নিশ্চয়ই চেনো?
-নাম শুনেছি। শ্যামলী থেকে কিভাবে যেতে হয়? রিকশায় যাওয়া যাবে?
-না, রিকশায় পোষাবে না। আট নম্বর বাসে উঠতে পারবে?
-আট নম্বর বাস কোনগুলো?
-মুশকিল। তুমি তো কিছু্ই চেনো না। তোমারে চাকরি দিল কে?

প্রথম প্রশ্নকর্তা আদি ও অকৃত্রিম আমি। উত্তরদাতা কখনও মেসের সদস্য, কখনও পরিচিত বড় ভাই। সংবাদপত্রে 'চাকরি' পেয়ে ঢাকায় এসেছি। একেকদিন একেক জায়গায় অ্যাসাইনমেন্ট পড়ে। সেগুলো খুব পরিচিত জায়গা, তাই সহজেই খুঁজে পাব ভেবে নেন চিফ রিপোর্টার। আর বাস্তবে আমার অবস্থা ছিল ওপরের কথোপকথনের মতো। শ্যামলী থেকে বাসে মতিঝিল যেতে প্রতিটা ইন্টারসেকশন আমাকে কৌতূহলী করতো। বাসের জানালা দিয়ে দেখার চেষ্টা করতাম রাস্তাটা কোথায় গেছে। আর অদ্ভুত একটা অনুভূতি হত। মনে হতো ওই অচেনা রাস্তায় সব রহস্যময় মানুষের বাস। দুনিয়ার যত আজগুবি বিষয় ওইসব জায়গায় ঘটে। কেমন রোমাঞ্চকর মনে হত সব। অথচ এখন পুরো ঢাকা শহরটাকেই চেনা চেনা লাগে। কোথাও রোমাঞ্চের ছিঁটেফোটা নেই।

আসলে সময় এক প্রবহমান নদী। এই তো সেদিন শুরু, অন্তত আমার তাই মনে হয়। যদিও সময়ের হিসাব বলছে, পূর্ণ হলো ১২ বছর। ২০০৬ সালের এই দিনে ভীরু পা রেখেছিলাম এই কংক্রিটের জঙ্গলে। তারপর সংবাদপত্রে নিরবচ্ছিন্ন কেটে গেল এতটা সময়। অপ্রাপ্তির তালিকা দীর্ঘ সন্দেহ নেই। সুনীলের মতো করে বললে ‌'দেখা হয়নি কিছুই/সেই রয়্যালগুলি, সেই লাঠি-লজেন্স, সেই রাস-উৎসব/আমায় কেউ ফিরিয়ে দেবেনা!' তবে এটা তো ঠিক, সময় আর কিছু না দিলেও 'অভিজ্ঞতা' দিতে ভুল করে না। সেটাই সান্তনা। জয় হোক।

-ইন্দ্রজিৎ সরকার



মন্তব্য