kalerkantho


শীতার্তের পাশে : শখের বসে সুখের ছোঁয়া

মিজানুর রহমান   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ২০:১৩



শীতার্তের পাশে : শখের বসে সুখের ছোঁয়া

১৯৯৫-১৯৯৭ সাল সময়টা ২০ বছর আগের হলেও বারবার মনে পড়ে। কারণ এই সময়টাতেই যে ওরা SSC ও HSC পাশ করেছে। এই সময়ের কিছু মানুষ মনের তাগিদে বন্ধুদের খুঁজে আড্ডার ছলে গড়ে তোলে Facebook Group-১৯৯৫-১৯৯৭। এই গ্রুপে অল্প সময়েই সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ হাজারের অধিক। সবাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সকলের কাছে আসতে থাকে, নানা ধরনের পরিকল্পনা, বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা, খাওয়া দাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

ষড়ঋতুর দেশ আমাদের, প্রকৃতির অনিবার্য্যতায় আসে শীতকাল। স্কুল কলেজে বার্ষিক ছুটি। ইতোমধ্যেই বিত্তবান মানুষেরা বিদেশে অথবা দেশের নামিদামি রিসোর্টে চলে যাওয়া শুরু করেছেন পরিবার পরিজনদের নিয়ে আর দেশের পিছিয়ে থাকা অর্থনৈতিক অঞ্চলের অতি সাধারণ মানুষজন ভয়ার্ত সময় কাটাচ্ছেন শীতের আগমনিবার্তায়। 

সেই সময়ে সখের বসে গড়ে উঠা Facebook Group-১৯৯৫-১৯৯৭ এর কয়েকজন সদস্য তাদের মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে শীতার্থদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে কম্বল অথবা শীতবস্ত্র সংগ্রহের ঘোষনা দেন নিজেদের মধ্যে। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে কম্বল, শীতবস্ত্র পাঠায় ও প্রবাসী বন্ধুদের পাঠানো নগদ অর্থ দিয়ে বাজার থেকে কেনা হয় কম্বল ও শিশুদের জন্য নতুন পোষাক যার সংখ্যায় দাড়ায় ৪ হাজারের অধিক কম্বল ও দুই হাজারের কাছাকাছি শিশুবস্ত্র।

এই কাজে যাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ না করলেই নয়। তারা হলেন Facebook Group-১৯৯৫-১৯৯৭ বন্ধু জামান এমবিএম, মহসিন, ফারজানা মালিক নিম্মী, আব্দুর বাসির, হোসনা ফেরদৌস সুমী, হাজী চান্দু মিয়া, ইকবাল হাসান চৌধুরী, মইনুল হোসেন তপু, সরদার ফারুক ফয়সাল, তানিম, মাসুম হোসেন চৌধুরী, রেজোয়ানুল আলম, নাজমুল হক, ফয়সাল চৌধুরী, ওয়াসিম আহামেদসহ নাম উল্লেখ না হওয়া এমন অসংখ্য বন্ধু।

ডিসেম্বর’১৮ এর মধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ইংরেজি নববর্ষের আনুষ্ঠানিকতার  বিবেচনায় ২০১৯ এর জানুয়ারি প্রথম দিকেই শীতার্থদের মাঝে কম্বল ও শীতবস্ত্র পৌঁছে দেয়ার তাগিদ থেকে ঐ সকল এলাকায় পূর্ব থেকেই তুলনামূলকভাবে সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়। চট্টগ্রাম থেকে আগত ও ঢাকার বন্ধুরা মিলে নিজ খরচে চলে যান নীলফামারীর ডিমলা, রংপুরের ভূরুঙ্গাঁমারী, মিঠাপুকুর সাঁওতালপল্লী, জুম্মাপাড়া, গঙ্গাছড়াসহ কুড়িগ্রামের বেশ কিছু জায়গায়। পূর্বের তৈরী করা তালিকানুযায়ী এ সকল স্থানে কম্বল ও বস্ত্র বিতরণ করা হয় ১১-১২ জানুয়ারিতে। অর্থের বিবেচনায় হয়তো খুব বড় কিছু নয় কিন্তু প্রাপ্তির তৃপ্তিতে তারা ছিলেন সন্তুষ্টির শীর্ষে। এই সকল সাধারণ মানুষের অসাধারণ হাসোজ্জ্বল মুখ ভরিয়ে দেয় বন্ধুদের হৃদয়।

মানুষের পাশে যেতে পারার তৃপ্তিতে সুখী হয়ে উঠে সবাই অনুভব করে মানুষের সুখ। শখের বসে গড়ে তোলা Facebook Group-১৯৯৫-১৯৯৭ এর কারণে তারা কয়েক হাজার মানুষের মাঝে ক্ষণিকের জন্য হলেও দেখতে পায় সুখ ও আনন্দ।

মানুষকে সুখী করার মাধ্যমে নিজেরাও সুখী হয়ে উঠার কাজে আরও বেশি উদ্যোগী হোক সকল বন্ধুরা। এই মহতী উদ্যোগের জন্য ভালোবাসা অফুরান। জয়তু Facebook Group-১৯৯৫-১৯৯৭।

 

(পাঠকের কথা বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট লেখক বা মন্তব্যকারীর, কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনোভাবেই দায়ী নন।)



মন্তব্য