kalerkantho


একজন নাজমুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ

ওমর শরীফ পল্লব   

৪ অক্টোবর, ২০১৮ ১৪:২৪



একজন নাজমুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ

নাজমুলকে সহায়তা প্রদান করেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভির আরাফাত। তিনি বলেন, অর্থাভাবে তিনিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি।

সম্প্রতি দিনমজুর নাজমুলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভির আরাফাত। পাশাপাশি পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য।

নাজমুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তার হাতে ভর্তির টাকা ছিল না। তাই তাকে অর্থসহায়তা করেছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার। তবে একজন নাজমুল ভর্তি হলেই সমস্যা সমাধান হলো না। দেশে এমন অসংখ্য নাজমুল রয়েছেন যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার মতো মেধা থাকার পরেও ভর্তির টাকা থাকে না।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ আরো বাড়ানোর পক্ষে অনেকের অবস্থান দেখা যায়। তাদের দাবি এই সামান্য টাকা সবাই জোগাড় করতে পারে। যদিও বিষয়টি মোটেই সহজ নয়। অল্প কয়েক হাজার টাকাও জোগাড় করা কঠিন অনেকের পক্ষে।

নাজমুলকে সহায়তা প্রদানকারী কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভির আরাফাত নিজেও এ ধরনের ঘটনার ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, ‘আমিও অর্থাভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারিনি। তাই অর্থাভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী ঢাবিতে ভর্তি হতে পারবে না, এটি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার খরচ বাড়িয়ে ক্রমে তা জনগণের নাগালের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা খুবই বিপজ্জনক। কারণ এতে শুধু ধনীদের সন্তানরাই উচ্চশিক্ষা লাভ করবে এমন বিষয় প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশে এমনিতেই প্রচুর বৈষম্য, এতে এমন বৈষম্য আরো বাড়বে।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনা করে অনেকেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ বাড়ানোর পক্ষে বক্তব্য দেন। যাদের মূল বক্তব্য, সেখানে এত টাকা দিয়ে পড়তে পারলে এখানে কেন পারবে না! যদিও এ বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত যে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের টাকায় পরিচালিত হয়। অন্যদিকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় মোটেই তা নয়।

বিদেশের সঙ্গে তুলনা করে অনেকেই দেশের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধির জন্য চাপ দেন। যদিও বিদেশের বিষয়টি হলো, শিক্ষা ব্যয়ের অধিকাংশই (ক্ষেত্রবিশেষে পুরোটাই) ঋণ, বৃত্তি ও বিভিন্ন ফান্ড থেকে নির্বাহ করা যায়। এছাড়া উচ্চ মজুরি থাকায় শিক্ষার্থীরাও সপ্তাহান্তে কাজ করে শিক্ষা ব্যয় নির্বাহ করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে সপ্তাহান্তে কাজ করে শিক্ষা ব্যয় নির্বাহ করা দুরূহ। এদিকে একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে শিক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঋণ পাওয়াও অসম্ভব। ফলে অন্তত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার ব্যয় কমানো ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই নাজমুলের মতো সাধারণ ছাত্রদের সামনে।

(পাঠকের কথা বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট লেখক বা মন্তব্যকারীর, কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনোভাবেই দায়ী নয়)



মন্তব্য